চট্টগ্রামে ‘গরিবের ডাক্তার’ আর নেই

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২১

চট্টগ্রামে ‘গরিবের ডাক্তার’ আর নেই

প্রিন্স গোমেজ

চট্টগ্রামের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মোস্তফা কামাল। ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন সর্বত্র। মানুষের সেবা করতে গিয়ে এই করোনা কালেই মারা গেলেন তিনি ।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড (বিএসবি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত জুনের শেষ দিকে তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঢাকার বিএসবি হাসপাতালের আইসিইউতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ডা. সৈয়দ মোস্তফা কামাল চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী গ্রামের প্রয়াত স্কুল শিক্ষক আবু তাহেরের মেজ ছেলে।

সেন্ট স্কলাস্টিকাস স্কুলের শিক্ষক মারগারেট বেবী সাহা বলেন , ডাক্তার মোস্তফা কামালের মতো মানুষ হয় না। তিনি শিক্ষকদের খুব সম্মান করতেন। ভিজিট নিতে চাইতেন না। তাঁর মৃত্যুতে আমরা আপনজন হারানোর বেদনা অনুভব করছি ।

৭০ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ছিলেন সত্যিকারের এক কিংবদন্তী। চট্টগ্রামের দোহাজারি-জামিজুরির মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। চিকিৎসা পেশার শুরু থেকে নিজ গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। প্রায় প্রতি শুক্রবার যেতেন গ্রামে। রোগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন তার জন্য।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন ডা.মোস্তফা কামাল। কাজ করেছেন ঢাকার পিজি হাসপাতালেও। সরকারি হাসপাতালের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি যোগ দেন বেসরকারি ইউএসটিসি হাসপাতালে।

গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ডা. মোস্তফা কামাল নিজেকে নিয়োজিত করেন সেবাদানে। নতুন রোগ, ঢাকার বিশেষজ্ঞ ও বন্ধু চিকিৎসক-গবেষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে রোগীর সঠিক চিকিৎসাসেবা দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। অনলাইনে চিকিৎসাসেবায় সহযোগী হিসেবে নিয়েছেন নিজের ছেলে সদ্য পাশ করা ডাক্তার এসএম তাজওয়ার তাহির আলিফকেও। তার মোট ৪ সন্তান ।  এক ছেলে ও এক মেয়ে  চিকিৎসক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে পৃথিবীর ওপারে চলে গেলেন এই ‘গরিবের ডাক্তার’।

ছড়িয়ে দিন