টিয়ার বিয়ে

প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

টিয়ার বিয়ে

কামরুল হাসান

বারিধারা ডিওএইচএস কনভেনশন সেন্টারটি সেজে ছিল মায়াময় নীল আলোয়, হয়ে উঠেছিল এক স্বপ্নময় নীলপ্রাসাদ। আমরা যখন সেখানে পৌছলাম তখন দিন ধীরে রাত্রির বুকে আশ্রয় নিচ্ছে। আঁধারের কালো পর্দায় ঘন নীলের অপার্থিব দ্যুতি। তাতে সমুখের বড় রেইনট্রির শাখায় অবনমিত আলোর খেলা। কাছের কাঠালপাতারা সাদা পাথরবাটি হয়ে ধরে আছে সন্ধ্যারাতের পরাগ। নীল আলোয় মোড়ানো প্রশস্ত সিড়ির অনেকগুলো ধাপ উঠে গেছে দোতালায়, যেখানে বিবাহবাসর, যেখানে ফুলে ফুলে সাজানো তোরণ। তার আয়তকার উদারতার ভিতর দিয়ে লাল কার্পেটে পা ফেলে এগিয়ে গেলে আলোকিত হলঘর, প্রবেশদ্বারের বিপরীত কোণায় ফুল্লশোভিত বিবাহমণ্ডপ। বিপ্লব ও টিয়া সেখানে আলোকচিত্রীদের সকল মনযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে বসে আছে। শুধু বসে নেই, তারা আলোকচিত্রীদের শিল্পনির্দেশনা মেনে বিভিন্ন ভঙ্গি করছে, পোজ দিচ্ছে। আজকের বিবাহ চলচ্চিত্রের তারাই তো প্রধান দুই চরিত্র, সিনেমার ভাষায় নায়ক-নায়িকা।

টিয়া পাখির সবুজ পালক পরিধান করার কথা, কিন্তু সে পরে আছে গাঢ় লাল রঙের পোশাক, কেননা আজ বিবাহ; বিবাহের রঙ গাঢ় লাল, তাতে সোনালী জরীর সখী সমাবেশ শুধু নয়, প্রাধান্য, আছে স্বর্ণালঙ্কারের আভা ও উজ্জ্বলতা। নিজের মেয়েকেই চিনতে পারছিলাম না। নিজেকে কখনোই রাজা ভাবি নি আমি, কিন্তু নিজ কন্যাকে আজ এই গৌরবময় মঞ্চে রাজকন্যা বলে মনে হচ্ছে। বিপ্লব বর, অধিকতর সপ্রতিভ সে, তবু বিবাহ সকল বর ও বধূকে এক অজ্ঞাত সঙ্কোচের বিহ্বলতায় জড়িয়ে ফেলে। এদের বেলায়ও তার ব্যত্যয় হয় নি। বিপ্লব পরেছে কালোর আভালাগানো নীল রঙের স্যুট; সাদা শার্ট ও লাল টাইয়ের বিপরীতে যে রঙ গম্ভীর মেজাজে ফুটেছে। অনিন্দ্যসুন্দর লাগছে ওদের দুজনকে।

অতিথিরা কেবল আসতে শুরু করেছে, আমরা পৌছাবার কিয়ৎক্ষণ আগে পৌছে গেছে বর ও বরের পরিবার। টিয়ার শশুর, শাশুড়ি, দুই ননদ- সালমা ও মুন্নী হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর কথা বলছে সমাগত অতিথিদের সাথে। কনে পৌছেছে তারও আগে, সুন্দরী বানাবার কারখানা থেকে বেরিয়ে তাকে নিয়ে সোজা বিবাহকেন্দ্রে চলে এসেছে টিয়ার মামী ও চাচী। তারা দুজনেই পরেছেন হলুদ পোশাক। লুবনার শাড়ির রঙও তাই, আত্মীয়াদের আরো অনেকেই সেজেছেন হলুদে, ফলে মঞ্চের সমুখটায় একটি হলুদ কানন তৈরি হলো।

