জলদস্যুর চোখ

প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২১

জলদস্যুর চোখ

তৌহিদা নূপুর  

পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর মাত্র এক ভাগ স্থল । তাই
প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীতে জলদস্যু ছিল ।
জলদস্যুরা হলেন জলের দস্যু । যদিও বেশিরভাগ জলদস্যু জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবুও কেউ কেউ উপকূলীয় শহরগুলিতে আক্রমণ করেছিল।মধ্যযুগে আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের খুব উপদ্রব ছিল । এদের বেশীরভাগ ছিল পর্তুগীজ ও মগ । পর্তুগীজরা ফিরিঙ্গী নামে আর মগেরা হার্মাদ নামে পরিচিত ছিল । এখনো স্বদেশী জলদস্যুর অস্তিত্ব আছে ।

জলদস্যুদের আমরা দুষ্ট ও বর্বর বলে মনে করি, তবে প্রকৃতপক্ষে তাদের বেশিরভাগই বাধ্য হয়ে এই পেশা বেছে নিয়েছিল।
তারা প্রাচীন গ্রীসের বাণিজ্য পথে হুমকি দিয়েছিল এবং রোমান জাহাজ থেকে শস্য ও জলপাইয়ের তেলবাহী কার্গো জব্দ করেছিল। পরে, মধ্যযুগের প্রথম দিকের ইউরোপের সর্বাধিক বিখ্যাত এবং সুদূরপ্রসারী জলদস্যুরা ছিল ভাইকিংস।

টর্ডিসিলাসের ১৪৯৪ চুক্তির অর্থ ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আবিষ্কৃত জমিগুলি স্পেন এবং পর্তুগালের মধ্যে বিভক্ত ছিল। তারা স্প্যানিশ এবং ক্যাথলিক আইনের অধীনে শাসিত হয়েছিল।

যদিও এই চুক্তির অর্থ স্পেন এবং পর্তুগাল এই বিভাজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

রানী এলিজাবেথ প্রথমের অধীনে ব্রিটেনের নৌ শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তিনি নাগরিক নাবিকদের স্প্যানিশ জাহাজগুলিতে আক্রমণ করতে, পণ্য চুরি করতে এবং এটি ফিরিয়ে আনতে অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও এটি সম্ভবত বাইরের বিশ্বে, ব্রিটিশদের কাছে জলদস্যুতারূপে হাজির হয়েছিল, এবং এর ফলে ব্রিটিশরা তাকে নায়ক বানিয়ে ফেলেছিল – যেমন স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক।

হাজার হাজার জলদস্যু ১৬৫০–১৭২০থেকে সক্রিয় ছিলেন। এই বছরগুলি কখনও কখনও জলদস্যুতার একটি ‘স্বর্ণযুগ’ হিসাবে পরিচিত। এই সময়কালের বিখ্যাত জলদস্যুদের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকবার্ড (এডওয়ার্ড টিচ), হেনরি মরগান, উইলিয়াম ‘ক্যাপ্টেন’ কিড, ‘ক্যালিকো’ জ্যাক র্যাকহাম এবং বার্থলোমিউ রবার্টস।

এই সময় জলদস্যুদের সংবাদ ধনী-দরিদ্র উভয়ের কানে পৌঁছেছিল। সাময়িক ঘটনাগুলি সম্পর্কে ব্যালাড রাস্তায় গাওয়া হত। এক ডিশ কফির দামের জন্য খবরের কাগজগুলি অবাধে কফি হাউসে পড়া যেতে পারে। আরও কুখ্যাত জলদস্যুদের শোষণ সম্পর্কে মতামতের একটি বর্ণালী ছিল। প্রকাশিত চিত্রগুলি প্রায়শই তাদেরকে শক্তিশালী এবং সজ্জিত হিসাবে দেখায়।

পুরুষদের পাশাপাশি নারী জলদস্যুরাও কম আলোচিত নন ।

ফ্রান্সিস ড্রেক, ব্ল্যাকবার্ড কিংবা ক্যাপ্টেন কিড- জলদস্যুদের জগতে বড় বড় নাম। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ইতিহাসের সফলতম জলদস্যু একজন নারী! ঝেং শি নামের এই চীনা নারী দক্ষিণ চীন সাগরে বলা চলে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিলেন। ইতিহাসে ঝেং শি নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ছিল শিল জিয়াং গু। ‘ঝেং শি’ শব্দদ্বয়ের অর্থ ‘ঝেং এর বিধবা স্ত্রী’। তার প্রথম স্বামীর নাম ছিল ঝেং য়ি। সেখান থেকেই হয়তো তার এই নাম এসেছে।

 

