ঢাকা ১৭ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

চেষ্টা নারী সংগঠনে নানা অনিয়ম, অভিযুক্ত লায়লা হারুণ

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২৪, ০৭:২৫ অপরাহ্ণ
চেষ্টা নারী সংগঠনে নানা অনিয়ম, অভিযুক্ত লায়লা হারুণ

সংগঠনকে নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে পুরে ফেলার চেষ্ঠা করছেন সভাপতি লায়লা নাজনীন হারুন। অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে নানা কেলেংকারি ।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, ডেসটিনির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং জামিনে মুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব লে. জেনারেল (অব.) এম হারুন রশিদের সহধর্মিনী লায়লা নাজনীন হারুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১২ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত নারী সংগঠন ‘চেষ্টা’য় প্রথম দিকে ভিজে বিড়ালের মতো থাকলেও এখন তিনি রীতিমত চেঙ্গিস খানের ভূমিকায় অবতীর্ণ। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, গঠনতন্ত্র না মেনে চলা, সদস্যদের সাথে দুব্যবহার, কাউকে তোয়াক্কা না শুধুমাত্র একক ইচ্ছায় নতুন সদস্য গ্রহণ করা, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য নানান রকম ষড়যন্ত্র ইত্যাদি অভিযোগ তার নিত্যদিনের সাথী। নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর গত ৩১/03/2024 ইং তারিখ স্মারক নং-৩২.০০ ২৬00 000.06. ০০১.২৪. ১৭২ সংগঠনের ব্যাংক একাউন্ট স্থগিত করে প্রাইম ব্যাংক মৌচাক শাখা এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের একাউন্ট।অধিকাংশ সদস্য যেখানে সুবিধা বঞ্চিত নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আপদকালীন সময়ে সুবিধা দেয়ার জন্য ব্যস্ত সে মুহূর্তে সভাপতি সংগঠনটিকে একটি বিতর্কিত সংগঠনে রূপান্তরিত করতে চলেছেন ।
সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৯/২ ধারা মানতে তিনি (সভাপতি লায়লা নাজনীন) বাধ্য নন এমন কথা বলেছেন কমিটির সদস্যদের। গত ২০ আগস্ট ২০২১ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ৩ বছর মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও গঠনতন্ত্র মোতাবেক এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত সিডিউল কিংবা নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়নি। সংগঠনটি নিয়ে জনমনে এবং সদস্যদের মধ্যে দারুণ অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সদস্যদের দাবি সংগঠনে একটি সুষ্ঠু বিতর্কহীন নির্বাচন হোক। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য সে প্রকাশ্যে নতুন
সদস্য গ্রহণ করছে। সর্বোপরি বলে বেড়ান, আমার সাথে কেউ পারবেনা। আমি সারা জীবনের সভাপতি থাকবো ‌‌। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে লায়লা নাজনিনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে সংগঠনের অন্যতম সদস্য ভিকারুন্নেসা হোসেন ID 07 বলেন সংগঠনের গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা
না করে নিজের ইচ্ছামত সংগঠন পরিচালনা করছেন ।নিজের আজ্ঞাবহদের
সদস্য বানানোর জন্য ব্যস্ত। তার অপছন্দ সদস্যদেরকে বের করে দেবার জন্য নানান রকম ফন্দি ফকির করছে । এই তিন বছরে সদস্যপদ বাতিলের জন্য দফায় দফাই নোটিশ দিয়েছে এবং ডিফল্টার বানানোর জন্য চাঁদা গ্রহণ করে না। অনিয়মিত সদস্য তকমা লাগানোর জন্য
সভায় উপস্থিত থাকলেও খাতায় স্বাক্ষর দিতে দেয় না ।তাকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা বেগম। এই দিলরুবা দিলরুবা বেগমের ভাতিজি কোষাধক্ষ্যৃ। তাদের দুজনের স্বাক্ষরে ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন করা হয়।