কথা ছিল অতিথিরা দলে দলে এসে পৌছাবার আগে আমরা কিছু পারিবারিক ছবি তুলে নিব। সেইমতো কিছু ছবি তোলা হলো বিবাহ সম্পর্কে জড়ানো, কিছুকাল আগেও অচেনা দুটি পরিবারের- ওরা পাঁচ, আমরা ছয়। আমার বোন ও তার স্বামী আমাদের সাথেই এসেছে, ভিন্ন গাড়িতে এলো ওর মেয়ে সুবর্ণার পরিবার।

কন্যার বিবাহবাসরে পিতার ছবি তোলার কথা নয়, সামাজিকভাবে শোভনও নয়। কিন্তু আমি তো ছবি তোলায় অবসেসড, অমন ঝলমলে পরিবেশ, যেখানে সাদামাটা মুখও হয়ে উঠেছে রুপালি পর্দার মক্ষিরানী, সেখানে ছবি না তুলে পারা যায়? সালমা এসে আবদার করলো আমার সাথে সেলফি তুলবে। আমি চেনা আত্মীয়স্বজনের অচেনারূপের ছবি তুলি, পেশাদার আলোকচিত্রীর ছবি কবে পাবো ঠিক আছে? তাই ‘নগদ যা পাও হাত পেতে নাও’ দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে কিছু ছবি তুলি, তবে বাড়াবাড়ি করি না, কেননা কন্যার পিতার অনেক দায়িত্ব রয়েছে ।

লুবনার বান্ধবীদের মাঝে সবার আগে এলো পুস্প, এরপর শারমিন। একে একে এসে গেল কিশলয়ের কিশোরীরা- কেয়া, কানন, কাকলি। ফুল এলো, সঙ্গে এলো ফুলবাগান পাখির কূজনসমেত। এলো মোনালিসা, শাবানা, লবি, ঝুমনি, পলিন ও নাহিদ- পুরনো ছবির নায়িকাগণ। এই কনভেনশন হলের সবচেয়ে কাছে যে থাকে, সেই ‘মক্কার মানুষ হজ পায় না’ রূপা এলো সবার শেষে। চললো ফটোসেশন, স্কুলের বান্ধবীদের হাসি, আনন্দ, হুল্লোড়। টিয়াকে তারা শৈশব থেকে দেখেছে, চোখের সমুখে বড় হয়েছে মেয়ে, আজ তার বিয়ে। মাতৃসম নারীগণ তাই মহাখুশি। তাদের সে আনন্দ ঝরে পড়ছে এই বিবাহবাসরের মেঝেয়। ছাদকে নক্ষত্রসভা বানানো স্পটলাইট আর প্রতি বর্গে নকশা করা ছাদবাতির নিয়নপ্রভায় তারা জ্বলছিল।

আমার বন্ধুদের মাঝে প্রথম এলো কবিরুল ইসলাম। অমিতাভ বাচ্চনের সমান লম্বা ও সুদর্শন কবিরুল বিবাহ আসরের উচ্চতা বাড়িয়ে দিল। অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও উচ্চতা বাড়াতে এলেন বেশ কিছু উঁচু মানুষ- এয়ার কমোডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, কবি হায়াৎ সাইফ, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, কবি ঝর্না রহমান প্রমুখ। আমাদের বন্ধুপ্রতিম বিউটি ও রানু এলে পরিপার্শ্বের বিউটি বেড়ে যায়। সদাই হাসিমুখ কবিদম্পতি সরকার আমিন ও শাহনাজ মুন্নী এসে প্রাণময় করে তোলে আসর। মনে পড়লো টিয়ার শৈশবে আমিন দুলাইনের একটি ছড়া লিখেছিল-‘ ছোট্ট টিয়ানা/বাজায় পিয়ানা।’ আমিন বলেছিল, ‘ও টিয়া না, তাই ও হলো শালিখ।’ আজ সেই শালিখ পাখিটির বিয়ে হচ্ছে- আমিন অবাক। আমি সুজনদের সাথে এ দম্পতিকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে টের পেলাম মুন্নীর পরিচয় দেবার প্রয়োজন নেই, তাকে সবাই চেনে।