চীনের গুয়াংডং (বর্তমান নাম ক্যান্টন) প্রদেশে ১৭৭৫ সালে জন্মেছিলেন এই নারী। গরিবের মেয়ে ঝেং ছিলেন রূপবতী। যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। সেখানে রূপের কদর করবে কে। ধারণা করা হয় দারিদ্র্যের কারণে অল্প বয়সেই গুয়াংডু প্রদেশে একটি ভাসমান পতিতালয়ে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত হন। ঝেং শি যখন তরুণী, তখন চীনে প্রবল প্রতাপে জলদস্যুগিরি করে বেড়াতো ঝেং য়ি নামের একজন দস্যু। এই দস্যুরাজের সঙ্গে পতিতালয়েই পরিচয় হয় তার। পরবর্তীতে তার সঙ্গেই ঝেং শির বিয়ে হয়। তবে কীভাবে তাদের বিয়ে হলো, কিংবা আদৌ তাদের বিয়ে হয়েছিল কিনা তা নিয়েও রয়েছে নানান যুক্তি তর্ক।

 

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, সেই দস্যুরাজের বাহিনী ঝেং শির ভাসমান পতিতালয়ে আক্রমণ চালায়। তারা ঝেং শির সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে তাদের নেতা সেই দস্যুরাজ ঝেং য়ির কাছে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ঝেং য়ি তাকে বিয়ে করেন। আবার কারো কারো মতে, ঝেং য়ি সরাসরি তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে যত বিতর্কই থাকুক না কেন, দস্যুরাজ ঝেং য়ি ও সুন্দরী ঝেং শি যে ১৮০১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার কিছু প্রমাণ পাওয়া যায় ইতিহাসে। তবের বিয়েতে ঝেং শি একটি অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দেয়। যদি তাকে লুট করা মালামালের বিভাজনসহ সবকিছুতেই অর্ধেক অধিকার দেয়া হয়। তবেই সে সর্দারকে বিয়ে করবে। এদিকে ঝেং শিয়ের প্রেমে পাগলপ্রায় ঝেং য়ি তার সব শর্ত মেনে নেয়।

ঝেং য়ি সেই সময়ের নামকরা দস্যু ছিলেন। তার নের্তৃত্বে কুখ্যাত ‘লাল নৌবহর’ দক্ষিণ চীন সাগরে ত্রাস ছড়াত। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী জলদস্যু গ্রুপগুলোর সঙ্গে জোট তৈরি করেন। ফলে একটি বিশাল দস্যু-জোট তৈরি হয়, যে জোট ক্রমেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এই জোটের সাহায্যে ঝেং য়ি ম্যাকাউ-এর পর্তুগিজ বন্দরে অবরোধ জারি করেন। পর্তুগিজরা তাদের সমৃদ্ধ নৌশক্তি নিয়ে বাধা দিতে আসলে উল্টো পরাজিত হয়ে ফিরে যায়।

 

ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তার জোরে ‘রেড ফ্ল্যাগ ফ্লিট’এর দস্যুদলে নিজের প্রভাব – প্রতিপত্তিও বাড়িয়ে তুলেছিল ঝেং শি। সম্পত্তির ভাগ তো ছিলই, পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতেও এই সময় থেকেই বেশ ভূমিকা নিতে শুরু করেন ঝেং শি। জলদস্যুদের জীবনে সে ছিল এক আশ্চর্য সুসময়। এই দুজনের নেতৃত্বে ২০০ জাহাজের নৌবহর কিছুদিনের মধ্যেই বাড়তে বাড়তে প্রথমে ৬০০ , তারপর প্রায় ১৮০০ জাহাজের এক বিরাট নৌসেনায় পরিণত হয়। নানা রঙের পতাকা দিয়ে সেসব জাহাজের ক্ষমতা প্রকাশ করা হত। দস্যুদলের সর্দারদের জাহাজে থাকত লাল পতাকা। বাকি জাহাজগুলোর মাথাতেও ক্ষমতা আর কাজ অনুসারে নীল, কালো, সবুজ নানারঙের পতাকা।

এই সময় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন ঝেং শি। ওই এলাকার আরেক কুখ্যাত জলদস্যু ইয়ু শি’র সঙ্গে একটা সমঝোতা চুক্তি করেন তারা। এর ফলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দস্যুদের নিজেদের মধ্যে মারামারি , লোকক্ষয়-এসব অনেকটাই কমে যায়। দক্ষিণ সমুদ্রে ক্যান্টোনিজ জলদস্যুদের একটা শক্তিশালী জোট গড়ে ওঠে। তবে দস্যু দলপতি ঝেং ই- এর সুসময় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র দু’বছরের মাথায় এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝসমুদ্রে ভয়ংকর দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। ১৮০৭ সালে সর্দার যখন মারা যান, তখন বাহিনীর দস্যুসংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। অনেক বড় জলদস্যু দল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাঝ সমুদ্রে।

