চিত্তবাবু উচ্ছ্বাসে ডেকে ওঠেন, ডক্টর হাসিনা ওয়াজেদ

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

চিত্তবাবু উচ্ছ্বাসে ডেকে ওঠেন, ডক্টর হাসিনা ওয়াজেদ

শাকিল মামুদ
ঢাকা শহরের প্রতিটি অলিগলিই তখন আমার পায়ের স্বজন। ফুলটাইম বোহেমিয়ান আমার পা পড়েনি ঢাকার এমন কোনো পথ বাকি ছিলো না । দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা ও বই মেলার পথিকৃৎ চিত্তরঞ্জন সাহা থাকতেন পুরান ঢাকায়।একদিন হাজির হই তাঁর শ্যামবাজারের বাড়িতে।অনেক কক্ষের বাড়িটি ছিলো সৃজনশীল বইয়ের খনি। আবাসিক কিছু বাদে সবগুলো কক্ষই অজস্র বইয়ে ঠাঁসা। আমি তো মন্ত্রমুগ্ধ। মুগ্ধ তরুনটিকে বাড়িতে খালি পড়ে থাকা একটি আবাসিক কক্ষ দেখিয়ে চিত্তবাবু বলেছিলেন “থেকে যেতে পারো”! আমি বিস্মিত ! থেকে যাই টানা তিন চার মাস । চলে বই পড়া । বাইরে বেরও হই না।চিত্তবাবু বাইরে বের হলে আমার ডাক পড়তো। নিয়ে যেতেন বই সংশ্লিষ্ট কত কত জায়গায় ।যেতে যেতে গল্প করতেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে “মুক্তধারা” প্রতিষ্ঠা করে তিনি কী ভাবে বাংলা বই প্রকাশের জন্য সৃজনশীল দেশী লেখক তৈরির মিশন শুরু করেছিলেন কলকাতায়। ২১শে ফেব্রুয়ারির ভোরে বাংলা একাডেমি চত্বরে চট বিছিয়ে বইমেলা শুরুর গল্প।
একদিন চিত্তবাবু বলেছিলেন, “হুমায়ূন আহমেদের বই কখনোই ছাপবো না । আমি প্রশ্ন করেছিলাম কেনো ছাপবেন না হুমায়ূন আহমেদের কোনও বই ?
চিত্তবাবুর সোজা উত্তর “হুমায়ূন আহমেদ সৃজনশীল লেখকই নন”।

চিত্তবাবুর সঙ্গে একদিন বংলা একাডেমির কাছাকাছি পরমানু শক্তি কমিশনে যাই। সিঁড়ি ভেঙ্গে পরমানু শক্তি কমিশন চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকেই চিত্তবাবু উচ্ছ্বাসে ডেকে ওঠেন, ডক্টর হাসিনা ওয়াজেদ… ডক্টর হাসিনা ওয়াজেদ..।
দেখি, হো হো হো অট্টহাসিতে আসন থেকে ওঠে এসে চিত্তবাবুকে জডিয়ে ধরে চেয়ারে বসালেন লম্বাচওড়া একজন ভদ্রলোক, তিনি পরমাণু বিজ্ঞানী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়া। বসতে বসতে স্বশব্দে কপট তর্কে মেতে ওঠেন তাঁরা। ডক্টর ওয়াজেদ মিয়া হাসতে হাসতে অভিযোগ করেই যাচ্ছিলেন, চিত্তবাবু কেনো তাঁকে হাসিনা ওয়াজেদ নামে ডাকেন ! চিত্তরঞ্জন সাহাও হাসতে হাসতে জবাব দিচ্ছিলেন, ওয়াইফকে যদি হাজবেন্ডের নামের অংশজুড়ে ডাকা যায়, তো হাজবেন্ডেকেও বিখ্যাত ওয়াইফের নামজুড়ে দিয়ে ডাকা যায় !

ছড়িয়ে দিন