জার্মানিতে লক্ষাধিক মুসলিম শরণার্থী উধাও, কাগজে কলমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬

জার্মানিতে লক্ষাধিক মুসলিম শরণার্থী উধাও, কাগজে কলমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের

এসবিএন ডেস্ক: গত ২০১৫ সালে জার্মানিতে আশ্রয়গ্রহনকারী মোট শরণার্থীর ১৩ শতাংশকেই কাগজে কলমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার জার্মানির একটি দাতব্য সংস্থা সিডাচটে জেতিয়াং শরণার্থী সম্পর্কিত এই তথ্যটি তুলে ধরে। অপরদিকে সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর জার্মান প্রশাসন শরণার্থীদের নিবন্ধন ও জার্মানিতে প্রবেশ পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবছে।

কিন্তু বিশাল সংখ্যক এই শরণার্থীর ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যাচ্ছে না। তাদের কি মেরে ফেলা হলো, নাকি তাদের অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করছে না জার্মান প্রশাসন।

এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থীরা কোথায় চলে গেলেন এই প্রশ্নের জবাবে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্য দু’টি বিষয়ে আলোকপাত করে বক্তব্য দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের মতে, শরণার্থীদের অনেকেই জার্মানিতে প্রবেশের পর নিবন্ধন না করেই ইউরোপের অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে, অথবা তারা জার্মানিতে অবৈধ উপায়ে বসবাসের চেষ্টা করছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শরণার্থী প্রশ্নে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

জার্মানির শরণার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রধান ফ্রাঙ্ক জার্গেন ওয়েইসের মতে, জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ শরণার্থী আছেন যাদের কোনো পরিচয়পত্র বা সীমান্ত অতিক্রম করার কাগজপত্র নেই।

তাই জার্মান সরকারের পক্ষে তাদের পরিচয় চিহ্নিত করে শরণার্থীদের খুঁজে বের করা সহজ হচ্ছে না। অন্যদিকে যে সমস্ত শরণার্থীর কাছে পরিচয়পত্র রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভুয়া পরিচয়পত্র বহন করছেন।

গত বছর জার্মানির বিরোধী দলগুলোর চাপে অ্যাঙ্গেলা মেরকেল প্রশাসনকে শরণার্থী প্রবেশে কঠোর হতে হয়েছিল। কিন্তু কঠোর হওয়া স্বত্ত্বেও বৈধ-অবৈধ শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেনি জার্মান প্রশাসন।

ডাবলিন নীতিমালা অনুসারে, শরণার্থীরা ইউরোপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথমে জার্মানিতে প্রবেশ করবে, এরপর অন্যান্য দেশে পর্যায়ক্রমে তাদের পাঠানো হবে।

কিন্তু গত বছর প্যারিস হামলা ও ইউরোপভুক্ত কয়েকটি দেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে যায়। নরওয়ে, বুলগেরিয়া এবং সার্বিয়া শরণার্থীদের জন্য তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিলে জার্মানিকেও শরণার্থী প্রশ্নে কঠোর হতে হয়।

সিরিয়া এবং ইরাক থেকে আগত শরণার্থীদের জার্মানি প্রবেশকালীন সময়ে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এই নিয়ম-কানুনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, শরণার্থীদের নিজ দেশে উদ্ভুত পরিস্থিতি শান্ত হলে শরণার্থীদের দেশে ফিরে যেতে হবে এই মর্মে একটি নিবন্ধনপত্রে সাক্ষর করা।

এবিষয়ে গত বছর জার্মান সরকারের প্রদত্ত নিবন্ধনপত্রে শরণার্থীদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩ হাজার ৬০০টি নিবন্ধনপত্র পূরণ করা হয়। একই সময়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে শরণার্থীদের মধ্যে এই নিবন্ধনের হার জার্মানির তুলনায় অনেকটাই ভালো।

২০১৫ সালে জার্মানিতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শরণার্থী প্রবেশ করেছে। এই প্রবেশকারী শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।

কিন্তু শঙ্কার কথা হলো, এই আগত শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশির কাছে নেই কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে যখন জার্মানি শরণার্থীদের প্রবেশে অনুমতি দেয় তখন সকল কাগজপত্র ঠিক রেখেই শরণার্থীদের প্রবেশে অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বিশেষ করে প্যারিসে হামলার পর জার্মান সরকার শরণার্থীদের উপর কঠোর হলে এবং সার্বিয়া তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিলে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

বিভিন্ন কায়দায় তখন শরণার্থীরা জার্মানিতে প্রবেশ করতে থাকে। বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় দফায় জার্মানিতে প্রবেশকারী শরণার্থীদের মধ্যেই উধাও হয়ে যাবার প্রবনতা সর্বাধিক।

জার্মান সরকার অবৈধ শরণার্থী প্রবেশ ঠেকাতে যে নতুন আইন করছে তাতে কোনো শরণার্থী চাইলেই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবে না।

যদি জার্মানিতে বসবাসরত কেউ গ্যারান্টার হিসেবে কোনো শরণার্থীর নাম প্রস্তাব করে তবেই তাকে অনুমতি দেয়া হবে প্রবেশের। যদিও এই আইন নিয়ে ইতোমধ্যেই মেরকেল সরকারের সমালোচনা করছে দেশটির ডানপন্থী দলগুলো।