জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল

প্রকাশিত: ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০১৬

জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল

এসবিএন ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর ফাঁসি বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ জন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায়টি ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে মীর কাসেমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আলামীন, মীর কাসেমের ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আদালতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের ৭ম রায় এটি।

আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধ মামলায় এর আগে ৬টি রায়ের মধ্যে ৪টি’তে জামায়াতের ২ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের রিভিউ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অপরদিকে আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযম ও বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারী মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ৮ মার্চ ধার্য করেন আপিল বিভাগ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট ১১ কার্যদিবস মীর কাসেমের পক্ষে-বিপক্ষে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেমের আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।