চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা -সিলেট মহাসড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা -সিলেট মহাসড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে

 

সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে  চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা -সিলেট মহাসড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে ।
দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্কে সংযুক্তির মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ণের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, একনেকে ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট নয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছয় হাজার ৫৯৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ পাওয়া যাবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন প্রকল্প ও তিনটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর সেখানে টোল আদায় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সড়ক ও মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় কাজ নিশ্চিত করতে ‘ইয়ারমার্ক অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

মান্নান বলেন, টোল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি ও নির্দেশনা হলো দেশবাসীকে কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই পরিষেবা গ্রহণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ে পুনঃনির্দেশ দেন। এ ছাড়া, তিনি সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটের মতো মহাসড়কগুলোতে প্রয়োজনীয় রেস্ট হাউস, ওয়াশরুমসহ কফি শপ, মহিলাদের জন্য আলাদা রুম করার নির্দেশ দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর নেপাল, ভারত, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তৈরি করবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পূর্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছি।

অতিরিক্ত সচিব জনাব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান , এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে । এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতেও ।
সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। বাকি তিন হাজার ৬৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়ে গেলে দেশের সড়ক যোগাযোগ এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, বিমসটেক করিডোর, সার্ক করিডোর এবং আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

প্রকল্পের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে-মাটির কাজ ২৪৫ দশমিক ৪২ লাখ ঘনমিটার, ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণ ৭২ দশমিক ৭৩ লাখ ঘনমিটার, সার্ভিস লেনে কংক্রিট পেভমেন্ট ২ দশমিক ৯২ লাখ ঘনমিটার, ৩০৫টি কালভার্ট নির্মাণ, ৬৬টি সেতু নির্মাণ, সাতটি ফ্লাইওভার বা ওভারপাস ও ছয়টি রেল ওভারব্রিজ নির্মাণ, ২৬টি ফুটওভার ব্রিজ, সাইন, সিগন্যাল, রোড মার্কিং, ডিভাইডার, মিডিয়ান, গার্ডরেল, নালা ইত্যাদি ২০৭.৬৩ কিলোমিটার নির্মাণ।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের শুরুতে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার চূড়ান্ত মুদ্রিত সংস্করণটির মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি কোভিড অতিমারির সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত কার্যক্রম সচল রাখায় পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

এক প্রশ্নের উত্তরে এম এ মান্নান বলেন, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর প্রকল্প অর্থনীতিতে দারুণ প্রভাব ফেলবে। এই প্রকল্পের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষ ক্ষতিপূরণ পাবেন।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘বিটিসিএল-এর ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প, নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ‘পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটিাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’, ‘চট্টগ্রাম জেলাধীন হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলায় হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙন থেকে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলাধীন দৌলতখান পৌরসভা ও চকিঘাট এবং অন্যান্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা’ প্রকল্প। এ ছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প এবং ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্প।