টিকে থাকা খুব জরুরি নয়

প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০২১

টিকে থাকা খুব জরুরি নয়

মীরা মেহেরুন

পিঁপড়ার মতো একটি ক্ষুদ্র প্রাণী ও যেখানে কি অভূতপূর্ব সক্ষমতা দ্বারা টিকে থাকে। মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীর জন্য টিকে থাকা তো আরো সহজতর।
মেধা-যোগ্যতা দ্বারা যে কোনো জায়গায় কাজ করে উপার্জন করে গ্ৰীবা উঁচু করে , বুক ফুলিয়ে টিকে থাকা যায়। মানুষ নিজেকে এত অসহায় ভাবে অথচ সে কী অপরিসীম শক্তির অধিকারী তা উপলব্ধি করতে পারে না জীবদ্দশায়।
আর তা ছাড়া বিবেক, চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দাসত্ব করে অমানবিক সুবিধাভোগী হয়ে ওঠা, তা কেবল এক দেহপশারিনীর তুলনায় অধিক অমর্যাদাকর পেশা।
একটি কথা সবসময় মনে হয় আমার, আর তা হলো এখানে কেউ অনিবার্য নয়। কারণ আজকে যে কারো মৃত্যু হলে পৃথিবীর কোথাও কোনো ব্যাত্যয় ঘটবে না। বরঞ্চ মৃত্যুর পর প্রিয়জনেরা ঘনিষ্ঠ জনেরা দেহ সৎকার শেষে আপনার রেখে যাওয়া (অসংখ্য মানুষের রক্ত এবং দীর্ঘশ্বাসের ওপর গড়ে তোলা) আবর্জনাগুলো ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কলহে মেতে উঠবে।
সমস্ত নিকৃষ্টতার সঙ্গে আপোস করে টিকে থাকা খুব জরুরি নয়। বাঁচলে প্রাণ খুলে বাঁচুন, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে সংগ্ৰহের বোঝা বাড়িয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে বাঁচা কোনো বাঁচা নয়। একবার মরে দেখুন কোথাও আপনার কোনো প্রয়োনীয়তা নেই, কেবলই ধূলি জীবন।
সংগৃহীত বোঝাগুলো নিয়ে যাবার বন্দোবস্ত থাকলে কি যে হতো! ঈশ্বরের অশেষ কৃপা!
তিনি আড়ালে বসে হাসেন আর ভালোবাসেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউরোপের বৃহত্তম ক্যামলিকা জামে মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে। যেখানে একসঙ্গে ৬৩ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। নয়নাভিরাম শিল্পমন্ডিত এ মসজিদে রয়েছে যাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, কনফারেন্স হল, গ্ৰন্থাগার ।
মসজিদটির জানালা, দরজা, সিলিং, ফ্লোর, দেয়াল এতটাই বিস্ময়কর শিল্পসম্মত যে দেখলে থমকে যাওয়ার মতো। আজ সে বর্ণনায় যাবো না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এই মসজিদটির স্থপতি হলেন বাহা মিজরাক ও সাঁইথিয়া গুলতু নামের দু’জন নারী ।
ধন্য মুসলিম শাসক প্রেসিডেন্ট এরদোগান।
👍ধর্ম মানে প্রগতিশীলতা যার উদাহরণ তুরস্ক।
👍ধর্মের অপর নাম মানবতা। অসহায় এতিম বাচ্চাদের বলাৎকার করে জিহাদে নামিয়ে দেয়া নয়।
👍ধর্ম মানে উদারতা ও জ্ঞান অন্বেষণ সৌদি স্কুলে পাঠ্যপুস্তকে রামায়ন মহাভারতের সংযোজনের দৃষ্টান্ত।
👍ধর্ম মানে কাউকে অধস্তন না ভাবা মানুষে মানুষে সমতা।
👍ধর্ম মানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে মিথ্যে বলা নয়।
👍ধর্ম মানে ফাসেকী নয়, ওয়াদা করে ওয়াদা রক্ষা করা।
👍ধর্ম মানে অপরের ধন-সম্পদ লুন্ঠন করে ভাগাভাগি করে খাওয়া নয়।
👍ধর্ম মানে অন্যের ধর্ম ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়।
👍ধর্ম মানে ভোগ বিলাস ত্যাগ করে মানব কল্যাণে নিজেকে আত্মত্যাগ করা।
ধর্মের নামে উগ্ৰ সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ধর্মগুরু থেকে সাধারণ মানুষকে সাবধান ও সতর্ক হতে হবে। যে কোনো ধর্মের ক্ষেত্রে কথাটি প্রযোজ্য। এসব অন্ধ উগ্ৰ মৌলবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধাচরণ মানে ধর্মবিদ্বেষ নয়।
ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী কাফের মুশরিক সমাজের মানুষের জান, মাল, ধর্মসহ কোনো কিছুই হেফাজত করতে পারে না। বাগাড়ম্বর দিয়ে কোনো কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। শুধুমাত্র কর্মের মধ্যেই মানব কল্যাণ নিহিত।
বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে মানুষ যে কতটা অন্ধ বকধার্মিকে পরিণত হয়েছে আমাদের বর্তমান সামাজিক অবস্থা তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় কুসংস্কার আমাদের সমাজকে কমপক্ষে ১ হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এ থেকে মুক্তির জন্য না জানি কত হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।
একসময় বিজ্ঞান আরো এগিয়ে যাবে। মানব সন্তান জন্মের জন্য হয়তো কোনো নারী পুরুষের প্রয়োজন পড়বে না। সকল মানুষ গুলো হবে মূল্যবোধ সম্পন্ন সামাজিক মানুষ। তখন নারীকে পুরুষের অধস্তন ভাবা হবে না, শ্রেণী সংগ্ৰামের কোনো লড়াই থাকবে না। আজান হলে মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদে যাবে প্রার্থনা করতে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের স্বীয় উপাসনালয়ে স্বীয় ধর্ম পালন করবে। দেশের উন্নয়নে তারা ১২-১৮ শ্রমঘন্টা কাজ করবে অতঃপর ফিরে যাবে যার যার প্রিয়জনের কাছে। রাষ্ট্রকে ভালোবেসে তারা দুর্নীতিমুক্ত থাকবে। আজকের এই ধর্মীয় কোলাহলময় ইতিহাস নিয়ে আগামী ১৫-২০ প্রজন্ম পর ছেলেমেয়েরা গবেষণা করে কারণ খুঁজবে, জাতিসত্ত্বা ধ্বংসের ইতিহাস থেকে তারা শিক্ষা নেবে।
আমরা কেউ থাকবোনা। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবর্তনের বীজমন্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। নচেৎ নিস্তার খুঁজে পাওয়া দুরুহ হবে। এবং আমাদের একমাত্র ভবিতব্য হবে তাদের মতো–পৃথিবীর অনেক সম্প্রদায় যেভাবে বিলুপ্ত হয়েছে।
০১.০৫.২০২১
সময়:০৭.০৮মি.

ছড়িয়ে দিন