জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি নিবেদন

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি নিবেদন

নূরুল আনোয়ার

আমি যেহেতু কোন নির্দিষ্ট দল করিনা, নির্দিষ্ট ইজমের অনুসারী নই, কাজেই আমার ফেসবুকের প্রতিটি স্ট্যাটাসে কোন না কোন পক্ষের বিরাগভাজন হতে হয়। আমি যদি কোন দলের পক্ষে বলি তখন সে দলের ফেসবুক সমর্থকরা খুশি, যখন তাদের বিরুদ্ধে বলি তখন তারা রাগে গরগর করেন।

আমি জামায়াতে ইসলামী কর্মী বা সমর্থক ছিলামনা, এখনো নই, মাঝে মধ্যে ফেসবুকে তাদের হয়ে যে লেখালেখি করেছি, তা করেছি ইসলামের জন্য, জামায়াতের বিশাল সংখ্যক সমর্থক আছেন, তাদেরকে শ্রদ্ধা করি শুধুমাত্র ইসলামের জন্য।
আমার সাবজেক্ট ইসলাম, দল জামায়াতে ইসলামী নয়।

জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য আমাকে হাজার হাজার বার, কাদের মোল্লার নতুন সংস্করণ, ছুপা জামায়াতি, রাজাকারদের দোসর ইত্যাদি গালি হজম করতে হয়েছে। এই হজম করাটাও ছিলো ইসলামের জন্য।

এইদেশে জামায়াতের যে কোন ভালো প্রচেষ্টা গ্রহণ যোগ্য হিসাবে জন মানুষের কাছে গৃহীত হয়না, হয়না ৭১ সালের তাদের বিপরীত মুখি অবস্থানের জন্য।

মানুষের শরীরে আঘাত জনিত দাগ সৃষ্টি হলে সময়ের সাথে সাথে দাগটি শরীর থেকে মুছে গেলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭১ সালের দাগ মুছে না গিয়ে দিনদিন আরো প্রকট আকারে প্রকাশিত হচ্ছে।

আমি যে ইসলামের স্বার্থে জামায়াতকে নৈতিক সমর্থন দিচ্ছি, বিগত ৪৩ বছরেও তার ইতিবাচক কোন ফল দেখতে পাচ্ছিনা।

আমি বুঝি বাংলাদেশে ইসলামকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের কোন বিকল্প নেই। আমাদের জাতির চারিদিকে যখন নৈতিকতার অধঃপতন দিকে দিকে প্রবল হচ্ছে, তখন জামায়াতে ইসলামী একদল উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন কর্মীবাহিনী গড়ে তোলতে পেরেছে।

কিন্তু আদর্শবাদী বিশাল কর্মী বাহিনী তারা বাস্তবতার চেয়ে ভাবাবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তারা বুঝতে চাচ্ছেননা যে, বর্তমান বাংলাদেশে তাদের একচুল পরিমান জায়গা নেই, যেখানে দাড়িয়ে তারা একটু স্বস্থির নিশ্বাস গ্রহণ করবে, তেমন নেই এক তিল পরিমাণ বিশ্বের কোথাও যেখানে তারা এক মুহুর্তের জন্য নিরাপত্তা লাভ করবে।

এই স্ট্যাটাসটি সেই সব উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ভাই বোন আর বন্ধুদের জন্য লিখছি, তাও ইসলামকে ভালোবাসার জন্য।

বন্ধুরা আসুন আমার সাথে, আমরা ইতিহাসের ৪৭ বছর আগে, বিচার বিবেচনা করে নেই, সে সময়ের ভূ রাজনৈতিক বাস্তবতা কি ছিলো।

৭৫ সালে বাংলাদেশে যে পট পরিবর্তন হয়েছিলো যাকে এন্টি আওয়ামীলীগ, এন্টি শেখ মুজিব, এন্টি ভারতীয়রা, আল্লাহর বিচার, আল্লাহর রহমত বলে অতি আবেগী মূল্যায়ন করেন, আমি আজ সব ধরণের আবেগতা বাদ দিয়ে শুধু মাত্র বাস্তবতার প্রেক্ষাপট নিয়ে পোষ্টমর্টেম করবো।

সে সময়কে বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে দেখা যায় যে, সে সময়ে পৃথিবীতে প্রধান দুটি শক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছিলো, তারই আঞ্চলিক উপস্থিতির প্রকাশ ঘটেছিল ১৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনে।

