জনতা ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির এক্সচেঞ্জ হাউজ বন্ধের সুপারিশ

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২১

জনতা ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির এক্সচেঞ্জ হাউজ বন্ধের সুপারিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ইতালিতে পরিচালিত জনতা ব্যাংকের জনতা একচেঞ্জ হাউজের কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স‌ঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বাৎসরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকা‌লে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে পরিচালিত জনতা ব্যাংকের জনতা একচেঞ্জ হাউজ বছরের পর বছর লোকসান করছে। তাই এগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়। এমওইউ’র বৈঠকে খেলাপি কমানোর পাশাপাশি লোকসানি শাখাও কমিয়ে আনতে বিশেষ নির্দেশনা দেন গভর্নর ফজলে কবির।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, চার ব্যাংকের এমডি, নির্বাহী পরিচালক, পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসিআই, ইউএসএ নামে পরিচিত) কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কার্যক্রম শুরু করে জনতা এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের খরচ মেটাতে ৫০ হাজার ডলার এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী ৫ লাখ ডলার নেওয়া হয়। এছাড়া স্থাপনা, সফটওয়্যার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচের জন্য নেওয়া হয় আরও ৩ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জন্য খরচ হয় সাড়ে ৮ লাখ ডলার বা ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা।

 

এদিকে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হাউসটি প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছে। বিদেশে প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেও দেশে আসেনি প্রায় ১৮ কোটি টাকা—এমন তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

 

এদিকে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ইতালিতে এক্সচেঞ্জ হাউস নিবন্ধিত হয়। ওই বছরের জুন থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির রোম ও মিলানে দুটি শাখা রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে দেশে পাঠানোই এ এক্সচেঞ্জ হাউসের মূল কাজ।

 

জানা গেছে, ২০০২-২০০৮ সাল পর্যন্ত লাভজনক ছিল প্রতিষ্ঠানটি। পরে আয়কর বৃদ্ধি, সীমিত নেটওয়ার্ক, নতুন অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইন, রেগুলেটরি ও কমপ্লায়েন্স বাবদ খরচ বাড়ানোর কারণে ২০০৯ সাল থেকে ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসছে। ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৭১ ইউরো লোকসান করেছে। টাকার অঙ্কে লোকসানের এ পরিমাণ ১২ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার ১৯৩ টাকা। পরে ২০১৫-২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৬ ইউরো বা ১১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৭২৬ টাকা লোকসান করেছে। ৯ বছরে লোকসান ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930