জোহরা আলাউদ্দিন এমপিকে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন শোকাহত পরিবার

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২০

জোহরা আলাউদ্দিন এমপিকে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন  শোকাহত পরিবার


মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজারের সাইফুর রহমান সড়কের পিংকি সু-স্টোর নামের জোতার দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে তিনবছরের শিশু ও একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপিকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছেন। এসময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি সংসদ অধিবেশন শেষে ঢাকা থেকে ফিরে সরাসরি চলে যান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে।

সেখান থেকে তিনি অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে নিহত সুভাষ রায় এর পরিবারের খোঁজ নিতে সাইফুর রহমান সড়কের একটি বাসায় যান। সেখানে সুভাষ রায় এর স্ত্রী,মেয়ে পিংকি রায় ও সুভাষ রায় এর ভাই মনা রায় এমপিকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্কুল শিক্ষিকা ও সুভাষ রায় এর মেয়ে পিংকি রায়ও কাঁদতে থাকেন। এসময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সুভাষ রায় এর সন্তানদের কান্না দেখে নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়ে কাঁদতে থাকেন জোহরা আলাউদ্দিন এমপি।

এসময় তিনি অগ্নিকান্ডের ঘটনার সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা দেওয়ার পাশাপাশি সবরকমের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকান্ডের ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন এবং আমাকে বলেছেন সার্বিক খোঁজ খবর নিতে।
পরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতের পরিবারকে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য: গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পিংকি সু-স্টোর নামের একটি জোতার দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে পিংকি সু-স্টোরের সত্বাধিকারী সুভাষ রায় (৬০) সজল রায়ের স্ত্রী ও সুভাষ রায়ের বোন দিপ্তী রায় (৪৫) দিপীকা রায়(৪০) ও সজল রায়ের তিন বছর বয়সী কন্যা শিশু বৈশাখী রায় (৩) ও পিয়া রায় (১৫) এর নির্মম মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়,সকাল ৯টার দিকে পিংকি সু-স্টোরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো দোকানে। এসময় দোকানে প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী থাকায় আগুনের ভয়াবহতা মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। ঘরটির ছাদ প্রাচীণ আমলের কাঠের তৈরি হওয়ায় উপর তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন সুভাষ রায়ের পরিবার । আগুনের লেলিহান শিখায় যখন নিচতলার সবকিছু পুড়ে ছাই তখনও সবাই ঘুমে। আগুনে নিচতলার প্রায় সাতজন বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হলেও উপরতলার সবাই শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলেও কারো পক্ষে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হয়নি। যার কারনে উপর তলার সবাইর ভাগ্যে ঘটেছে নিশ্চিত মৃত্যু ।