হলঘরে যখন অতিথিসমাগম বাড়ছিল, তখন মঞ্চ থেকে বর ও বধূ উধাও । কোথায় গেলো তারা? আজকের সকল আয়োজন, আলো ও আনন্দের তারাই তো প্রাণভোমরা। তাদের হরণ করেছে আলোকচিত্রী দল। কনভেনশন সেন্টারের সমুখে সিমেন্টের চাতাল পেরিয়ে যে সবুজ বাগান, গাছ-গাছালি, যেখানে বৃক্ষের কোমর পেচিয়ে মরিচবাতির সম্মোহন উঠেছে, রয়েছে কুঞ্জঘেরা বাতিমালা, সেখানে টিয়া ও বিপ্লবের ফটোসেশন চলছে। ফটোগ্রাফারদের আচরণ পাপারাজ্জিদের মতো হয়তো নয়, কিন্তু তারা ‘মিট দ্য প্রেসের’ আলোকচিত্রীদের মতো ঘন ঘন বিজুলিবাতির উদ্ভাসনে অই আলো আঁধারীর মাঝে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি নিয়ে তাদের প্রতিভা ঢেলে দিচ্ছিল। দীর্ঘসময় ধরে তাদের শিল্পচর্চা চললে লুবনা অস্থির হয়ে উঠল। আমরা টিয়ার ছোট ননদ মুন্নীকে দূত হিসেবে পাঠাই, কেননা আলোকচিত্রী দলটি মুন্নীর চেনা।

বিপ্লব ও টিয়া সবুজ উদ্যান ছেড়ে পুস্পসজ্জিত মঞ্চে ফিরে এসেছে। ফের শুরু হয়েছে ফটোসেশন। আমি একবার গিয়ে দোতালার হলরুমটি দেখে আসি। বাংলার নদীদের নামে একের উপর রাখা আরেক, পরপর সাজানো পাঁচটি হলঘর, তাদের প্রথম দুটি- তিস্তা ও ব্রক্ষ্মপুত্র আমাদের দখলে। আজ এই কনভেনশন সেন্টারে একটিই অনুষ্ঠান, উপরের বাকি তিন ফ্লোর বাতিহীন, সাদা আলোয় আলোকিত কেবল তিস্তা ও ব্রক্ষ্মপুত্র। তিস্তায় অতিথি অভ্যর্থনা, ব্রক্ষ্মপুত্রে অতিথি আপ্যায়ন। তেতলায় আঠারোটি গোলাকার টেবিলে ১৮০ জনের বসার ব্যবস্থা। নীল সাদা টেবিলক্লথে সুন্দর করে সাজানো খাবার টেবিলগুলো তাদের তৈজসপত্রসহ অতিথি আপ্যায়নে প্রস্তুত। প্রস্তুত সাদা কাপড়ে ঢাকা টকটকে লাল চেয়ারগুলো।

নিচে এসে দেখি আমার জমজপুত্রদ্বয় শান্ত ও প্রান্তর বন্ধুরা এসেছে। তারা বোধকরি ড্রেসকোড ঠিক করেছিল, কেননা প্রায় সকলের পরিধানে সাদা শার্ট, কালো কোট, কালো প্যান্ট, কালো জুতো। এরা বেশিরভাগ হলো স্কলাস্টিকা স্কুলের সহপাঠী বন্ধু । এই অনধিক ত্রিশজন খুব ঘনিষ্ঠ, প্রায়শই এদের পার্টি লেগে থাকে, পরিবারের বিয়ে-টিয়ে তো আছেই, বিবিধ রেস্তোরাঁর খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা চলতেই থাকে। সোহানার বন্ধুরা সবাই নর্থ সাউথের। তারা এসেছে আরও আগে, কেবল টিয়ার বন্ধুদের কাউকে দেখলাম না। আজ টেলিভিশনে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দুটি ম্যাচ আছে, জানি না সেটাই তাদের আটকে রাখলো কি না।

