চুল ঢাকার হিজাব-বোরকা-নেকাব হু হু করে বাড়ছে

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৮

চুল ঢাকার হিজাব-বোরকা-নেকাব হু হু করে বাড়ছে

অদিতি ফাল্গুনী

কানাডায় পদার্থবিদ্যা বিষয়ে পিএইচডি ছাত্র সৌহার্দ্য ইকবাল আজ দু’টো দারুণ পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেছেন। প্রথমত: আমাদের এই রক্ষণশীল বাংলাদেশে ধর্মাধর্ম নির্বিশেষে ৯৯ ভাগ মেয়ে গলা থেকে পায়ের পাতা অবধি সালোয়ার-কামিজ এবং ওড়নায় ঢেকেই থাকি। পাশের শহর কলকাতার (বিমানে ঢাকা থেকে কলকাতায় যেতে ৩০ মিনিট লাগে যেখানে কক্সবাজার যেতে লাগে ৪৫-৬০ মিনিট) মেয়েরা যেমন ওড়না না পরে বা সোজা বাংলায় ‘বুক’ না ঢেকে হাঁটতে পারে, আমরা সেটা পারিই না। তাই আমাদের সমাজে যে মেয়ে ওড়না ছাড়া হাঁটে, সে প্রায় ব্যতিক্রমী ১ শতাংশের ভেতর পড়ে। পাশাপাশি রক্ষণশীলতার নব্য জোয়ার ষোল কলা পূর্ণ হয়ে ওঠায় চুল ঢাকার হিজাব-বোরকা-নেকাব হু হু করে বাড়ছে। তা’ রোকেয়া হলের সামনে সেদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে রীতিমতো নেকাবে মুখ পেঁচানো মেয়েরাই শার্ট-ট্রাউজার পরা মেয়েটির (যে ভিক্টিম এবং ওড়নাহীন- আমাদের অতি রক্ষণশীল বাংলাদেশীয় সমাজে হিস হিস গলায় যেটাকে বলা হবে ‘বুক দেখানো’ মেয়ে) সাথে এমন গভীর একতায় আবদ্ধ? হিজাবিদের কাছে আমরা যারা গোটা শরীর ঢেকে শুধু চুল না ঢাকার অপরাধেই ‘যথেষ্ট ভাল মেয়ে নই,’ তাদের কাছে বুকে ওড়না না থাকা মেয়ে মানে ত’ নরক বা দোজখের ব্যভিচারীনী। স্যরি, এটা আমি মনে করি না। হিজাবি-নেকাবিদের মানসিক ভাবনার কথা বলছি। এই দুই ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত ড্রেস কোডের মেয়েরা এক হয়ে কোটার বিরুদ্ধে লড়াই করছে-বিষয়টা বেশ অবাক করা।

দ্বিতীয়ত: কোটা বিরোধী সংগ্রামে ছাত্রলীগ ও পুলিশ সত্যিই অপরিমেয় তান্ডব চালিয়েছে, তাই বলে এটা ২৫শে মার্চের পাক বাহিনীর গণহত্যার সাথে তুলনীয়? যারা এমন কথা লিখছে, তারাই পাক বাহিনীকে ‘হানাদার বাহিনী’ বলে, ক্রিকেটে পাক দল সমর্থন করে, ’৭১-এ খুন-ধর্ষণের কথা উঠলে বিব্রত হয়, সাকা-মুজাহিদ-সাঈদির জন্য কাঁদে। গত বছর বাংলা একাডেমিতে রুশ রেভল্যুশনের একশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে খোদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারও অবশ্য রোহিঙ্গা নারীর উপর নির্যাতনের কথা বলে ’৭১-এ বাঙ্গালী নারীর উপর নির্যাতন বলে বিব্রত ভাবে দু’বার ‘হানাদার বাহিনী’ বলেছেন- পাক বাহিনী বলতে পারেন নি- অগ্রজ লেখক রুখসানা কাজল আপা জানেন মিথ্যা বলছি না- কাজল আপাই মিলনায়তনে আমার পাশে বসে, আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন, ‘দ্যাখো- পাক বাহিনী শব্দটা স্যার বলতে পারলেন না!’ এতেই অবশ্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের জীবনের সব অর্জন মিথ্যা হয় না। এক ‘শেক্সপীয়রের মেয়েরা’ বইটা লেখার জন্যই পাঠক হিসেবে তাঁর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ‘যোগাযোগে’র কুমু বা ‘আনা কারেনিনা’র ব্যখ্যা দৈনিক সংবাদ-এর ‘সময় বহিয়া যায়’ কলামে ‘গাছপাথর’ নামে যখন তিনি ধারাবাহিক লিখতেন, তখন সেই অষ্টম শ্রেণি বা নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়, তাঁর কলামের মাধ্যমেই প্রথম জেনেছি। সবচেয়ে বড় কথা শাসকের পায়েস-পোলাও খাবার লোভ তাঁর নেই। তবে ‘পাক বাহিনী’কে ‘হানাদার বাহিনী’ বলেছিলেন এটা সত্যি।

ওহ্- পোস্টটি লিখতে লিখতে এক বন্ধুর ইন-বক্স মেসেজ পেলাম। আমার পোস্টে কারো অতি জঘন্য কথা। আমি খেয়াল করিনি। হাসান মাহমুদ নামের লোকটির আইডিতে গিয়ে দেখি এক নোংরা জামাতির প্রোফাইল। এই লড়াইটা পুরোটাই জামাতের অর্থায়ণে সেটা আবার নিশ্চিত হলাম।