জাতীয় সংকট ও উত্তরণের প্রতিবন্ধকতা

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

জাতীয় সংকট ও উত্তরণের প্রতিবন্ধকতা

 

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও মূলত বাংলাদেশের যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন । স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এর মাত্র একদিন পরেই ১২ জানুয়ারি তিনি সরকার গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চোখে স্বাধীনতার অনেক পূর্বেই একটি স্বপ্ন ছিল এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে তার বিভিন্ন পরিকল্পনা ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর পরই বাংলাদেশের গ্রান্ড ডিজাইন বাস্তবায়নের কাজটি শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সূচনালগ্নটি আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা। পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তনও হয়েছে। তবে, স্বাধীনতার পর থেকেই এদেশে উল্লেখজনক সংকট ছিল। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল একটি কৃষি ভিত্তিক সমাজব্যাবস্হা। শিক্ষার হার ছিল অত্যন্ত নাজুক। পেশাজীবি মানুষের অধিকাংশই ছিল নিম্ন আয়ের লোকজন। পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলে শিল্প প্রসার ঘটেনি। পাকিস্তানের জান্তা শাসক শ্রেনীর একটি লক্ষ্য ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের জনগোষ্ঠীর মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করা। দুই দেশের ভাষাগত পার্থক্য জান্তা শাসকের লক্ষ্যকে বিশেষভাবে সফল করে তুলেছিল। সরকারি ও বেসরকারি খাতে জাতীয় বরাদ্দও বৈষম্যমূলক ছিল। পাকিস্তানের প্রশাসনের উচ্চ পদে বাঙালীর জন্য সুযোগ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। ১৯৭২ সালের সামাজিক বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর নির্ভর করেই সরকারকে প্রথম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা ঘোষনা করতে হয়েছে। ১৯৭২ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও ভৌগলিক সম্পদের ভিত্তিতেই সরকার লক্ষ্য করেছিল ক্ষুদ্র ব-দ্বীপ রাষ্ট্রের ঘনবসতিপূর্ণ সমাজে দারিদ্রতাই মূল সংকট। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রথম সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই মুখোমুখি হয়েছিল একটি বিশাল দারিদ্র জনগোষ্ঠীর। বঙ্গবন্ধু এজন্যই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যেহেতু তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করতে পেরেছিলেন সেহেতু তিনি ভেবেছিলেন দারিদ্র দূর করতেও তিনি সফল হবেন। মূলতঃ এই সংকটের উপর দাড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর সরকারের হাতে বিভিন্ন কর্মসূচী নিতে হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছিল। প্রথম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। আমার কাছে সেটি আজও সংগৃহীত রয়েছে। আমি সেটি বারবার পাঠ করেছি এবং লক্ষ্য করেছি সেখানে আজকের বৃহৎ পরিকল্পনাগুলোও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর তার নেপথ্যেও ছিল একটি গ্রান্ড ডিজাইন বাস্তবায়নের স্বপ্ন। যাকে প্রতীকী ভাষায় বলা হয়েছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার একটি স্বপ্নের কথা। বাংলাদেশ অবশ্য সেই পথেই এগিয়েছে। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিদ্যুত সংযোগ দিতে পেরেছে ইতিমধ্যেই। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী আজ শতভাগ বিদ্যুত সেবার আওতায় চলে এসেছে। এদেশে আজ কৃষি বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের কারনেই। বাংলাদেশের ব্যাংক রিজার্ভ বেড়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা বেড়েছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ঐতিহাসিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে আভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে। দেশের বড় বড় নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রস কালেকশন স্থাপিত হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো আধুনিক হয়েছে এবং পরিবহণ বিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি যেমন হয়েছে তেমনি গুণগত পরিবর্তনও হয়েছে। শিক্ষা অবকাঠামোর পরিবর্তনও হয়েছে। শিক্ষার মান বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকার বিনামূল্যে পুস্তক সরবরাহ করছে সরকার। স্বাস্থ্য সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়াও হয়েছে। নাগরিক সুবিধাদী বৃদ্ধি হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। সরকার গৃহহীনদের গৃহ দিয়েছে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর রয়েছে। ছিটমহল প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে সমঝোতার ভিত্তিতেই ছিটমহলকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছিটমহলবাসী এখন নিজ নিজ দেশের নাগরিক। বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। এদেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে শিল্প কলকারখানা। লক্ষ লক্ষ পরিবার শিল্প কলকারখানায় কাজের সুবিধা পেয়েছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও পূর্বের চেয়ে অধিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বীমা বৃদ্ধির ফলে আর্থ-সামাজিক ভিত্তি মজবুত আকার ধারন করেছে। সমুদ্র বন্দর ও নদী বন্দরগুলো আধুনিক করা হয়েছে। মাতারবাড়িতে গড়ে উঠেছে গভীর সমুদ্র বন্দর। খুলনার পায়রাবন্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরেকটি গভীর সমুদ্র বন্দর। পদ্মার উপর নির্মিত সেতুর ফলে অত্যাধুনিক যাতায়াত ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিনাঞ্চলে। জাতীয় উৎপাদনে এর ভূমিকা হবে চলতি শতাব্দীর এক নতুন রেকর্ড। পার্বত্য অঞ্চলের নাগরিকদের জীবন মানের পরিবর্তনও হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছেছে বিদ্যুত ও নাগরিক সেবাসমুহ। বাংলাদেশের সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে কোনো বৈষম্য নেই আজ। রাজধানীর সাথে যেমন বৈষম্য নেই আজ প্রান্তিক এলাকাগুলোর। সকল সেবা আজ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এই গ্রান্ড ডিজাইন বাস্তবায়নের পেছনে আওয়ামী লীগ সরকার সত্যিকার ভাবেই সফল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে এদেশের নাগরিক সমাজ চিরদিন স্মরণ রাখবে। শেখ হাসিনার প্রতি জনসমর্থনও দিন দিন বেড়েছে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকার কারনেই। বাংলাদেশ আজ আর শুধুই কৃষি ভিত্তিক সমাজ নয়। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী এখন শুধু আর বিদেশের সাহায্য সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল নয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সফলতার নজির সৃষ্টি করেছে। আইলা, আমফান, সিডর এর কারনে বাংলাদেশের ক্ষতি হলেও সরকার সেসব ক্ষতি পূরণে সফল হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক

দুর্যোগ সম্পর্কে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে সচেতন হতে অনুরোধ জানিয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে বাংলাদেশ জাতিসংঘে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছে বিগত বছরগুলোতে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে। কিন্ত বাংলাদেশেরও রয়েছে অনেক জাতীয় সংকট। জাতীয় সংকট সম্পর্কে বিশ্লেষণের পূর্বে জাতীয় সংকটের গোড়ার কথা আমাদের মনে করতেই হবে। যেহেতু আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি একটি সম্পূর্ণ দারিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর দাড়িয়ে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের যাত্রা শুরুর কথা। সেখানেই আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে শুরুতেই। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংকট ছিল দারিদ্র জনগোষ্ঠী। ছিলনা শিল্প ও শিক্ষার সুযোগ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার কারনে শিশু মৃত্যুর হার ছিল অত্যধিক। মানুষের গড় আয়ুও ছিল অত্যন্ত কম। সেটা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদ ম্যালকমের তত্ত্ব অনুসারে দারিদ্রের দুষ্ট চক্র থেকে বাংলাদেশ কোনক্রমেই বের হতে না পারলেও গুড গভর্নেস এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ সেই অসাধ্য কাজটি সফল করতে পেরেছে। বাংলাদেশ দারিদ্রের দুষ্ট চক্র থেকে বেরিয়ে পরেছে। ইকোনোমিস্ট ম্যালকম হোক আর ফরেন মিনিস্টার হ্যানরী কিসিঞ্জারই হোক বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের তত্ত্ব ও ধারনা এখন আর কার্যকর হবে না। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এসব সংকট মোকাবেলা করতে পেরেছে। দারিদ্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত, যোগাযোগ, কৃষি এসকল স্তরের জাতীয় সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ অনেক সফল হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকট এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় সংকট সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসেও এই সংকট চরম আকারে লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই সংকট সৃষ্টির পেছনে হেফাজত-ই ইসলামের সম্পৃক্ততা সরকার সুনজরে দেখেনি। ধর্মীয় উসকানীর মধ্য দিয়ে হেফাজত-ই ইসলাম বাংলাদেশে ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনকে কেন্দ্র করে তার বিরোধীতাই শুধু করেনি বরং তারা সমাজে সহিংসতার ও সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সাংবিধানিক ভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও এদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো কখনো কখনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইতিপূর্বেও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ লক্ষ্য করা গিয়েছে। মূলতঃ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিগুলোই মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের মদতদাতা ও পৃষ্ঠপোশক। বাংলাদেশকে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য অপর একটি সংকট এই ডেল্টা ল্যান্ড জনগোষ্ঠীর উপর মরার উপর খারার ঘা হয়ে রয়েছে বিগত পঞ্চাশ বছর। তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হলেও আজ পর্যন্ত তিস্তার পানি বন্টন সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রতি বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমেই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক শিথিল হয়ে ওঠে। দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ন হলেও তিস্তার পানি বন্টনে দুই দেশই এক অবস্থানে পৌঁছতে ব্যার্থ হয়েছে। তিস্তা অববাহিকা’র মানুষজন কৃষি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তা চুক্তি সংগঠিত না হওয়ার কারনে। বিষয়টির প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। হাজার হাজার নদীর প্রবাহে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘূর্নয়মান। সেজন্যই নদীর প্রান বাঁচিয়ে নদীগুলোকে প্রবাহমান রাখা এবং নদী শাসন করে যৌক্তিক পানি