জাফর ইকবাল তরুণ সমাজের কাছে সক্রেটিস

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৮

জাফর ইকবাল তরুণ সমাজের কাছে সক্রেটিস

শিরিন ওসমান

কোনো ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করে দেয়। মানুষ ভাবতে থাকে আমিও কী নিরাপদ? এ কি হচ্ছে চারপাশে ? সংসার সন্তান সামাজিক জীবন, যা একজন স্বাধীন দেশের মানুষের অধিকার, ঠিক সেই জায়গাটিতে যেন ফাটল ধরানোর চেষ্টায় লিপ্ত এক শ্রেনীর যুক্তিহীন অন্ধ মানবকুল। তাদের গড়ে তোলা হয় একটি ট্র্যাকে। বলা হয়, ‘তোমরা ওকে মারলে বেহেস্ত পাবে’।আরে,দুনিয়ায় কত কী ঘটে চলেছে তার খোঁজ খবর নাও ? তোমাদের নিজেদের মরন ফাঁদ তোমরাই তৈরী করছো।

এতক্ষন কথাগুলো লিখে চলছি, কারন আমি আতঙ্কিত। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ধস নেমেছে । পুরো জাতি এর কুফল ভোগ করা শুরু করছে। মাদ্রাসা অলিতে, গলিত গ্রামে-গঞ্জে গড়ে উঠেছে। এরা না জানে আরবি না জানে বাংলা। ইংরেজী জানার কথা এখানে আনা অবান্তর।

বলা হয় শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেগম রোকেয়া এই মেরুদন্ড তৈরী করে গিয়েছিলেন। রাজা আসে রাজা যায়। কিন্তু শিক্ষা যায় না। কেউ নিতেও পারে না।শিক্ষা ব্যবস্থা যদি রাজনীতিকরন হয় এর কুফল ভোগ করতে হবে জাতিকে।

শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নৈতিকতা নিয়ে যে কয়জন উদাত্ত চিত্তে উচ্চ কন্ঠ হন তাদের মাঝে ড. জাফর ইকবাল অগ্রগণ্য। তিনি যেহেতু যুব সমাজের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন, তাই তাকেই টার্গেট করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত করলে রাষ্ট্রের পুরোকাঠামো ভেঙে পড়ে।সেই কাজটি ই করা হয়েছে।

শিক্ষিত মুক্তমনা তরুন সমাজ জাফর ইকবাল কে আইডল মনে করে। এখানে সক্রেটিসের প্রসংগ উঠে আসে। সক্রেটিসের প্রতি অনুরক্ত সচেতন যুবসমাজ আকৃষ্ট ছিল।কারণ সক্রেটিস জ্ঞানের কথা বলতেন। যুক্তির কথা বলতেন। মানুষ কে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে বলতে্ন। প্রশ্ন করার কথা বলতেন। মুক্তমনে জ্ঞান আহরনের কথা বলতেন। জাফর ইকবাল একজন শিক্ষক, যিনি কিনা যুবসমাজের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।যুবসমাজ যেন পথের দিশা পেয়েছে।তিনি পজেটিভ মানসিকতা তার ছাত্রদের দিতে পেরেছেন। এটি কে আশীর্বাদ হিসাবে আজকের মুক্তমনা যুবসমাজ মনে করে।
জাফর ইকবাল তার একটি শিশু সাহিত্য পুস্তকে সোলায়মানের ভুত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সোলায়মান তো খ্রীষ্টান ইহুদিদেরও নবী। তারা তো কখনো এর প্রতিবাদ করে না? তারা পৃথিবী চালাচ্ছেন । তারা জানে কোনটি বেকুবীপনা।কারন তারা বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত।

ড. জাফর ইকবালের ওপর আঘাত অনেক গুলো প্রশ্নের জানান দেয়। এগুলো বিশ্লেষণ করা জরুরী হয় পড়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে সরকারের নিতে হবে। এই ঘটনা বিশাল আকারে রূপ নিতে দুর্বৃত্তরা ওত পেতে বসে আছে। এখনি সময় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য উৎসর্গ করার । জাফর ইকবাল এবার বেঁচে গেছেন। বারবার তো হত্যাকারীদের সুযোগ দেওয়া যায় না!