ছবির লোকটির নাম মোহন রবিদাস!

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২১

ছবির লোকটির নাম মোহন রবিদাস!

 

উত্তম রায়
সে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি শ্রমিক নেতা প্রেম সাগর হাজরার (আনারস মার্কার) পক্ষে কাজ করতে শ্রীমঙ্গলে গতকাল নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে এসেছিল একজন চা শ্রমিকের সন্তান হিসেবে। মোহন রবিদাস প্রাচ্যের অক্সপোর্ট খ্যাত সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়া একজন চা জনগোষ্ঠীর সন্তান ..!!! আমরা হয়তো তাকে দলিত শ্রেণীর লোক হিসেবেই চিহ্নিত করি। কিন্তু একজন চা জনগোষ্ঠীর সন্তান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ডিগ্রীধারী হয়ে ও তাকে তার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করতে বাধা দিয়ে রক্তপাত ঘটানো কাম্য ছিল না।হয়তো এদেশের অনেক মেধাবী উদীয়মান শিক্ষিত তরুণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়তে পারিনি কিংবা দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর যোগ্যতা থাকা সত্বেও হয়তো প্রয়োজণীয় অর্থের অভাবে অকালে অনেক তরুণদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে – বা থেকে যায়!

 

 

হয়তো অদম্য মেধাবী তরুণ মোহন রবি দাস এ জমানায় এসে ও কখনো অর্ধাহারে বা অনাহারে থেকে ও পড়াশোনা করে সে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মতো প্রতিষ্টানে গিয়েছে জ্ঞান অর্জনে।সে জন্মের পরেই হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছে অবহেলিত চা জনগোষ্ঠী তাদের জীবন মান সম্পূর্ণ অনগ্রসর এবং তাদের দলিত শ্রেণীর মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তাই বিষয়টি তার মনে দাগ কেটেছে।আর তাইতো পড়াশোনা শেষেও ধরেছে ভিন্ন পথ।নিজের চা জনগোষ্ঠীর অবহেলিত জনপদ আর তাদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে চলছে সে। গতানুগতিক চাকরির পথে না গিয়ে দলিত শ্রেণীর সামাজিক মর্যদা আদায়ের পাশাপাশি তাদের জীবন মান উন্নয়ন কাজ করতে নেমেছে।বঞ্চিত চা জনগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের পথ বেচে নিয়েছে। ফিরে এসেছে তার আতুঁর ঘড়ে।নিজ জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে আন্দোলনে আর নেতৃত্বে ছিল তার অগ্রণী ভূমিকা। কিন্তু আমরা তথাকথিত সভ্য সমাজ তাকে তার জাত আর বংশ মর্যদা তুলে তাকে গালি দিতে পারি। দলিত সমাজ বলে তাকে তার গণতান্ত্রিক আন্দোলন আর ভোটদানের মতো গনতন্ত্র চর্চায় বাধা দিচ্ছি আমরা যারা কথায় কথায় গনতন্ত্রের চবক দেই। শুধু পারিনা তার সে যে কষ্টে–সংগ্রামে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে সেই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে।

 

 

 

কি ছিলো তার অপরাধ যেই অপরাধে তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এই মানুষটাকে না মারলে কি হতোনা?তাকে না মারলে কি নির্বাচনে জেতা সম্ভব হতোনা। কেউ স্বীকার করেন বা না করেন দলিত শ্রেণির সন্তান বলে এদের প্রতি এমন আচরণ সত্যি দুঃখ জনক।আমরা এখনো মোহন রবিদাসদের শ্রেণিবৈষম্যে পদদলিত করে রেখেছি। সে প্রেম সাগর হাজরার পক্ষে কাজ করতে মাঠে ছিল এটাই কি তার অপরাধ।কিন্তু আমরা চা জনগোষ্ঠীর বিশাল ভোট ব্যাংক নৌকা তথা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবেই ভাবতাম। কিন্তু চা জনগোষ্ঠীর একজন প্রার্থী থাকায় কি আমরা সেই আস্হা ধরে রাখতে পারিনি।ভোট আর অধিকার আদায়ের দাবিতে সে যদি তার জনগোষ্ঠীর একজন যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে না পারে এমন গনতন্ত্র তো কোন দিন কল্যান বয়ে আনতে পারে না।সর্বোপরি যে কোন মানুষ আর অবহেলিত জনগোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়কে তুচ্ছ করে গনতন্ত্রের পায়ে নিগ্রহের শিখল পড়িয়ে নিজেদের সভ্য দাবি করা সত্যি হাস্যকর।

ছড়িয়ে দিন