জীবন কি শুধু ক্যারিয়ার গঠনের জন্যে

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৭

জীবন কি শুধু ক্যারিয়ার গঠনের জন্যে

শিরিন ওসমান

অনেকেই মনে করেন,শুধু এদেশেই নারী নির্যাতিত হয়। কথাটি ভুল। পশ্চিমেও নারী পুরুষ উভয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত। সমকামীতা বাড়ার এটা একটা বড় কারন। নারী পুরুষের মাঝে দ্বন্দ বেশী কাজ করে। মানুষের ধৈর্য কমে গেছে।

আমাদের বাবা মায়েদের যুগ কে আমি স্বর্ণযুগ বলবো। আমার বাবা চাচাদের জীবনে একে অপরকে তুই বলতে শুনিনি।একটি সুস্থ সুন্দর সামাজিক পারিবারিক পরিবেশ ছিল তখন।পরিবার বড় ছিল। লেখাপড়া করতো সবাই।অংক ছাড়া কাউকে প্রাইভেট পড়তে হতো না। নারী পুরুষের সহজ সম্পর্ক ছিল।আম্মা আব্বা সিনেমা থিয়েটার দেখতেন। ঘরে সবসময় অতিথি থাকা স্বাভাবিক মনে করা হতো। এক রুমে তিন খাট পাতা থাকতো। রাতে তিনরুম পার হয়ে বাথরুমে যেতে হতো।

সবাই নিয়মিত বই পড়তেন। রেডিওতে নাটক শুনতেন।পাশের বাড়ীর কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করতেন।বাড়ীতে ফুল ফল ও শাক সবজি লাগানো হতো। মুরগী পালা হতো। হোম ডেলিভারির নিয়ম ছিল।রেশনিং সার্ভিস ছিল।সবাই শালীন পোশাক পরতেন। এখনকার মতো বুরখা হিজাব ছিলো না।কেউ দোকানে সাজতে যেতো না। নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন সবাই। বিকেলে ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলা করতো।

এসব এখন রূপকথার মত লাগে।এই জীবন হলো স্বাভাবিক জীবন। তখন অনেক ক্রিয়েটিভ মানুষ তৈরী হয়েছে।কারন জীবনটা জীবনের মত ছিলো। এখনকার মত পণ্যমূল্যে বিবেচনা করা হতো না।গৃহবধু ছিলেন একটি পরিবারের প্রাণ , চালিকা শক্তি।এখনকার মানুষ অসুখী। জীবন শুধু ক্যারিয়ার গঠনের জন্যে। সব কিছু আবর্তিত হয় ক্যারিয়ারকে কেন্দ্র করে।সুখে থাকতে হলে সহজ হতে হয়। এখন কেউ সহজ হতে রাজী নয়।কেউ ছাড় দিতে চায় না।নারী আর পুরুষ দুটি আলাদা সত্তা ।সমঅধিকার বলে চেচামেচি করলে অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় না। নারীকে জানতে হবে তার মর্যাদা, তার মুক্তি আসলে কিভাবে আসবে। নারীরাই তো পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই বোধ নারী পুরুষ উভয়ের মাঝে থাকা চাই। নারী তিলে তিলে একটি শিশুকে শরীরে লালন করে। তারপর শিশু পৃথিবীতে আসে।এখনকার নারী মাতৃত্বের মর্যাদাও গ্রাহ্য করে না।

কয়টা পাশ দিয়ে এখনকার নারী যেভাবে নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে চলেছে, পৃথিবীতে সুখ থাকা তো দূরের কথা পরিবার প্রথা টিকে থাকবে কিনা সন্দেহ।

সব শেষে বলতে চাই আমার কথাগুলো একান্ত আমার ভাবনা। সব পুরুষ কিংবা সব নারীকে আমি এক কাতারে ফেলে এই লেখা লিখিনি।