আমরা জানি মার্কিন সরকার ছিলো, ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের মিত্র। সে কারণে মার্কিন সরকার চায়নি পাকিস্তান ভাগ হয়ে ভারতের মাধ্যমে উপমহাদেশে সোভিয়েত ব্লক শক্তিশালী হোক।

কিন্তু মার্কিনীদের না চাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানীদের কর্তৃক ব্যাপক গণহত্যার ফলে পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়ে যায়।

বাংলাদেশ সৃষ্টির সাথে সাথে মার্কিনরাও সে বাস্তবতা মেনে নিয়ে তারা নতুন প্রচেষ্টা শুরু করে, সে প্রচেষ্টা ছিলো বাংলাদেশকে সোভিয়েত ব্লক থেকে সরিয়ে এনে তাদের ব্লকে অন্তর্ভূক্ত করতে।

তারই ফল স্বরূপ ১৫ অগাষ্টের পরিবর্তন হয়। যে সময়ে বাংলাদেশে পট পরিবর্তন হয়, তখন বাংলাদেশে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করবে এমন রাজনৈতিক দলের শূন্যতা বিরাজ করছিলো। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতিতে শুধু মাত্র ইসলামপন্থী দল ছাড়া বাকি সব দলের নেতাকর্মীদেরকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো। সে কারণে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সে সকল দলকে সোভিয়েত এবং ভারতীয় স্বার্থরক্ষাকারী দলে পরিণত হতে হয়েছিল। কিছু সংখ্যক চিনপন্থী দল থাকলেও তাদের দ্বারা সারা বাংলাদেশকে পরিচালনা করা সম্ভব ছিলো।

সে শূণ্যতার পুরন করতে একদিকে জাতিয়তাবাদীতার নাম করে আওয়ামীলীগের উপেক্ষিত কিছু নেতা কর্মী, চিনাপন্থী আঞ্চলিক দল, কিছু আমলা, কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসা, কিছু মুসলিমলীগ নেতা কর্মীদের নিয়ে দল গঠন হয়।

কিন্তু নতুন জাতিয়তাবাদী দল কি সোভিয়েত প্রভাবাধিন, এবং ভারত আশ্রিত আওয়ামী লীগ, কম্যুনিস্ট পার্টির বিকল্প শক্তি হতে পারবে কি?

তারা কি ভোটের লড়াইয়ে জিতে আসতে পারবে?

সেই দ্বিধা দ্বন্ধ, যোগ বিয়োগ থেকে উত্তরণের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার জন্য সাংবিধানিক ভাবে নিষিদ্ধ ধর্মভিত্তিক দল সমুহকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশে ধর্মীয় দলগুলোকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়। যার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের পুনঃ জন্ম হয়। এটিই একমাত্র বাস্তবতা।

ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সৌদি আরবও মার্কিনীদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলো, বন্ধুর বন্ধু হিসাবে সাথে সাথে তাদের ওহাবী মতবাদের মাধ্যমে ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতের রাজনীতিক ভিত্তি মজবুত করতে সৌদি পেট্রো ডলার হয়ে উঠেছিল জামায়েতের নিয়ামক শক্তি।

জামায়াতের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছেন, কাদের স্বার্থ সার্ভ করার জন্য তাদেরকে রাজনীতির ময়দানে বিচরণ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিলো, এবং প্রতিপালন করা হয়েছিলো।

মুসলিম ধর্মীয় শক্তি দিয়ে যখন মার্কিনিরা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ব আধিপত্যবাদিতা গুটিয়ে নিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, সাথে সাথে খোদ তাদের রাজনৈতিক দর্শনের পতন ঘটিয়ে তাদেরকেও পুজিবাদী দর্শন গ্রহণে বাধ্য করে।

সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতনের পর থেকে পৃথিবীর রাজনৈতিক শক্তি এককেন্দ্রিক হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে, পরাজিত শক্তির সাথে কেহ মিত্রতার বন্ধনে থাকতে চায়না।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে ভারত ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান মিত্র, কিন্তু বিশ্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ভারত হয়ে উঠে মার্কিনীদের প্রধান মিত্র, তখন স্বাভাবিকভাবে মিত্রের শত্রু মার্কিনীদের শত্রু হয়ে উঠবে।

আপনারা দেখেছেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটাতে মার্কিনিরা মুসলিম যুবক তরুণদেরকে আফগানিস্তানের সমরক্ষেত্রে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো, তাদেরকে গ্রেট ফ্রিডম ফাইটার বলে মাথায় তোলে নাচানাচি করেছিল।

