জিডিপি নিয়ে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

জিডিপি নিয়ে নেতিবাচক পূর্বাভাস  দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

নুসরাত হোসেন

বাংলাদেশে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক । আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির ধারণা, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মারাত্মক সংকুচিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে ।তবে এই প্রতিবেদনে ধানের বাম্পার ফলন এবং রেমিটেন্সের কারণে বাংলাদেশে রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ার ব্যপারটি আলোচিত হয় নি ।

বিশ্ব ব্যাংকের এই অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে রচিত হয় ।তাদের এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয় ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকের’ জুন সংখ্যায় ।

সেখানে বলেছে, কোভিড-১৯ এর কারণে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এই অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ২৬ মার্চ থেকে দুই মাসের বেশি সময় চলা লকডাউনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে।

যার প্রভাবে এবার বাংলাদেশ ৩.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আইএমএফ।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলায় দীর্ঘ লকডাউনের কারণে ভারত ও নেপালের মতো বাংলাদেশেও মানুষের ব্যক্তিগত ভোগ মারাত্মকভাবে কমেছে।

মহামারীর ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে দেশের প্রধান প্রধান শহর থেকে ব্যাপক কর্মী বাহিনী গ্রামে চলে গেছে; যার ফলে শিল্প উৎপাদনসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ও শ্লথ হয়ে পড়েছে।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যাপক দরপতন থেকে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি হ্রাস তার জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে, মহামারীর কারণে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৫ দশমিক ২ হারে সংকুচিত হবে। বিশ্বের বড় অংশের অর্থনীতিতে মাথা পিছু আয়ে যে হ্রাস দেখা দেবে তা ১৮৭০ সালের পর সর্বোচ্চ হবে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর প্রথম মহামন্দা দেখা দেবে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ,বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মক ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছর উন্নত দেশগুলির অর্থনীতি ৭ শতাংশ হারে এবং উন্নয়নশীল দেশগুরির অর্থনীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সংকুচিত হবে বলে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে।
এছাড়া বিশ্বের মাথাপিছু আয় গড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে,যার ফলে লাখ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে ছোট আকারে ছড়ালেও এখন তা দ্রুত ছড়াচ্ছে।

মৃত্যুর মিছিল বাড়ানো ছাড়াও মহামারীর কারণে দারিদ্র্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে প্রভাব ফেলবে।

এই অঞ্চলে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত, যা মহামারী মোকাবেলার স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বাধাগুলিকে আরও বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।

মহামারীর কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য দ্রব্যের দাম ব্যাপক বেড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হতে পারে।

নুসরাত হোসেনঅর্থনীতি বিশ্লেষক

ছড়িয়ে দিন