সম্পদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বড় একটি সংকট মাদক ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা। সীমান্ত সীমারেখা ভেদ করে এদেশে মাদক আসে যেটা সরকারকে দমন করতে হবে। বাংলাদেশকে ‘বর্ডার নারকটিক্স গার্ড’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। দেশের অভ্যন্তরে মাদক নির্মূল করতে হবে। এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই দেশে মদের বার বাড়াতে হবে। বেকার সমস্যার সমাধান হয়নি আজও। বৈদেশিক কর্মসংস্হান বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এই সংকট এর সমাধান করতে পারে সহজেই। এজন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর অন্যতম জন রপ্তানির দেশ। দূর্নীতি ও ঘুষ বাংলাদেশের জন্য একটি অসনি সংকেত। যেভাবেই হোক এসব প্রতিহত করতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্নীতি ও ঘুষ ঢুকে রয়েছে। বাংলাদেশকে সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য করতে হবে যে আমাদের জাতীয় সংকট আর পূর্বের অবস্থানে নেই। যেহেতু বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমে সেহেতু ডিজিটাল অপরাধও দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তির সুব্যাবহার জরুরী। ডিজিটাল আইনটিকেও পূনঃবিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করছি। ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সমাজে চরম বিপর্যস্ত ডেকে আনতে পারে। সরকারের সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে এখনই। রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যার জন্য কোটি কোটি কর্ম সময় নষ্ট হয় প্রতি বছর। সরকারকে বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ট্রাফিক জ্যাম ও সমস্যার জন্য যে পরিমাণ ফুয়েল অপচয় হয় প্রতিবছর সেটা রক্ষা করতে হবে সরকারের। ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দূর্নীতির দমনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাকে সুস্পষ্ট করতে হবে। যেহেতু রোহিঙ্গাদের রিফ্যুজি করে বাংলাদেশ যুগান্তকারী উদাহরন সৃষ্টি করেছে সেহেতু বাংলাদেশকে বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রত্যাবর্তন ও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত পালন করতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য সংকটগুলো সমাধান করতে সরকারকে আগের চেয়েও সচেষ্ট হতে হবে। জাতীয় সংকট সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকলে বাংলাদেশ খুব দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারবে। রাষ্ট্রের বিপক্ষের শক্তিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা না হলে জাতীয় সংকট অচিরেই দীর্ঘ হবে বলে আমার ধারনা। কারন, ১৯৭১ সালের পর থেকেই এদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষের একটি চক্র বাংলাদেশের ব্যর্থতার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের মধ্য দিয়ে তারা আবার পূনঃগঠিত হবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার একটি বড় উদাহরন জাতীয় নির্বাচনে দেশের শীর্ষ একটি

রাজনৈতিক দলের বয়কটের ঘোষনা দেয়া ও বয়কট সফল করা। এজন্যই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে শক্ত হাতে সরকারকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে এখনই। বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে সকল অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত রেখে। এবং জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি রোধ করতেই হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জাতীয় সম্পদের সুব্যাবহার ও অপচয় রোধ করার মধ্য দিয়ে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকারের জনসচেতনামূলক কাজে প্রান্তিক মানুষের সমর্থন ও সংশ্লিষ্টতা জরুরী। অন্যথায় ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব মহামারীর সংকট কালে বাংলাদেশের জনগনের সতর্কতা ও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। অবশ্যই বাংলাদেশকে সফলভাবে মহামারী মোকাবেলার সকল পদক্ষেপ ও কর্মসূচী হাতে নিতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com