জাসদ ছিলো অনেকটা মজাদার চানাচুরের মতো!

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭

জাসদ ছিলো অনেকটা মজাদার চানাচুরের মতো!

আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

জাসদ অার নকশাল বাড়ি আন্দোলনের মাঝে বড় ধরনের পার্থক্য হলো, ভ্রান্ত রণকৌশল স্বত্তেও জাসদের জন্ম হক, তোহা, সিরাজ সিকদারদের সমূহ উত্থান ঠেকাতে জাসদ ছিলো অনেকটা মজাদার চানাচুরের মতো! শরীরের তেমন কাজে না আসলেও তা আপনার তৃপ্তি মেটাবে। এভাবে হাজার হাজার তরুণ বিপ্লবের নামাবলি গায়ে জড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। বস্তত জাসদের নামটিই ছিলো বিতর্কিত। ফয়েরবাখরা যখন বলছেন ‘দি ফিলোসফি অব প্রোভারটি’ তখন মার্কস বলছেন ‘দি প্রোভারটি অব ফিলোসফি’ এবং জন্ম দিলেন দ্বান্ধিক বস্তবাদের।জাসদ বলছে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা। এমনভাব যেন সমাজতন্ত্র এতদিন ভাববাদ আর ইউটোপিয়ায় আচ্ছন্ন ছিলো। সমাজতন্ত আন্তজার্তিকতায় বিশ্বাসি। অথচ জাসদ বলছে জাতীয়তাবাদের কথা। জাসদের ছিলো হাজারো গণবাহিনী কিন্তু তাদের কোন সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট ছিলো না। এজন্য সিপিবি আপোসকামী দল হলেও বিলীন হয়ে যায়নি।তাদের সাংস্কৃতিক ভাবনাগুলো মৃদুভাবে হলেও সমাজে বিস্তৃত হয়েছে, তবে স্বতন্ত্রভাবে রাষ্ট্র-সমাজকে আন্দোলিত করতে পারেনি। কিন্ত বাস্তবতা হলো সিপিবি টিমটিম টিকে আছে কিন্ত জাসদ টিকেনি। সাম্রাজ্যবাদীরা সিরাজুল ইসলামের তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি আর তাহেরের সরলরৈখিক ভাববাদী চিন্তাচেতনাকে জড়ো করেও এবং এতো বিপ্লব পরিস্থিতির বিপুল সম্ভাবনা স্বত্তেও ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। পারেনি, কেননা বিপ্লবের উপাদানে শ্রমিক কৃষক সর্বহারার ভাবনা তথা উপস্থিতি ছিলো না, ছিলো হাজারো মধ্যবিত্তকে উত্তাল করে তুলবার টনিক। এ যেন বিট জেনারেশনের নতুন এডভেন্চার।
জাসদের বিপ্লবীদের ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। তারা জীবন দিয়েছে ভ্রান্ত ধারনার কারণে। ছাত্রলীগের সবচেয়ে প্রগতিশীল অংশ এভাবে হারিয়ে যায় জীবনের করাল স্রোতে। যারা বলছে জাসদ সমাজতান্ত্রিক ধারণার ধ্বজাধারী তারা মূলত ঘোলা চোখে পৃথিবীকে দেখছেন। জাসদ মূলত মধ্যবিত্তের আশা-আকাংখাকে পুঁজি করতে চেয়ছিলো। তাদের ধারণা মুজিবের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামিয়ে বিপ্লবী ভাবনার জিগির তুলে মধ্যবিত্তকে রাস্তায় নামাবে।কিন্তু নব্য আর দুর্বল রাষ্ট্র কাঠামো, মার্কিনি অবরোধ আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা হারিয়ে ছিলো বটে, তবে লাখো মানুষের মানসপট থেকে মুজিবকে সরানোর মতো যাদু-মন্তর সিরাজুল ইসলামদের জানা ছিলো না। এ জন্য একজন মহান জাতীয়তাবাদী নেতাকে স্বপরিবারে পাথর-সময়ের করাল গ্রাসে নিপতিত করে, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরও জাসদ পথ খুঁজে পায়নি। জাসদের কর্মীদের সুখ- তাদের তাহেরের মতো একজন নেতা অন্তত সততার পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত উ্ত্তীণ ছিলেন আর দুঃখ হলো অধিকাংশ নেতা শেষ পর্যন্ত সততার পরীক্ষায় অলীক ভাবনার খেসারত দিতে চরমভাবে ফেল করেছেন, কিন্তু এখনও সহাস্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন…