জাল দলিল তৈরি করে জমি আত্মসাৎ , হাবিবুর রহমানের মামলা

প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

জাল দলিল তৈরি করে জমি আত্মসাৎ , হাবিবুর রহমানের মামলা

 

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলা জুড়ি উপজেলার বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত হাজী আইয়ুব আলীর পুত্র হাবীবুর রহমানের কতেক ভূমি জাল দলিল তৈরি করে আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে একই উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মৃত আব্দুস ছত্তারের পুত্র আজিজুর রহমান(৪৭) ও বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত আং মোক্তাদিরের পুত্র নিপার রেজা (২৫) গং এর বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে হাবিবুর রহমান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫নং আমলী আদালত, জুড়ি, মৌলভীবাজার এ পিটিশন মামলা নং ৪৩/২১ ইং (জুড়ি) দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান একজন ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী হওয়ায় প্রায় সময় নিজ এলাকা হতে অন্য এলাকায় অবস্থান করতে হয়৷ এরই সুযোগে বিবাদী গন একজোট হয়ে বাদী হাবিবুর রহমান এর মৌরসি ভূমি যা তিনি ভোগ দখল করছেন সেই ভূমি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে জাল জালিয়াতি করে কাগজাত সৃজন করে রাখেন।

গত ২৫/০২/২১ইং তারিখে সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার সময় বাদী হাবীবুর রহমান বাড়িতে না থাকা অবস্থায় বিবাদীগন যথাক্রমে ১। লুৎফুর রহমান (৪৭) পিতা মৃত আং হাছিব, সাং দ্বহপাড়া, ডাক নয়াবাজার, থানা জুড়ি ২। আজিজুর রহমান (৪৫) পিতা মৃত আব্দুস ছত্তার, সাং উত্তর ভবানীপুর, থানা, জুড়ি ৩। লিকছন মিয়া (২৭) পিতা মৃত আং মান্নান, ভবানীপুর, থানা জুড়ি ৪। নিপার রেজা (২৫) পিতা মৃত আং মোক্তাদির, বিশ্বনাথপুর, থানা জুড়ি, ৫। লায়লা বেগম (৫০) স্বামী মৃত বশির মিয়া সাং ভবানীপুর, থানা জুড়ি, ৬। মতিউর রহমান (৩৪) পিতা রকিব আলী, সাং বেলাগাও, থানা জুড়ি, দলিল লিখক, সাব রেজিস্ট্রার অফিস, সনদ নং ০৭, অজ্ঞাতনামা ৯/১০জন সর্ব জেলা মৌলভীবাজার।

উক্ত তারিখে বিবাদীগন তফসিল বর্ণিত ভূমি মাপঝোক করিতে গেলে মামলার ১নং সাক্ষী এসব দেখে বাদী হাবিবুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানালে হাবীবুর রহমান মৌলভীবাজার হতে মামলায় উল্লেখিত ২নং সাক্ষীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

বিবাদীগণকে মাপঝোঁক করতে দেখে বাধা নিষেধ করলে তারা মাপঝোঁক বন্ধ করে বিবাদীগন বাদী হাবিবুর রহমানকে জানান যে, ১ও ২ নং বিবাদীগন বিগত ১০/০৮/০৮ ইং তারিখে জুড়ি থানধীন বিশ্বানাথপুর গ্রাম নিবাসী বাদীর মাথা কুটিনা বিবির নিকট থেকে ৪৯৬৯ নং দলিলে খরিদ মূলে প্রাপ্ত হয়ে ৩নং বিবাদী বরাবরে বিগত ২৬/১১/১৫ইং তারিখে ২০৭৮ নং তর্কিত কবালায় বিক্রয় করেছেন।

৩নং বিবাদী প্রাপ্ত হয়ে ৪নং বিবাদী বরাবরে বিগত ১৭/০৭/২০১৯ইং তারিখে ১০২০ নং আমমোক্তারনামা দলিলে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে ৫নং বিবাদী বরাবরে বিগত ১১/১১/১৯ইং তারিখে ১৩০২ নং দলিলে বিক্রি করেছেন।

কিন্তু দখল সমজাইয়া না দেয়ার জন্য বিগত ২৫/০২/২১ইং তারিখে মাপঝোঁক করে দখল সমজাইয়া দেয়ার জন্য এসেছেন । এতে বাদী হাবিবুর রহমান তীব্র প্রতিবাদ করলে বিবাদীগন মাপঝোঁক না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অতঃপর বাদী তর্কিত দলিলের গর্ভে দেখা যায়, স্বত্ব সম্পর্কহীন ও দখলবিহীন বাদীর মাতা কুটিনা বিবির নিকট থেকে বিগত ১০/০৮/০৮ইং তারিখে ৪৯৬৯নং কবালায় ১ও ২ নং বিবাদী খরিদ করেন। কিন্তু উক্ত দলিলটি ১০/০৮/০৮ইং তারিখে ৪৯৬৯ নং দলিলটি জাবেদানকল সংগ্রহ করে দেখা যায় যে, উক্ত দলিলে ৩ ও ৫ নং সাক্ষীগন দাতা ও ৬নং সাক্ষী গ্রহীতা।

বিবাদীগন জাল জালিয়াতির উদ্দেশ্যে উক্ত দলিলটিতে বাদীর মাতার নাম ব্যবহার প্রক্ষান্তরে ইহা ভূয়া জাল দলিল। এমনকি গত ২৬/১১/১৫ইং তারিখে ২০৭৮ নং তর্কিত দলিলের গর্ভে উল্লেখিত বিগত ২০১৪ -২০১৫ইং সনের ৬৭২ নং নামজারী ও জমা খারিজ তর্কিত মোকদ্দমার খতিয়ানবিহীন।

তর্কিত দলিলের গর্ভে আরো উল্লেখিত আর.এস ডি.পি তর্কিত খতিয়ান ৬১৬ ও ৬১৭ নং ভূয়া কাল্পনিক বানোয়াট মূলে সৃজন করে ৪৯৬৯/০৮ইং দলিলটি তফসিল বর্ণিত নালিশা ভূমি বাদীর মাতা কুটিনা বিবি ৪৯৬৯/০৮ইং নং দলিল মূলে কখনো ১ও ২নং বিবাদীগন এমনকি অন্য কারো নিকট বিক্রয়ের চুক্তি কিংবা বিক্রি করেন নি৷

বিবাদীগন জাল জালিয়াতি করে গোপনে কাল্পনিক বহু দলিল তৈরি করেছেন বলে বাদী হাবিবুর রহমান মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।

এরই মধ্যে তর্কিত দলিলের গর্ভে একটি ভূয়া ৪৯৬৯/০৮ইং দলিলে উল্লেখ রয়েছে এবং বিবাদীগন ভূয়া জাল দলিল তৈরি করে তফসিল বর্ণিত ভূমি বিক্রি করায় বাদী হাবিবুর রহমানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ নং আমল আদালত, জুড়ি মৌলভীবাজার পিটিশন মামলা নং ৪৩/২১ইং (জুড়ি) দায়ের করেছেন।