জহির করিমের প্রথম উপন্যাস ‘’মেঘমালা”

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

জহির করিমের প্রথম উপন্যাস ‘’মেঘমালা”

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ উপলক্ষে প্রকাশক শিহাব বাহাদুরের প্রকাশনা সংস্থা মুক্তচিন্তা থেকে প্রকাশিত হয়েছে, নাট্যকার ও ফ্যাশন ডিজাইনার জহির করিমের প্রথম উপন্যাস মেঘমালা। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় একজন নারী কিভাবে সমাজের পরতে পরতে নানারকম প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হন এবং সমাজের নির্মম পাশবিকতা থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষার জন্য সেইসব প্রতিবন্ধকতা মুখ বুঝে সইতে সইতে নিজেকে কিভাবে অবলীলায় একজন নারী বলিদান করতে পারেন, সেই অনবদ্য গল্পই অসাধারণ ব্যঞ্জনায় লেখক সফলভাবে তোলে ধরেছেন। নিজের লেখা প্রথম উপন্যাসটি লেখক উৎসর্গ করেছেন, নিজের মা মরহুমা রওনাক মহল দিলদার করিম এবং বাবা মরহুম এম. এ. করিমকে। মেঘমালার সাবলীল প্রচ্ছদ একেছেন, পলাশ লোহ। মেঘমালা পাওয়া যাচ্ছে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মুক্তচিন্তা’র ২১৮, ২১৯,২২০ নং স্টলে।

প্রথম উপন্যাস ‘মেঘমালা’ প্রসংগে জহির করিম বলেন, “আমাদের চারপাশে সারাদিন অনায়াসে ভাসতে থাকে নানা সঙ্গতি-অসঙ্গতি, ক্রমাগত ঘটতে থাকে বহুমূখী ঘটনা। এই সমস্ত সঙ্গতি-অসঙ্গতি বা ঘটনাগুলো নিয়ে কাগজে কলমে খেলতে ভালো লাগে আমার। আর এই খেলাটা এতোদিন কেবল নাটকের স্ক্রিপ্টেই খেলেছি; খেলতে গিয়ে দেখেছি ইচ্ছে মতোন খেলা যায় না – অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে খেলতে হয়। তাই এখন খেলার এক নতুন স্বাধীন মাঠে প্রবেশ করেছি। যে মাঠের নাম ‘উপন্যাস’। স্বপ্ন দেখছি- এখানে নিয়মিত খেলবো। ‘মেঘমালা’ আমার প্রথম উপন্যাস। এই উপন্যাসের ‘মেঘমালা’ চরিত্রটি একসময়কার মধ্যবিত্ত নারী-সমাজের নির্মম বাস্তবতার প্রতীক’- এই ব্যাপারটা কতটুকু ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি তার বিচার পাঠকদের হাতেই ছেড়ে দিলাম।”

উল্লেখ্য যে, জহির করিম একজন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। একাধারে ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার, নাট্যকার এবং অভিনেতা। বর্তমানে নিজের প্রতিভাকে মেলে ধরলেন একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে। জহির করিমের চিন্তা ও চেতনায় বিরাজ করে অসাধারণ সৃজনীশক্তি। পারিপার্শ্বিক যে কোন পরিস্থিতি বা বিষয়কে সৃজনশীলতা প্রয়োগের মাধ্যমে অসাধারণ ব্যঞ্জনায় প্রকাশের দৃঢ়তা দেখাতে পছন্দ করেন তিনি। সম্ভবত এটাই একজন জাত শিল্পীর বৈশিষ্ট। সেই অর্থে জহির করিমকে একজন জাত শিল্পী বললে ভুল হবে না।

জহির করিমের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩০ জানুয়ারী কুমিল্লার একটি সম্ভান্ত পরিবারে। ওনার নানা ছিলেন কুমিল্লার একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী। যুক্তফ্রন্টের সময় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। দাদা ছিলেন ত্রিপুরা ডিস্ট্রিক্টের প্রথম মুসলিম ডাক্তার। জহির করিমের বাবা জনাব এম.এ. করিম কুমিল্লার একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ছিলেন। মা বেগম দিলদার করিম ছিলেন কুমিল্লার পূর্ণাংগ ইংরেজী মাধ্যম স্কুল এথনিকা ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা ও একজন সুগৃহিণী। ছ’ভাই বোনের মধ্যে জহির করিম সর্বকনিষ্ঠ। স্ত্রী শম্পা করিম ও একমাত্র ছেলে অন্তরীপ করিমকে নিয়ে জহির করিমের সুখী সংসার।

জহির করিম পেশাগতভাবে ভিজ্যুয়াল মিডিয়া প্রোডাকশন ফার্ম- অন্তরীপ প্রোডাকশন্স, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল স্টুডিও- কারিমস ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ফার্ম- অথেনটিক এসোসিয়েটস এর কর্ণধার এবং কুমিল্লার পূর্ণাংগ ইংরেজী মাধ্যম স্কুল ‘এথনিকা ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ফ্যাশন ডিজাইনের পাশাপাশি ৬০ টির বেশি নাটক রচনা করেছেন যার সব’কটিই বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার হয়েছে, দর্শক নন্দিত হয়েছেন তিনি। “অন্তরীপ প্রোডাকশন্স’ থেকে এ পর্যন্ত ১০০ টির অধিক এক ঘন্টার নাটক ও একটি ৫২ পর্বের ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। নাটক রচনা ও নির্মাণের পাশাপাশি ২৫ টির মতো টিভি বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করেও পেয়েছেন সফলতা।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এপর্যন্ত অগনিত সম্মাননা অর্জন করেছেন জহির করিম। সেগুলোর মধ্যে,
নাট্যকার হিসেবে- আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা- ২০২০, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সম্মাননা পদক-২০১৬, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক স্মৃতি সম্মাননা পদক-২০১৬ ও বিজয় দিবস সম্মাননা পদক- ২০১৬; ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে- বাবিসাস এওয়ার্ড-২০১৫ এবং ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে একাধিক বার বাবিসাস এওয়ার্ড, বাচসাস এওয়ার্ড, সিজেএফবি এওয়ার্ডসহ আরও অগনিত এওয়ার্ডসমুহ উল্লেখযোগ্য।

ছড়িয়ে দিন