তিস্তা কূলপ্লাবী হলে আমি মাইক্রোফোনে অতিথিদের ব্রক্ষ্মপুত্রে গিয়ে অবগাহনের আহবান জানাই। শ্রাবণের এই নিদাঘ অপরাহ্ন ও সন্ধ্যেটি ছিল মনোমুগ্ধকর, আজ নীলাকাশে সাদা মেঘের আনাগোণা ছিল স্বস্তিকর, ঝড়বাদলের ভয় তারা তোলে নি, তবে গ্রীস্মপ্রধান এই অঞ্চলে নয় মাসই গরম। হলঘরের শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রগুলো সংখ্যায় কম নয়, কিন্তু তারাও কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। ১৮০ জন তেতলায় চলে গেলে তিস্তার মানবজলের উচ্চতা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেমে এলো।

ততক্ষণে গোটা পরিবার নিয়ে এসে গেছেন আমার দুই কলেজ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন জোয়ারদার ও নওশাদ আলী। ঘটনাচক্রে তারা দুজনেই তরিৎ প্রকৌশলী, টিয়ার শশুর জনাব বাদল মিয়া চাকরি করেন বিদ্যুৎ বিভাগে। ‘নিসর্গ’ সম্পাদক সরকার আশরাফ স্বস্ত্রীক চলে এলেন। তারও আগে এসেছে আমার তিন প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী খালিদ, সুজানা ও মাহজাবীন। পুরনো ছাত্রদের মাঝে মাশরুর ও মেহরাব। এসেছে আমার দুই সহকর্মী একলাছ উদ্দিন ও লায়লা আফরোজ । প্রথমজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স ডিরেক্টর, দ্বিতীয়জন টিয়ার শিক্ষক। দুপক্ষের আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, সহকর্মী এসেছে দলে দলে, বরপক্ষের বেশিরভাগ অতিথিকে এই প্রথম আমরা দেখছি, কনেপক্ষের অতিথিদের তারা এই প্রথম দেখছে। টিয়ার শাশুড়ির এক বোন অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম শহর পার্থ থেকে উড়ে এসেছেন অত্যন্ত প্রিয় বোনপোর বিয়েতে যোগ দিতে। তিনি পার্থে বাস করা আমার তিন চিকিৎসক বন্ধুকেই চিনলেন।

কিছুটা রাত করে এলেন আমার মতাদর্শগত অভিভাবক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কুদ্দুস। তাকে আমি চাচা বলে ডাকি। এলো শৈশবের বন্ধু মাহফুজ। এলেন করপোরেট জগতে খ্যাতিমান প্রশিক্ষক কাজী মাহমুদ আহমেদ। তিনি সুদর্শন ও দীর্ঘকায়, তার সহধর্মিনী লিজা ভাবীও তাই। ফলে বিবাহ আসরের জৌলুষ বেড়ে গেল। লুবনার বড় ভাইয়ের দুই ছেলে মীম ও বনি কেবল দীর্ঘদেহী নয়, নায়কোচিত। শান্তকে দেখলাম কাজিনদের নিয়ে সেলফি তুলে যাচ্ছে।

অতিথিঢল তিস্তা থেকে ব্রক্ষ্মপুত্রে যাচ্ছে, ব্রক্ষ্মপুত্র থেকে তিস্তায় নামছে। তিস্তায় এসে তারা বরবধূর সাথে দলবদ্ধভাবে ছবি তুলছে। আমি একবার উপরে গিয়ে অতিথিদের দেকভাল করে আসি। দ্বিতীয়বারের আহারপর্বেও যাই। রাত বাড়ছিলো, প্রথম পর্বে যারা আহার সেরেছে তারা একে একে চলে গেছে, দ্বিতীয় ব্যাচও চলে গেলে বিবাহবাসর ফাঁকা হয়ে আসে।

