চরাচর

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

চরাচর

রুমকি আনোয়ার
সংসারের ছেড়া পাতায় হঠাৎ ই খুঁজে পেলাম তোমার ছবি
মনে কি পড়ে আমরা দুজনে একদিন নদী, কাশফুল ছুঁয়ে ছিলাম ,
বাবলা গাছের তলে ,পার্কে সঙ্গীতে বুনে গেছি স্বপ্নের নক্সিগাঁথা
অন্তরে বাহিরে , রাত্রির ছায়াতে দোদুল্যমানতা কেবল আঁচর কেটে যায় ।
রাত্রির প্রগাঢ় আলিঙ্গনে ব্যবহৃত চাদর , তেল চিটচিটে হয়ে আছে
এখনও রজনী ,দ্বিজেন্দ্রর গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি
প্রীতিলতা , ক্ষুদিরাম আজও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে উত্তরীয় পড়িয়ে যায়
তারপরও কেন জানি অযাচিত অনাচারটুকু সন্তর্পণে এড়িয়ে চলি ।
ঘাসের ডগায় যখন রোদের উত্তাপ ছোঁয় রাতের শিশির
আমি ঝরা শিউলি কুড়িয়ে মালা গেঁথে চলি চিতাভস্মের স্মরণে
তোমার অন্তর্ধান আমার হৃদয়ে সমুদ্রসিম্ফনি বাজিয়ে গেছে
বেগম আক্তারি ,রোশনি বাঈ রাত জাগে প্রহরায় ।
কুয়াশার ঠোঁট থেকে কি অনায়াসে শব্দ বেরিয়ে আসে
আজ আমি কবিতা লিখতে শিখেছি লাল অক্ষরের বিন্যাসে
তুমি ভালো নেই বুঝি কাল সারাবেলা কেঁদেছ আমি শুনতে পেয়েছি
অপেক্ষায় থাক এই এলাম বুঝি আটপৌঢ়ে শাড়ি পড়ে ।
বাতিঘর ক্ষয়ে গেছে সময়ের আঘাতে
নোনাস্রোত যতটুকু নিয়েছে তারচেয়ে বেশি উত্তর পুরুষেরা
হাভাতের দল হামলে পড়েছে হায়রে ! ক্ষুধাক্লিষ্ট যৌবন তোদের অভিশাপ
কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করতে ভালো লাগে না আমার ।
জানি কিছু দিয়ে যেতে হবে ,মরার পর ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকবার ইচ্ছে নেই আমার
ঘাড়ের ব্যাথাটা বেড়েছে হাত দু’টো ও অবশপ্রায় , চোখের দীপ্তি নিঃশেষিত
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে দু’ফোঁটা রক্তে কালজয়ী কবিতা লিখব আমি
জানালা খুলে দাও আলো আসুক , আলোরা খুব কম বাঁচে ।

ছড়িয়ে দিন