কিন্তু সোভিয়েতের পতনের পর কিভাবে সেই সব ফ্রিডম ফাইটারদেরকে সন্ত্রাসী বানিয়ে মাথার উপর থেকে আছাড় মেরে ফেলেছিল।

আপনারা দেখেছেন, যে মার্কিনীদের উপমহাদেশের রাজনীতির নিয়ামক ছিলো পাকিস্তান, সে পাকিস্তানকেও তারা ব্যবহৃত কনডমের মতো ডাস্টবিনে ফেলতে দ্বিধা করেনি।

বাংলাদেশ নামক দেশে যে বিএনপি, জামায়াত রাজনৈতিক দলসমূহকে মার্কিনিরা তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করেছিল, মার্কিনীরা এখন পাকিস্তান আর আফগান যোদ্ধাদের মত তাদেরকেও পরিত্যাগ করেছে।

সাম্রাজ্যবাদী বলুন,,আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদী বলুন কিংবা রাষ্ট্রীয় সরকার, তাদের ক্ষমতা আর স্বার্থকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা নতুন নতুন জুজু সৃষ্টি করতে হয়, যাতে জুজুর ভয় দেখিয়ে তাদের শাসন করার বৈধতা দীর্ঘ করতে পারে। এরজন্য বাংলাদেশে রাজাকার জুজু সৃষ্টি করা হয়।

মার্কিনীদেরও এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা মোড়লত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন জুজু সৃষ্টির দরকার হয়ে পড়ে, কাউকে না কাউকে বিশ্বের মানুষের জন্য দুশমন বানাতে হবে, ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিলো, এক্ষেত্রে তারা তাদের পুরানো আদর্শিক, ধর্মীয় শত্রু ইসলামকে জুজু বানিয়ে নেয়। আর এই বানিয়ে নেওয়া তাদের জন্য খুব সহযে হয়েছে, কারণ আমাদের মধ্যে প্রচন্ডরকম ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি আর গোষ্ঠী বিরাজমান। এদেরকে দাবার গুটি বানিয়ে তারা বেশ কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বানিয়ে ফেলে। এই গোষ্ঠীদেরকে দিয়ে নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালিত করে, বিশ্বের অমুসলিমদের কাছে মুসলিমরা তাদের মুল্যবোধের জন্য হুমকি তাদের সে দাবিকে তারা সত্য বলে প্রমাণিত করে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের কিছু বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করতে হবে। আজকের বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সরকার শুধু নয়, এদেশের জনগণ, জনগণের মধ্যে দরিদ্রতর শ্রেণীর প্রতিনিধি, দিনমজুর, বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক শ্রেণী, নারীদের মধ্যে ধনিক আর দরিদ্র উভয় শ্রেণীর নারীরা জামায়েতে ইসলামী দলের রাজনীতিকে তাদের জীবন মানের উন্নয়নের সহায়ক বলে ভাবেনা। তারা বরং তাদের প্রার্থিব উন্নতির জন্য কম্যুনিস্ট রাজনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রাজনৈতিক দলসমুহ তাদের বান্ধব হিসাবেই জ্ঞান করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ৯০ ভাগ জামায়াতকে বাংলাদেশের জন্মশত্রু, পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর, এবং মা বোনদের ধর্ষক বলে প্রচন্ড ঘৃণা পোষণ করে।

জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে বুঝতে হবে, জামায়াত বিগত ৪৩ বছরে মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী থেকে কিছু সংখ্যক মুসলিম তরুণকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী নেতাকর্মীতে রূপান্তরিত করতে পারলেও তারা দেশের অর্ধেক নারী সমাজের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমন করে শ্রমজীবী মানুষের কাছে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। এর উপরে তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা প্রত্যাখিত হয়ে আছে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে, বিশাল সংখ্যক নারী,শ্রমিক আর তরুণদেরকে বাদ দিয়ে করা যাবেনা।

অন্যদিকে বিশ্ব ভূ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্বশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সারা বিশ্বে তাদের প্রত্যক্ষ্য শত্রু হিসাবে ইসলামী রাজনীতিক দলগুলোকে ঘোষণা করে, ঠান্ডা যুদ্ধের সময় তাদের স্বার্থরক্ষার খাতিরে ইসলামপন্থী দলগুলোকে যেভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছিল, তা করা থেকে বন্ধ করে। শুধু বন্ধ করা নয় দেশে দেশে তাদের পুরানো স্বার্থরক্ষাকারী মিত্র ইসলামী দলগুলোকে নির্মুল করতে দেশে দেশে তাদের বৈরী শক্তিকে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করে চলছে।