ট্রাফিক জ্যামে ক্লান্ত ঢাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো হয়ে উঠছে পারিবারিক গেট-টুগেদার। টিয়ার বিয়ে উপলক্ষে তাই ঘটল, অনেকদিন দেখা-না-হওয়া মুখের দেখা পেলাম, আমি, আমরা, সকলেই। লুবনা যেহেতু আমার মামাতো বোন, আমাদের কাজিনরা অভিন্ন। যারা লুবনার চাচাতো ভাই-বোন, তারাই আবার আমার মামাতো ভাইবোন; লুবনার ফুফাতো ভাই-বোনেরা আমার খালাতো ভাই-বোন। এর মস্ত সুবিধা হলো এক সেটকে দাওয়াত দিলেই চলে, অসুবিধা ঘুরে-ফিরে ঐ এক সেট। আমাদের পরিবার বৃক্ষের এত ডালপালা যে সবাইকে দাওয়াত দিতে গেলে এই কনভেনশন সেন্টারের পাঁচটি হলই ভাড়া নিতে হবে। তাই কোথাও থামতে হয়। আর যে কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে যা হয়, কখনো ধারণাকে ছাপিয়ে যায় সংখ্যা, কখনো নিমন্ত্রিত অনেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েও আসতে পারেন না। আমাদের বেলায় দ্বিতীয় ব্যাপারটি ঘটল।

ভেবেছিলাম তৃতীয় ব্যাচ খেতে বসবে, হিসেবমতো তাই হবার কথা, কিন্তু বর ও কনেপক্ষকে হতাশ করে অনেক অতিথি এলো না। তৃতীয় ব্যাচে সাজানো দুটি টেবিলের একটিতে বসলো উৎসবগৃহে সবশেষে আসা আমার চিকিৎসক বন্ধুদের কয়েকজন। এরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৩৭ ব্যাচের তপন কুমার সাহা, নুরুদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ আলী প্রিন্স, ইব্রাহীম সিদ্দিক, রীনা সাদ ফেরদৌসি, খালেদা অরুণা, নাহরিনা ঝুমা। এর আগে এসেছে দীপক পাল চৌধুরী, আলী আজম ও হুমায়রা সোনিয়া। এরা যেসময় ছাত্র ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের, আমি সেসময় তাদের সহপাঠী ছিলাম। এখন তারা কেউ কেউ কলেজটির অধ্যাপক। ভীষণ ব্যস্ত মানুষ তারা, বন্ধুর টানে চেম্বার ও হাসপাতাল ঠেলে চলে এসেছে।সংগঠনটির সভাপতি ডা. মুজিবর রহমান চেষ্টা করেও আসতে পারলেন না, তবে বীথি ভাবী এসেছেন। এছাড়া আজম গিন্নি রোকসানা ভাবী, নুরুদ্দিন গিন্নি আঞ্জুমান আরা ভাবী ও দীপক গিন্নি বৌদি এসেছেন।

প্রায় মধ্যরাত্রি ছুঁই ছুঁই সময়ে তিস্তার একপাশে সাজানো বর-বধূর টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হলে মঞ্চে ছবি তোলার সর্বশেষ অনুরোধ রক্ষা করে বিপ্লব ও টিয়া খেতে এলো। আয়তকার টেবিলের চারপাশে বর ও বধূকে ঘিরে দুটি পরিবারের সদস্যগণ আহারে বসলেন। বাইরের বলতে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী তিন বাঙালি যুবক, বিপ্লবের তিন বন্ধু।

মধ্যরাত্রির কিছু পরে টিয়া স্বামীগৃহে যাত্রা শুরু করলো। আমার ও লুবনার মন হু হু করে কেঁদে উঠল। যে মেয়ে এতগুলো বছর মা-বাবার কাছে শিশুটি হয়ে লেপ্টে ছিল, ছিল তাদের অমলিন ভালোবাসার ভিতর জড়ানো, যাকে কখনো ফুলের টোকাটিও আমরা দেইনি, সেই শিশু, সরল ও সুন্দর, পবিত্র ও মাধুর্যময়, আজ পা বাড়ালো এক নতুন জীবনে।

নতুন জীবনে তোমার পথচলা সুন্দর হোক, মা!