চলে গেলেন মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশী

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২০

চলে গেলেন  মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশী

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার: বৃহত্তর সিলেট বিভাগের শীর্ষ আলেম, হাজার হাজার ছাত্রের প্রিয় শিক্ষক, মাওলানা আব্দুল মুমিত (৭২) ঢেউপাশী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।


মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আব্দুল মুমিত দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারনে  মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ঢেউপাশা গ্রামের নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন দীর্ঘদিন যাবত।  
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হৃদরোগ ধরা পড়লে সাথে সাথে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)    
প্রচারবিমুখ সাদাসিধে জীবনের অধিকারী  বৃহত্তর সিলেটের এই শীর্ষ আলেম ও হাদিসের দক্ষ শিক্ষক হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন সিলেটের কওমী অঙ্গনে । তাঁর আকষ্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 
মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশীর ছোট ভাই মাওলানা শামসুল ইসলাম জানান, দেশেব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পারিবারিক ভাবে সংক্ষিপ্ত জানাযা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি জানাযায় অংশ গ্রহণ না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশীর মৃত্যুর খবর শুনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার গ্রামের অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

  
মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশী ১৯৪৮ সালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ঢেউপাশা গ্রামের এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিরবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল মুবিন তরফদার। ১৯৭১ সালে বৃহত্তর সিলেটের শীর্ষ কওমী মাদ্রাসা গহরপুর মাদ্রাসা থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস তথা তাকমিল ফিল হাদিস জামাতে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে শুরু করেন হাদিসের শিক্ষকতা। 
ছাত্র জীবন শেষ করেই শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নিয়ে শুরুতেই শিক্ষকতা করেন উত্তরবঙ্গে রংপুর জেলার একটি কওমী মাদ্রাসায়। এর পর সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসায়। সেখান থেকে তিনি দীর্ঘদিন সিলেট শহরের আরেক কওমী মাদ্রাসা দারুসসালাম খাসদবির মাদ্রাসায় হাদিস শাস্ত্রের উপর শিক্ষকতা করেন। দীর্ঘদিন সেখানে শিক্ষকতা শেষে ১৯৯২ সালে নিজ জেলা মৌলভীবাজার শহরের জামেয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসায় হাদিসের সর্বোচ্চ কিতাব বোখারী শরীফসহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের উপর শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি এই মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি প্রধান মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুন গ্রামে অবস্থিত জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুনা মাদ্রাসায়। 
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা পেশার সাথেই যুক্ত ছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত হাদিসের কিতাব নিয়ে ব্যস্থ থাকাই তাঁর পছন্দ ছিলো । বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বোখারী শরীফ, তিরমিজি শরিফ, মুসলিম শরীফ ও ইবনে মাজাহসহ হাদিস শাস্ত্রের শীর্ষ গ্রন্থ সমূহের উপর তার ছিলো অধিক পাণ্ডিত্য।          
৬ ভাই আর ২ বোনের মধ্যে মাওলানা আব্দুল মুমিত ঢেউপাশী ছিলেন সবার বড়। তার ৪ ছেলে ও  ৩ মেয়ে রয়েছেন বলে জানা যায়।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

November 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930