জলঢাকায় লটারির ড্র বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় অানন্দ মেলায় অাগুন

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২২

জলঢাকায় লটারির ড্র বন্ধ ঘোষণা হওয়ায়  অানন্দ মেলায় অাগুন

মনিরুজ্জামান লেবু ,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় ঈদ আনন্দ মেলায় আকস্মিক উপস্থিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অবৈধ ভাবে চলা র‌্যাফেল ড্র (লটারী) পুরস্কার ও প্যান্ডেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফলে মুহুর্তের মধ্যে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। এসময় লটারী
প্যান্ডেলে আগুন দেখে চলমান সার্কাস প্যান্ডেলের দর্শকগণ আতঙ্কিত হয়ে দিক বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। ঘটনাটি শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার কালিগঞ্জ বঙ্গবন্ধু হাট এলাকায়।

জানা যায়, ঈদুল ফিতরের পরদিন(৪মে) হতে উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বঙ্গবন্ধু হাট বাজার উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে মনিরুজ্জামান মনিকে সভাপতি করে ঈদ আনন্দ মেলা আয়োজন করা হয়। মেলায় সার্কাস,পুতুল নাচ,যাদু খেলা ও ভ্যারাইটি শো চালানো হয়। সার্কাস বাদে পুতুল নাচ,যাদু খেলা ও ভ্যারাইটি শোয়ে অশ্লীলতার অভিযোগে প্রশাসন ১২মে ওইসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। ১৫ মে আয়োজক গণ রশিদুল ইসলামকে সভাপতি করে আবারো একটি নতুন কমিটি সাজিয়ে ২৯ মে পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের নিকট অনুমতি নেন। নতুন সভাপতি
দায়িত্ব নিয়ে সেখানে সার্কাসের পাশাপাশি ‘ ৭১ এর রক্তশ্রাত, কালিগঞ্জ বধ্যভূমির উন্নয়ন কল্পে’ র‌্যাফেল ড্র(লটারী)’র আয়োজন করে।

পিকআপ,ইজিবাইক,চার্জার ভ্যান সহ টেবিলের উপর হাটে বাজারে প্রকাশ্যে মাইকে উচ্চ স্বরে সেসব লটারীর টিকিট গোটা জেলায় বিক্রি করা হয়।

শুক্রবার রাত প্রায় ১২টায় চলমান র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর উপস্থিত হয়ে অবৈধ র‌্যাফেল ড্র বন্ধের ঘোষণা দিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে যায়। এতে ড্র অনুষ্ঠানটি কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ড্র বন্ধ থাকায় উপস্থিত উত্তেজিত টিকিট ক্রেতারা এক পর্যায়ে মঞ্চে সাজিয়ে রাখা পুরস্কারগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মটর সাইকেলসহ পুড়ে যায় ৪৩টি পুরস্কার। এসময় মেলার দায়িত্বে থাকা এসআই নিসার আলী ও ৩ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাক থাকতে দেখা গেছে।

প্রায় ৪৫মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন মীরগঞ্জ পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ আব্দুর রহিম ও জলঢাকা থানার একটি পিকআপ ভ্যানে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর কয়েক মিনিট পর আগুন নেভাতে জলঢাকা ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান ও জলঢাকা
থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং মেলার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন।

লটারী টিকিট ক্রেতা সফিকুল,রজনী ও তাপস রায় জানান, উপজেলার অলিতে গলিতে মাইকিং করে লটারীর টিকিট বিক্রি প্রতিদিনই হচ্ছে। এতোদিনে এই উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব কোথায় ছিলেন ? তার আকস্মিক মঞ্চে এসে এমন ঘোষনার কারণ বুঝলাম না। আমরা যে টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি সে টাকার কি হবে ?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করেই দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার ও কালিগঞ্জ বধ্যভূমি কেয়ারটেকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার জানান, মেলা কমিটি কিভাবে বধ্যভূমির নাম ভাঙ্গিয়ে র‌্যাফেল ড্র করছে আমি জানিনা।এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি রশিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বধ্যভূমিতে পানি জমে থাকায় রং দিয়ে আমরা সংস্কার করবো।

এবিষয়ে জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ কবির বলেন, মেলায় অবৈধভাবে লটারীর আয়োজন করায় উপজেলা চেয়ারম্যান তা বন্ধ করে দেয়। এতে উত্তেজিত জনতা লটারীর মঞ্চে থাকা মটরসাইকেল সহ সব পুরস্কার পুড়ে দেয়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে সেখানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, তাদেরকে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে লটারীর আয়োজন করায় মেলার সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

এনিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা । এছাড়া অবৈধভাবে চলা লটারীর আয়োজন আমাদেরকে বিতর্কিত করছে। তারা যেহেতু বাধা মানছেনা। সেহেতু নিজে গিয়ে লটারি ড্র দিতে নিষেধ করেছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

June 2022
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930