চিত্তরঞ্জন দাস ঃ অবসান হলো এক ধুতি সংস্কৃতির

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

চিত্তরঞ্জন দাস ঃ অবসান হলো এক ধুতি সংস্কৃতির


বিনেন্দু ভৌমিক

একসময় প্রায় সকল বাঙালিরাই, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে, নিত্যদিনের জীবনাচারে— কিংবা বিবিধ অনুষ্ঠানের নানাবিধ অনুষঙ্গে বা আনুষ্ঠানিকতায়, ধুতি পরতেন বা পরেছেন।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও ধুতি পরেছেন।সর্বভারতে যিনি নেতাজী হিসেবে সম্মানিত সেই সুভাষ বসুও ধুতি পরতে দ্বিধা বোধ করেন নি । কিংবদন্তী শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তো ধুতি ছাড়া কিছু পরতেনই না। উত্তম কুমার, সত্যজিৎ রায়—সকলেই ধুতি পরেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই ছিলেন শেষ রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ মহাত্মন যিনি ধুতি পরেই তাঁর অফিসিয়াল কাজ সমাধা করতেন। শুধু বাঙালিই কেন, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামও কোনো কোনো উৎসবে ধুতি পরতেন।

আমরা ছোটোবেলায় দেখতাম, আমাদের স্কুলের পণ্ডিত মশাইরা ধুতি পরে ক্লাসে পড়াতে আসতেন। আস্তে আস্তে এটি পুরো ধর্মীয় তকমায় চলে যায়। মুসলমানদের কাছে এটা এখন অচ্ছুৎ। এখনকার হিন্দুরাও আর তেমন করে ধুতি পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

আমার বন্ধু ডা.শান্তনু দাস-এর বাবা, বাবু চিত্তরঞ্জন দাসই বোধহয় মৌলভীবাজারের শেষ অফিসিয়াল ব্যক্তিত্ব যিনি আজীবন আপিস করেছেন ধুতি পরেই। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমাদের মৌলভীবাজারে বাঙালির আদি এই পোশাকসজ্জার চিরমৃত্যু ঘটলো বোধহয়। অথচ কয়েক দশক আগেও এই শহরে আইনজীবী ব্যোমকেশ ঘোষ , সাংবাদিক রাধিকা মোহন গোস্বামী ,শিক্ষক পরিমল বিকাশ দেব প্রমুখ কে সার্বক্ষণিক ধুতি পরা অবস্থায় দেখা গেছে ।

চিত্তরঞ্জন দাসের মতো এত অমায়িক ও বিনয়ী ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজে খুব বিরলই বলবো। তাঁরা ভাইয়েরা— তিনি, ডা.সত্যরঞ্জন দাস ও আশুতোষ দাস মিলে চিরভ্রাতৃত্বের যে অনুপম উপমা সৃজন করেছিলেন, তা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে, আর করবেও আজীবন। এমন মিহি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক কাছেপিঠে খুব একটা দেখা যায় না। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক অনির্বচনীয় সম্পর্কেরও কিছুটা ছন্দপতন ঘটলো।

সপ্রাণ শ্রদ্ধায় আমরা এই মানুষটিকে হৃদয়ের মণিকোঠায় আজীবন লালন করে যাবো আমাদেরই চৈতন্যের বোধোদয়ের জন্য।

বিনেন্দু ভৌমিক ; কবি ও চিকিৎসক

ছড়িয়ে দিন