সাদিকুন্নাহার পাপড়ি সদস্য I D-04 supreme court এর আইনজীবী। সংগঠনের আইনগত দিক মেনে চলার পরামর্শ দেয়াতে এবং তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করাতে সর্বদা ক্ষিপ্ত আমার প্রতি । এর ধারাবাহিকতায় আমাকে সদস্য পদ বাতিল করা হয়। আমাকে যারপর নাই অপমান অপদস্তের শিকার হতে হয়েছে এবং আমাকে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ঘুরিয়ে এনেছে অথচ আমি এই সংগঠনের সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান সংগ্রহ করেছি এবং সংগঠনকে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করেছি। সে নতুন নতুন সদস্য এই সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি করছে তার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য। আমি এই অনিয়মের জোর প্রতিবাদ জানাই।
সেলিনা বেগম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ID 01 একজন নিরেট ভদ্র , সজ্জন শিক্ষিত নারী ।
তিনি বলেন ,আমি এই সংগঠনকে নিজের শিশুর মত করে লালন পালন করেছি। সমাজ সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছি। সংগঠনকে ধরে রাখার জন্য নানাবিধ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি এবং সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করেছি। সদস্যদের মধ্যে তখন বিরাজ করত সুন্দর সম্পর্ক। শিক্ষিত নারীদের নিয়ে গঠিত এ সংগঠনকে ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি বটে। এই তিন বছরে আমাকে অনবরত অসম্মান করেছে অন্য সদস্যদের সম্মুখে। কোন অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানায়নি এবং উপস্থিত সভার
মধ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত যা আমি সহ্য করতে সত্যি অপারগ। সুস্থ সুন্দর একটি নারী সংগঠনকে লায়লা অসুস্থ পরিবেশে নিয়ে গেছে।
সভার মধ্যে সে আইনজীবী নিয়ে বসে থাকে।
রাফিয়া রহমান টফি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন সদস্য ID 26 ওখান থেকে সুদুর প্রবাস থেকে চেষ্টার জন্য তার উদগ্রীব উৎকণ্ঠা বিরজমান ওখান থেকে তিনি আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন ,  লায়লার  অত্যাচারে আমি কিছুদিন চেষ্টা থেকে বিরত ছিলাম। সে সভাপতি হয়ে পরবর্তীতে বিনয় করে আমাকে  উপস্থিত করিয়েছে। আমি চেষ্টার এমন অবস্থা দেখে হতবাক হলাম। টাকার হিসাব চেয়েছি ।সে দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল
বীরঙ্গনা নারীদের জন্য গঠিত সংগঠনটি বীরাঙ্গনাদের জন্য বর্তমানে সীমিত আকারে খরচ করছে । রাওয়া ক্লাব এবং ঢাকা ক্লাবের মত স্থানে
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে। যেখানে বীরঙ্গনারা অসহায় ভাবে উপস্থিত থাকেন । এর আমি জোর প্রতিবাদ জানালে আবার আমার সাথে বিরোধ হয়। তার বিরুদ্ধে আমরা সদস্যদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা এই সংগঠনটি তৈরি করেছি শুধুমাত্র সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য এবং বীরাংগনা নারীদের জন্য। এর ব্যত্যয় আমরা ঘটতে দিবো না। চেষ্টা নারী সংগঠনের গঠনতন্ত্রের প্রণেতা ও নারী ও শিশু অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত করার জন্য যিনি কাজ করেছেন
তিনি প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন। তিনি বলেন , আমাদের সকলের রক্ত ঘামে তিল তিল করে গড়ে তুলেছি এই সংগঠন । সকলের চেষ্টায় দাঁড়িয়েছে চেষ্টা । এখানে কোন অনিয়ম এবং দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেবো না ।
নারীদের সর্বত্র যুদ্ধ করে চলতে হয়। এই সংগঠনের জন্য শেষ অবধি আমরা যুদ্ধ করে যাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30