 

স্বামীর মৃত্যুর পর পুরনো জীবনে ফেরেননি ঝেং শি। ঝেং য়ি মারা গেলেও সেই দস্যুদলই হয়ে ওঠে তার নিজের পরিবার। সর্দারের মৃত্যুতে প্রথম প্রথম নেতৃত্ব নিয়ে কিছু অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল ঠিকই, তবে দল ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার আগেই ক্ষমতার রাশ শক্ত হাতে চেপে ধরেন ঝেং শি। সঙ্গে নেন পালিত ছেলে চ্যাং পাও’কেও। বিয়ের পরপরই চ্যাং পাও’কে দত্তক নিয়েছিলেন এই দস্যু দম্পতি। এবার সেই দত্তক নেয়া ছেলেই সর্বশক্তি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন ঝেং শি’র পাশে ।

নেত্রী হিসাবে একদিকে যেমন দক্ষ ছিলেন, তেমনই কঠোর ছিলেন ঝেং শি। সামরিক কৌশল, ব্যবসার ফন্দিফিকির সবটাই খুব ভালো বুঝতেন ঝেং শি। নিয়মকানুনের অটিসটি বাঁধনে পুরো দলকে বেঁধে রেখেছিলেন তিনি। ডাকাতি পিছু নিয়ম করে দস্যুরানিকে রীতিমতো ট্যাক্স দিতে হত সেসময়। লুঠ করা মালের ৮০ % ই যেত দস্যুদের সমবায় তহবিলে। সর্দার বা ক্যাপ্টেনের কথাই ছিল দলের শেষ কথা। যেকোনো বিদ্রোহকেই বত্র মুঠিতে দমন করতে জানতেন দস্যুরানি ঝেং শি।

 

তিনি নিয়ম করলেন , পুটতরাত করে সমুদ্র তীরের গ্রাম থেকে যেসব মেয়েদের ধরে আনা হয় , তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মেয়েদেরই বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে। সুন্দরী বন্দিনীদের উপর কোনো রকম শারীরিক নির্যাতন বা যৌন অত্যাচার করা যাবে না। নারী বন্দিদের সঙ্গে দস্যুদলের কেউ সঙ্গম করার চেষ্টা করলে তার জন্য অপেক্ষা করে থাকত কঠিন শাস্তি। তবে বন্দিনী মেয়েটির ইচ্ছে অনুসারে, তার মত নিয়ে যদি দস্যুদের কেউ তাকে বিয়ে করতে চায়, একমাত্র তবেই অনুমতি মিলত। সেখানেও শর্ত ছিল , বিবাহিত মেয়েটির প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হত সেই দস্যুকে। অন্যথায় মুণ্ডচ্ছেদ।

মেয়েরা যাতে কোনো ভাবেই জলদস্যুদের লালসার শিকার না হয়, সে ব্যাপারে বেশ কঠোর ছিলেন ঝেং শি।সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তার দস্যুবাহিনী নিয়মিত আক্রমণ করত। ফলে সমুদ্র তীরবর্তী বিশাল অঞ্চলে ঝেং শির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়। এসব অঞ্চল থেকে তিনি তার দস্যুবাহিনীর মাধ্যমে কর আদায় করতেন।

 

একসময় ঝেং শির আধিপত্য এত বেশি অঞ্চলে বিস্তৃত হয় যে, চীনা রাজবংশের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চীনা রাজবংশ ব্রিটেন এবং পর্তুগালের সাহায্য নিয়ে তাকে পরাস্ত করতে নৌ-অভিযান প্রেরণ করে। তবে ঝেং শির বিশাল বাহিনীর কাছে তারা টিকতেই পারেনি। শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। এমনকি সম্মিলিত রাজকীয় বাহিনীর ষাটটি জাহাজ দখল করে নেয় ঝেং শির দস্যুরা।

 

উপায়ান্তর না দেখে চীনা রাজবংশ সুন্দরী দস্যুরানি ঝেং শিকে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। সমঝোতা অনুযায়ী, লুটের মালামাল নিজের কাছে রাখার নিশ্চয়তা পান। যেসব অঞ্চলের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেসব রাজবংশের হাতে ন্যস্ত করেন। এছাড়াও সমঝোতার ফলাফল হিসেবে দস্যুরানি তার ‘ডান হাত’ খ্যাত পালিত পুত্র চ্যাং পাওকে বিয়ে করেন। অদ্ভুত শোনালেও সত্য।