জামায়াত ইসলামী সৌদি- পাকিস্তান- মার্কিনীদের সমর্থন সহযোগিতায় তারা তাদের দলের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে সফলতার সহিত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করার কারণে তারা সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভাবে তাদের ভিত্তি মজবুত করতে পারলেও তারা তাদের আদর্শিক মতবাদকে রক্ষণশীলতার বেড়াজাল থেকে দুনিয়ার বাস্তবতার ভিত্তিতে নয়া জামানার মুক্তি দিশারিতে পরিণত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এদেশের গণমানুষের কাছে তাদের জনপ্রিয়তা মজবুত করতে পারেনি।

জামায়েতের নেতাকর্মীরা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে আজকের বিশ্বে তাদেরকে সমর্থন, আশ্রয় দেবার যেমন কোন শক্তি নেই, তেমনি দেশের শ্রমিক শ্রেণী, নারী সমাজ, আর তরুণ সমাজের কাছে তাদের কোন গ্রহণ যোগ্যতা নেই, তার উপর তো বর্তমান সরকার, এদেশের সংখ্যালঘুর কাছে তারা ঘোষিত শত্রু।

যে বিএনপি মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকেছিল, বর্তমানে বিএনপির চেয়েও বড় স্বার্থরক্ষাকারী আওয়ামীলীগ হয়ে উঠেছে, কাজেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীর কাছে বিএনপিও অচল মুদ্রার পরিণত হয়ে গেছে, তার উপর সম্প্রসারণবাদী ভারতের চক্ষুশূল হচ্ছে বিএনপি, কারণ বাংলাদেশের ক্ষমতায় বিএনপি থাকার কারণে বাংলাদেশকে তাদের পকেটে পুরোটা আনতে বেশ কয়েক দশক পিছিয়ে পড়ছে হয়েছিল।

বিএনপিও বাঁচতে চায়, বিএনপি বুঝতে পারছে জামায়াতের কয়েকটি ভোট ছাড়া আর কোন ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ভোট যুদ্ধ প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আর তার মিত্র ভারত যদি চায় যে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকবে তাহলে জামায়াতের যে সামান্য ভোট ব্যাংক আছে তাও ব্যবহার করার কোন সুযোগ যে পাওয়া যাবেনা তা গত ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত। কারণ বিশ্ব প্রভু আর আঞ্চলিক প্রভুর দুশন জামায়াতের সাথে মিত্রতা সাধন বিএনপির জন্য অস্থিত্ব বিনাশী হয়ে দাঁড়াবে।

যারা রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ করার জন্য ইসলামী রাজনীতিকে দায়িত্ব হিসাবে গ্রহণ করবেন, তাদেরকে অবশ্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিরাজমান বর্তমান বাস্তবতা এবং বিশ্ব রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর তাদের রাজনৈতিক ছক সাজাতে হবে, সে সব বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে ইউটোপিয়ান কিছু করতে যাবেন তা হলে তো ধ্বংস হওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা, নেতাকর্মীদেরকে শহীদ হবার আত্মঘাতী প্রোজেক্ট চালিয়ে যেতে পারবেন, তাতে ইসলামের তো উপকার হবেনা বরং ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করে ফেলবেন।

পানিতে যেমন মাছ বিচরণ করে, রাজনীতিবিদদেরকে সমকালীন বাস্তবতার মধ্যে বিচরণ করার কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

পাকিস্তানের এক সাংবাদিক তার দেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পাকিস্তানকে সুইজারল্যান্ড বানানোর দরকার নেই, বরং বাংলাদেশ বানিয়ে দেখান।

আমিও জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে বিনীতভাবে নিবেদন করছি, এখন খেলাফত প্রতিষ্ঠার বা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা চাইনা। বরং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় চরিত্রের মধ্যে থেকে বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা আর সবার মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যা যা করার দরকার সেই বিপ্লবী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

কারণ আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যেতে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মহত্যা করতে নয়।

আমি শংকা করছি, যে যদি জামায়াতের রাজনীতির খোলনলচে বদলিয়ে আধুনিকরন করা না হয়, তাহলে তাদের নেতাকর্মীরা ক্রমাগতভাবে অন্যায় নির্যাতনের শিকার হতে হতে, সব দিক থেকে তাদের মত পথের রাজনীতি করার দ্বার রুদ্ধ হয়েগেছে দেখে তারা হয়তো উগ্রবাদীতার দিকে ভুল কদম বাড়াবে। যা দেশি বিদেশী ইসলামের শত্রুরা চাচ্ছে।