জনগণের ভাগ্য জনগণই এখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে

প্রকাশিত: ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৮

জনগণের ভাগ্য জনগণই এখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে

মুহিবুর রহমান মানিক, এম.পি
২৩ জুন ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ভারত ভাগের পর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোটা বিশ্বজুড়ে এসময় সৃষ্টি হচ্ছিল একের পর এক অর্থনৈতিক জোট, অর্থনৈতিক বলয়, অর্থনৈতিক সংস্কার। ঠিক এ সময় বঙ্গবন্ধুর বয়স ২৯ বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও জাতির জনক উপাধিতে ভূষিত হননি। তবে তিনি নব্য গঠিত পাকিস্তানের উপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করতে পারেননি। মূল কারণ ছিল পাকিস্তানের বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীণ নীতিতে পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে আকাশছোঁয়া বৈষম্য। দেশ ভাগের পর পরই পাকিস্তানের ফাদার অব দ্যা নেশন মোহাম্মদ আলী জিন্না সাহেব ও ভারত মাতার অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধিজী মৃত্যুবরণ করলে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নেতৃত্বের ডাইমেনশন পরিবর্তন হয়ে যায়। গান্ধি ও জিন্নাহ সাহেবের মৃত্যুর পর যদিও পন্ডিত নেহেরুজী খুব বিচক্ষণ ভাবেই আধুনিক ভারতের বিনির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন তবুও একটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে গেল কালের যাত্রায় যে বঙ্গবন্ধুই হতে পেরেছিলেন ভারতবর্ষের কালপুরুষ ও কালজয়ী নেতা। একদিকে গোটা পশ্চিম পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ ও সামরিক শাসকরা যেমনিভাবে শেখ মুজিবের উপর ঝাঁপিয়ে পরল তেমনি পূর্ব পাকিস্তানের নানা গোত্র-বর্ণ-পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠি হাত মেলালো শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হলো অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
২০১৮ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৯ ব ছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে পার্টির বহুতল ভবনের উদ্বোধন করে উপমহাদেশের প্রাচীনতম গণতান্ত্রিক এই রাজনৈতিক দলটির আগামীর পথ চলাকে করেছেন আরো সুগম।
ভারত ভাগ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। জন্মের প্রকৃতি ও রূপ থেকে আওয়ামী লীগ সরে যেতে পারেনি ৬৯ বছর পরও। একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ অতিবাহিত করেছে ৬৯ বছর। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও দারিদ্র বিমোচনের মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ তার জন্মের প্রকৃতি ও ধরনকে বারবার পূনপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলটির কার্যক্রম পরিচালিত করছে প্রান্তিক ও পেশাজীবি জনগোষ্ঠির সমাজ ব্যবস্থায় সমতালে।
এই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবার কথা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী মহান সংসদে সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীলগ্নে একান্ত আলাপচারিতায় দৃষ্টিপাত করেছেন পার্টি পলিটিক্স ও স্টেট পাওয়ার এর বিভিন্ন দিকগুলো। রেকর্ড থেকে এখানে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হলো।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ ২৩ জুন ২০১৮ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সংবিধানের রচয়িতা রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনুয়ে তার নিজস্ব ভবনের উদ্বোধন করেছে। দলের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ৩৭ বছর ও ১৯৪৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৬৯ বছরের আওয়ামী লীগের ভূমিকা রাজনৈতিক ইতিহাসে কিভাবে গুরুত্ব বহন করবে ও বিবেচিত হবে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ এই উপমহাদেশে আওয়ামী লীগ প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য এদেশের প্রতিটি মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে দীর্ঘসময় ধরে বিকশিত করেছে। ১৯৪৭ সালে দ্বীজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর একট অসম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রতিহিত করার লক্ষে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনামলের অবসানের পরে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ২৩ জুন বাঙ্গালীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য তাদের জীবনের উৎকৃষ্ট অংশগুলো আত্মত্যাগ করে গিয়েছিলেন। ২৩ জুনের সাথে সঙ্গত কারণেই বাঙ্গালীর আত্মার রক্তক্ষারন আমরা তাই আজও উপলব্ধি করি। ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক মঞ্চে ছিলেন এক উদিত সূর্যের ন্যয়। তাঁর বয়স তখন মাত্র ২৯ বছর। ইতিহাসে লক্ষ্য করা যায় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা সাহেব জনাব ভাসানি ও ফজলুল হক আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে থাকার পরও স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রাম ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করল না। ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলিষ্ঠ রাজনৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন। এই অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মননবৃত্তি সম্পর্কে তিনি যথার্থ ধারণা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সতেরো বছর পূর্বে ১৯৫৪ সালে। শোষণ-নির্যাতন ও বৈষম্য যেভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল তার উচিত জবাব দেয়ার রাজনৈতিক নেতা যেমন হয়ে উঠলেন না হক সাহেব, তেমনি মাওলানা সাহেব এবং তেমনি শহিদ সাহেবও। হতবিহ্বল জনগোষ্ঠির বোবা কান্নার অবসানের জন্য রুদ্র কণ্ঠস্বরের এক নেতা তখন খুব প্রয়োজন। যথার্থ সময়েই বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত হলেন মানুষের জন্য। মুক্তির জন্য। স্বাধীনতার জন্য। শেখ মুজিব ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন কোটি জনতার কণ্ঠস্বর। ১৯৫২ সালে যখন ভাষার উপর আঘাত এলো সর্বপ্রথম শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের অপচিন্তার প্রতিবাদ করেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করে যে বৈষম্যের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছিল সেখান থেকে মুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার ডাক দিয়েছিলেন। জাতির জনককে ১৯৪৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বারবার যেতে হয়েছে জেলে। কারগারে তাঁর কেটেছে জীবনের প্রায় বার বছর। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়েই ভূমিষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ। রচিত হয়েছে সংবিধান। যাত্রা শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের। আওয়ামী লীগের ইতিহাস বিবেচিত হলে বারবার চলে আসবে বঙ্গবন্ধুর নাম। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ৬৯ বছরের আওয়ামী লীগের ৩৭ বছর নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের প্রতিফলন যেমন লক্ষ্য করা যায় আওয়ামী লীগে তেমনি শেখ হাসিনাতেও। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততাই আওয়ামী লীগের নিজস্ব ইতিহাস। এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাথেই জড়িত আওয়ামী লীগের ইতিহাস। এদেশের গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সাথেই সম্পর্কিত আওয়ামী লীগের ইতিহাস। দেশ ও দল অবিচ্ছিন্ন হলেও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সাথে তৈরি করে নিয়েছে এক পরম সম্পর্ক। এদেশের প্রতিটি অধ্যায়ের গ্রান্ড ডিজাইন আওয়ামী লীগের সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। আর আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক এদেশের নানা পেশা-ধর্ম-বর্ন-গোত্রের সকল মানুষের। এদেশে যার নুন আনতে পানতা ফুরাত সেও যেমন তার বুকে ধারণ করেছিল আওয়ামী লীগকে তেমনি বৃত্তবান-শিক্ষিত সমাজপতিরাও নিজ নিজ অন্তরে ধারণ করেছিল আওয়ামী লীগ। এভাবেই একটি রাজনৈতিক দল তার ভৌগলিক সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বমহিমায়। স্বল্পন্নোত দেশ থেকে আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচিতি লাভ করেছে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে। একটি রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করেই থেমে থাকে না। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হয় রাষ্ট্রকেই। আওয়ামী লীগ সেটা কেেছ। যে স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশার পথ অতিক্রম করছে ধাপে ধাপে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নসাধ পূরণ করবে। জাতির জনক স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। সেই লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ এগারতম জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচনে আপনি জনগণের মুখোমুখি হবেন কি কি কৌশল অবলম্বন করে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীতেও। লক্ষ্য করুন চিনে বর্তমানে পৃথিবীর এক পঞ্চামাংশ মানুষের বসবাস। গত দুই মাস পূর্বে গণচিনের একটি খবর আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চিনে সরকার নির্বাচন করে দেশের কংগ্রেসম্যানরা। দেশটির ২৯৬৯ জন কংগ্রেসম্যানের মধ্যে ২৯৬৪ জন কংগ্রেসম্যান বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিন শি পিংকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা প্রদান করেছে। দুইজন ভোট দানে বিরোধীতা করেছেন এবং তিনজন ভোটদানে বিরত থাকলেন। বাকী সকলেই চিনের রাজনৈতিক ভাগ্যকে জিন শি পিং এর হাতে চিরতরে অর্পিত করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে এখানে গণচিনে এটা হলো কেন? দেড়শতাধিক কোটি জনতার দেশ গণচিনে কি জিন শি পিং ছাড়া আর কেউ ছিল চিনের আগামীর রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি পরিচালনার জন্য। কমিউনিষ্ট পার্টিতেইতো তিনি ছাড়া আরো অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা রয়েছে। মাও ঝে তুং এর পর গণচিনের অর্থনীতিতে যিনি কালজয়ী অবদান রেখেছেন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চিন আজ যেখানে দাঁড়িয়েছে সেই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হলেতো শি পিং এর কথাই আসবে বারবার। চিনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের কালজয়ী এই মহাপুরুষকেই গণচিনের মানুষ এভাবে সম্মানিত করেছে। গত মে মাসে আমি সরকারী সফরে রাশিয়ার মস্কোতে যাই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সমর্থন না করলে এত সহজেই আমরা স্বাধীনতা লাভ করতে পারতাম না। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভেঙ্গে যাচ্ছিল তখন আমরা কষ্ট পেয়েছিলাম। গর্ভাচেভের পতনের পর, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর রাশিয়ার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন বরিস ইয়েলেৎসিন। তাকে মনে হয়েছিল একটি ডুবন্ত জাহাজের নাবিক। সেই নাবিক হয়তো রাশিয়ার ভাগ্যদূতকে স্বাগত জানাতে পারেনি। তবে রাশিয়া যার নেতৃত্বে বিশ্ব সমাজে বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের পর অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পূনঃর্জিবিত হয়েছে তার নাম ভøাদিমির পুতিন। গত মাসের নির্বাচনে পুতিনকে রাশিয়ার জনগণ আবারও ৬ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। ৩৩ কোটি মানুষের দেশে কি আর কোন নেতা ছিল না। কেন পৃথিবীর ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো যারা জাতিসংঘে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা রাখে তাদের নেতাকে বারবার নির্বাচিত করে তাদের হাতেই রাষ্ট্র ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। মালয়েশিয়ার মাহাথির এর বেলায়ও তাই ঘটেছে সম্প্রতি। মাহাথির বেশ কিছুদিন পূর্বেই রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। জনগণ যখন উপলব্ধি করলেন মাহাথিরের পথে মালেয়শিয়া অগ্রসর হচ্ছে না তখন ৯২ বছরের মাহাথিরকে আবারো টেনে আনলেন ক্ষমতার মসনদে। আজকের বাংলাদেশকে বিশ্ব সমাজে নতুন করে পরিচিত করিয়ে দেয়া, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাতারে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে প্রশংসিত করা, ভুখা-বাঙ্গালীর হাহাকার ও নীল কষ্টকে জয় করা, রাষ্ট্রকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা ছাড়াও একটি উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন যিনি, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে একসময় বাসন্তির জলে পরিহিত ছবি পত্রিকার শীর্ষ খবর হয়েছিল অথচ আজকের বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশের ঔষধ আজ পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের নন্দিত নেতাদের একজন আজ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা। কারণ তিনি বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আগামীতেও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও দেশ শাসনের সুযোগ করে দেয়া সর্বোতভাবেই যৌক্তিক। তিনি যেমন পেরেছেন তেমনি পারবেন।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসডিজি গোল বা সাসটেইনএবল গোল পূর্ণ করা। আপনাদের বিগত দশ বছরের শাসনামলের সাথে যুক্ত হয়ে আগামীতে বাংলাদেশ কিভাবে এসডিজি গোল পূর্ণ করবে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ এমডিজি বা মিলিয়ান ডেভেলপমেন্ট গোল পূরণে বাংলাদেশ অনেকাংশেই সফল হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সেক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধুর একটি স্বপ্ন ছিল দারিদ্রমুক্ত ও শোষনমুক্ত সমাজ গঠনের। আপনারাই বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগই বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগের পরবর্তী প্রজন্মই বঙ্গবন্ধু। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে আপনারা সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কি?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ দারিদ্র বিমোচনের ক্ষেত্রে সরকার অনেক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। বাংলাদেশের হতদরিদ্র প্রান্তিক মানুষ ও শোষিত জনগোষ্ঠি ইতিমধ্যেই দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। গৃহহীনদের সরকার গৃহ দিয়েছে। বয়োজৈষ্ঠ্যদের ভাতা দিয়েছে, বিধবাদের ভাতা দিয়েছে, দুর্যোগে সহায়তা করে একটি কর্মক্ষম সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বর্তমান সরকার। গ্রামীণ অবকাঠামো যথেষ্ট পরিবর্তিত হয়েছে সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে। কৃষিতেও সরকার কৃষিবান্ধব আত্মপরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সরকারই পারে জনগণকে সুরক্ষা করতে। সরকারই জনগণের ভৌগলিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, চিকিৎসা নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জন সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। বর্তমান বাংলাদেশে দূর্ভিক্ষের ভীতি নেই। অনাহারের আশংকা নেই। অনিদ্রার কারণ নেই। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হার কমেছে। মানুষ হয়ে উঠছে কর্মমুখি। সমাজ হয়ে উঠছে অর্থনৈতিক পরিমন্ডলের সমাজব্যবস্থা। যেখানে অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মানুষ ভোগভোগ করছে স্ব স্ব জীবন ও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে জীবনের জয়গান। শিল্প কল-কারখানার প্রসারের ফলে মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটছে। মানুষের উদ্যম বেড়েই চলেছে। জনগণের ভাগ্য জনগণই এখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। অন্য পিঠেও কিছু ঘাত-প্রতিঘাত রয়েছে। অথচ নৈতিক সংস্কারের কালে যেসব মুখ্য বিষয়, গৌন বিষয় হতে পারে না। সরকার শ্রেণী বৈষম্য দূর করতে দুর্নীতির স্থলে সুনীতি প্রতিষ্ঠা করারও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ মাননীয় সংসদ সদস্য।
মুহিবুর রহমান মানিকঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।