কিন্তু হঠাৎ করেই কেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দস্যুরানি সরকারের সমঝোতা প্রস্তাবে সাড়া দিলেন? এর জবাবে অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, প্রয়াত ঝেং য়ির সময় যে দস্যুগ্রুপগুলো নিয়ে জোট গঠন করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এটি একটি কারণ। এছাড়াও ঝেং শির ‘সমুদ্রে ভেসে ভেসে বেড়ানো’ জীবন আর ভালো লাগছিল না। তাই তিনি রাজবংশের সমঝোতা প্রস্তাবে সায় দেন।

 

জলদস্যুদের আরও একটি মজার ব্যাপার ছিল ,তারা একচোখ ঢেকে রাখতে কালো কাপড় দিয়ে, কিন্তু তারা এই একটি চোখ ঢেকে রাখার কারণ এটা নয় যে তাদের একটি চোখ আঘাতগ্রস্ত। তাদের এই একটি চোখ ঢেকে রাখার কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। এবং এটা ছিল কিছু বুদ্ধিমান জলদস্যুর একটি অনেক চতুর কৌশল।

আমাদের চোখে কতটা আলো প্রবেশ করবে তা নির্ধারিত করে তারারন্ধ্রের মাধ্যমে। চারপাশের আলো বেশি মাত্রা হলে চোখের ভেতর আলো প্রবেশের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং তারারন্ধ্র ছোট হয়ে যায়। এবং অল্প আলোয় দেখতে চোখের ভেতর কিছু আলো প্রবেশ বাড়াতে হয় এবং এতে তারারন্ধ্র বড় হয়ে যায়। এই ছোট বড় হওয়ার কাজটিতে কিছুটা সময় লেগে যায় বলে এবং অন্ধকার থেকে হঠাৎ করে উজ্জ্বল আলোয় গেলে আমাদের দেখতে অসুবিধা হয় এবং উজ্জ্বল আলোর এলাকা থেকে অন্ধকার জায়গায় হঠাৎ প্রবেশ করলে আমরা সহজে কিছুই দেখতে পাই না।

জলদস্যুরা সবসময়ই সমুদ্রে চলনশীল অবস্থায় থাকে। সমুদ্রের আবহাওয়া স্থলভাগের চেয়ে অধিক দ্রুত পরিবর্তনশীল।জলদস্যুদের বাঁচার জন্য আলো ও অন্ধকার কুপ সব জায়গাতেই বিচরণ করতে হতো! কিছু সময় তারা আলোতে থাকলে পরবর্তী কিছু সময়ের মধ্যে তাদের অন্ধকারে যেতে হতে পারে৷ তাই কিছু কিছু ইরাক জলদস্যু একটি চোখ পট্টি দিয়ে ঢেকে রাখতে ৷ তাছাড়া জাহাজের উপরে যতই আলো থাকুক, ডেক বা তলদেশ অনেকটাই ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ করে অনেক আলো থেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় দেখতে অসুবিধা হয় , আবার খুব অন্ধকার থেকে হঠাৎ করে আলোতে গেলে সেখানে তাদের খাপ খাওয়াতে বেশ কিছুটা সময় লাগে।

উজ্জ্বল সূর্যের আলো থেকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে দেখার জন্য চোখ গড়ে ২৫ মিনিটের মতো সময় নেয় — যদি কোনও জলদস্যু সূর্যের আলোতে ডেকের উপর লড়াই করে থাকে, তবে ডেকের নীচে লড়াইটি চালিয়ে যেতে হত যেখানে এটি বেশ অন্ধকার হয়, এটি হতে পারে তাদের চোখ সামঞ্জস্য করতে এবং জলদস্যু দেখতে সক্ষম হতে খুব বেশি সময় নিন। চোখের প্যাচটি অন্ধকারে দেখতে একটি চোখ প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, সুতরাং যখন তারা ডেকের নীচে যেত তখন তারা চোখের প্যাচটিকে এক চোখ থেকে অন্য চোখের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে এবং চোখের সাহায্যে দেখতে পেত যে ইতিমধ্যে কম আলো অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য হয়েছে। এটি তাদের তাত্ক্ষণিক অন্ধকারে দেখতে দেয়।

তাই একচোখে পটি বাধা রাখা অবস্থায় যখন কোন জলদস্যু ডেকে যেত তখন যার দুই চোখই খোলা তার চেয়ে অনেক দ্রুত অ্যাডাপ্ট করতে পারতো।তাছাড়া শত্রুদল আর জলদস্যুরা যেহেতু হঠাৎ করে আক্রমণ পরিচালনা করে, তাই তাদের জাহাজের ডেকের উপরে বা নিচে খুব দ্রুত চলাচল করতে এই আলো অন্ধকার খেলার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে দূর্বল করে দিতো। তাই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পাইরেটসরা বা জলদস্যুরা দিনের বেলা প্রায়ই একচোখে পট্টি বেধে রাখতেন ।

তথ্যসূত্র ; ইন্টারনেট

ছড়িয়ে দিন