জমজমাট শীতবস্ত্রের বাজার, দামও চড়া

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫

জমজমাট শীতবস্ত্রের বাজার, দামও চড়া

এসবিএন ডেস্ক:
রাজধানীতে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বাজার। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সারাদিনই শীতবস্ত্রের বাজারে ছিলো ক্রেতাদের ভিড়।

কেনাকাটা জমে উঠলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতবস্ত্রের দাম খানিকটা বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তারা বলছেন, এবারের বাজারে শীতের কাপড়ের দাম বেশ চড়া। ফলে কাপড় পছন্দ হলেও দামের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না বাজেট।

তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, সব কিছুর দাম বৃদ্ধির কারণে কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন, শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী, সদরঘাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

ক্রেতা জসিম উদ্দিন চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ছুটির দিন হওয়ায় উত্তরা থেকে জ্যাকেট কিনতে এসেছেন বায়তুল মোকাররম এলাকায়। পুরনো (গাইডের) একটি জ্যাকেট দেখে পছন্দ হলো তার।

কিন্তু দোকানি জ্যাকেটের দাম হাকলেন দুই হাজার টাকা। দাম শুনে হতাশ হয়ে তিনি বললেন, এই টাকায় তো নতুন জ্যাকেটই কেনা যায়। পরে তিনি জ্যাকেট না কিনে সোয়েটার কিনলেন।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনের ফুটপাতে ছেলের জন্য সোয়েটার দেখছিলেন মা নিলুফার ইয়াসমিন। সঙ্গে ছিলেন তার বোন আসমা বেগম ও ভাই রুবেল হাসান।

অনেকক্ষণ বাছাইয়ের পর কয়েকটি সোয়েটার পছন্দ হলেও দাম শুনে দমে যান তিনি। পরে তিনটার জায়গায় দু’টি সোয়েটার কেনেন নিলুফার।

তিনি জানান, সকাল থেকে জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত তিনি ও তার বোন সাতটি দোকান ঘুরেছেন। সব দোকানেই কাপড় পছন্দ হয়েছে তাদের। কিন্তু বাজেট অনুযায়ী কাপড় কিনতে পারেননি।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এবার বাজার বেশ চড়া। আগের বছর ছোটদের যে কাপড় মাত্র দেড়শ’ টাকায় পাওয়া যেতো, এবার তার দাম তিনশ’ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোয়েটার, জ্যাকেট, হাতমোজা, ট্রাউজার, চাদর, মেয়েদের জ্যাকেট, হাফ সোয়েটার থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেকে সুর করে ডাকছেন। অনেকে ফুটপাতে এক দরে বিক্রি করছেন জ্যাকেট-সোয়েটার।

সকাল থেকে রোদের দেখা না মিললেও বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। কর্মব্যস্ত মানুষদেরই বেশি কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।

আর শীত বাড়ায় সুযোগে দোকানিরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, তিনশ’ টাকার জ্যাকেট এবার হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

তবে কম্বলের বিক্রি কিছুটা কম। দামও বেড়েছে। যে কম্বল গতবার বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়, তা এবার বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়।

পল্টন মোড় এলাকার কম্বল ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে তেমন বিক্রি ছিল না। কিন্তু চার-পাঁচ দিন থেকে মোটামুটি বিক্রি বেড়েছে।

এদিকে গুলিস্তানে ছোটদের কাপড় বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এবার ছোটদের ট্রাউজার, জ্যাকেট ও মখমলের কাপড় বেশি পছন্দ করছেন ক্রেতারা।

দাম বেশি কেন জানতে চাইলে গুলিস্তান ভাসানি স্টেডিয়ামের বিপরীত দিকের রাস্তায় বসা দোকানি শাহেনুর বাংলানিউজকে বলেন, সব কিছুর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সুতার দামও। এ হিসেবে কাপড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে।

শাপলা চত্বর এলাকায় রাস্তায় সোয়েটার কিনছিলেন রাশেদ আহমেদ। তিনি জানান, এবার হাফ হাতা সোয়েটারের দাম তিনশ’ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সোয়েটার গতবার তিনি ভাইয়ের জন্য কিনেছিলেন মাত্র দুইশ’ টাকায়।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এলাকায় জিপিও’র সামনের ফুটপাতে কোট কিনতে আসা নাসির উদ্দিন বললেন, এবার কোটের দাম বেশ বেশি। আগে যে কোট হাজার দেড়েক টাকায় পাওয়া যেতো, এখন তা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কোট-ব্লেজার বিক্রেতা জুয়েল জানালেন, শীত বাড়ছে সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে। তবে শীত আরও বাড়লে বিক্রি ভালো হবে।