জামিন হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

জামিন হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের

জামিন হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের । অর্থপাচার মামলায় শুল্ক গোয়েন্দাদের দায়ের করা ৩ মামলায় আপন জুয়েলার্সের ৩ মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা থাকায় তিনি এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না। মোট ৫টি মামলা ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদালতের রুল শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদেরকে জামিন দেন।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রাজধানীর বনানীতে অভিজাত এক হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চলতি বছরের ৬ মে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অালোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনার জেরে আপন জুয়েলার্স সম্পর্কিত নানা বিষয় সামনে চলে আসে।

পরে পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির সোনা চোরাচালানের বিষয়ে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি শোরুমে (গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাক) অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৫ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা সাময়িকভাবে জব্দ করা হয়। জব্দ করা সম্পদগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় দিলদার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি।

মামলায় ২২ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান আপনের মালিক তিন ভাই।

ওই জামিনের মেয়াদ শেষে আরও এক মাস পেরিয়ে গেলেও আসামিরা নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করায় দুই বিচারক তা নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

পরে ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।