জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপের

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপের

জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনের । একই অবস্থা ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনেরও । বিচারিক আদালতে তদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনের জামিন আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

ডেসটিনির দুই কর্ণধারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, জামিনের জন্য আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর দুটো শর্ত দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ডেসটিনির ট্রি প্ল‌্যান্টেশন প্রকল্পের গাছ বিক্রি করে অথবা অন‌্য কোনোভাবে ২৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিশোধ করলে তবেই জামিন হবে।

ওই শর্ত সংশোধনের জন্য তারা ২০১৭ সালে আবারও আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।

“শর্ত পূরণ না করে এখন তারা আবার জামিন চাইলেন। আমরা তার বিরোধিতা করেছি। আদালত জামিন আবেদন খারিজ করেছে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ১৯ জন এবং ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন লিমিটেডে দুর্নীতির মামলার ৪৬ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্রোজেক্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী।

আর মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ প্রোজেক্টের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেসটিনি গ্রুপের নামে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল নামসর্বস্ব। আসামিরা প্রথমে প্রোজেক্টের টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করতেন, তারপর বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে তা স্থানান্তর করা হতো।

দুদক ৩৪টি ব্যাংকে এ রকম ৭২২টি হিসাবের সন্ধান পায়, যেগুলো পরে জব্দ করা হয়। আত্মসাত করা চার হাজার ১১৯ কোটি টাকার মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও আনা হয় দুই মামলায়।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গত ২৪ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিযে এ দুই মামলায় আসামিদের বিচার শুরু করে।

ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি দিয়ে ২০০০ সালে ডেসটিনি গ্রুপের যাত্রা শুরু। এক দশকের মধ্যে বিমান পরিবহন, আবাসন, কোল্ডস্টোরেজ, জুট মিল, মিডিয়া, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানি খুলে বসে এই গ্রুপ।

কিন্তু মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের নামে ২০ লাখের বেশি মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান কোম্পানির অধিকাংশ শীর্ষ কর্মকর্তা, বাকিরা লাপাত্তা হয়ে যান।

ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন ব্যবসার মধ্যে একটি বড় বিনিয়োগ ছিল ট্রি প্ল্যান্টেশনে। বান্দরবানের সদর উপজেলার সুয়ালক ও রাজবিলা এবং লামার ফাঁসিয়াখালী, ইয়াংছা, আজিজনগর ও ফাইতং এলাকায় ৮৩৫ একর জমিতে তাদের ৩৪টি বাগান রয়েছে বলে গণমাধ্যমে তথ্য।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

March 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

http://jugapath.com