ছাত্রলীগের সামনে চ্যালেঞ্জ হলের ভিপি-জিএস প্রার্থী বাছাই

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

ছাত্রলীগের সামনে চ্যালেঞ্জ হলের ভিপি-জিএস প্রার্থী বাছাই

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :

বহু প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন হিসেবে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কিন্তু কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ১৮টি হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী বাছাইয়ে ছাত্রলীগ সমস্যায় পড়েছে বলে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনের ৯ মাস পার হলেও দফায় দফায় ঘোষণা দিয়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি ছাত্রলীগ। এতে অনেক ত্যাগী কর্মীর মূল্যায়ন হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়া সব খালি। এ কারণে কে কোন পদে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধা। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও মন্থরগতি এসেছে বলে জানিয়েছেন গত কমিটির একাধিক সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত কমিটির এক সদস্য বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে লোক না থাকায় সংগঠনের গতি মন্থর হয়ে আছে। কারা ছাত্রলীগে থাকবেন, ডাকসু নির্বাচনে কারা থাকবেন তা নিয়েও ধোঁয়াশায় রয়েছেন অনেক নেতা।

ছাত্রলীগ নেতারা জানান, প্রতিটি হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের আলাদা অনুসারী গোষ্ঠী আছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে একাধিক ছাত্রলীগ নেতা হল সংসদের ভিপি-জিএস প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। হল কমিটির ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের কোনো পদ না থাকায় তারাও হলে প্রার্থী হতে পারেন। এর বাইরেও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছা দেখিয়েছেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের এক মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে ছাত্রলীগের সাবেক পাঁচ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বর্তমান কমিটির চারজন উপস্থিত ছিলেন।

দলের নেতাদের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, এই বৈঠকটি বর্তমান এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মতবিনিময় সভা ছিল। সবাই মিলে কীভাবে ডাকসু নির্বাচনে কাজ করা যায়, সেই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বিভিন্নভাবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর প্যানেল চূড়ান্ত হবে।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, আমি এখনো নিয়মিত শিক্ষার্থী। হল সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছি। হল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংগঠন থেকে যেখানে প্যানেল দেওয়া হবে, সেখানে নির্বাচন করতে প্রস্তুত।

হল শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে হল সংসদের প্রার্থী করা হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে না মন্তব্য করে বিজয় একাত্তর হলের এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, অনেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কোনোরকমে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। অনেকে দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত কাজ করেছে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। তাই যারা এখন রাজনীতি করছে; সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কাজ করছে তাদেরকে প্যানেলে নিয়ে এলে ছাত্রলীগের জন্য ভালো হয়।

হল সংসদে কাদের প্রার্থী করা হবে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, হল সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে যাদের ছাত্রত্ব আছে, জনপ্রিয় তারা মনোনয়ন পেতে পারেন। যারা বিতর্কিত কাজ করেছে, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। হল সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বাইরেও কেউ যদি জনপ্রিয় থাকে, বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করে তাদের নমিনেশন দেওয়া হবে।