টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০১৮

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

কামরুজ্জামান হিমু

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করা হয়েছে একরামুল হকের স্ত্রীকে।

এ তথ্য জানা গেছে ৪ জুন, সোমবার দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, রবিবার বিকাল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার কাছে একটি ফোন আসে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও তাকে ফোন করা হয়েছিল।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘যিনি ফোন করেছিলেন তার নাম-পরিচয় মনে নেই।’ তবে ফোনকারী নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে আয়েশার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

আয়েশা আরও জানান, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও তাকে ফোন করেন। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে তার (আয়েশা) সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একরামুলের স্ত্রীর যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করার জন্য আয়েশার মোবাইল নম্বরটি তার কাছে চেয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন একরামুলের জ্যেষ্ঠ ভাই নজরুল ইসলাম।

তিন দিন ধরে দুই মেয়ে তাহিয়া ও নাহিয়ানকে নিয়ে চট্টগ্রামে মায়ের ভাড়া বাসায় রয়েছেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

গত ২৬ মে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বাহিনীটির দাবি, ইয়াবা চালানের লেনেদেনের খবর পেয়ে অভিযানে যায় একটি দল। সেসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র‌্যাব।

মাদক চক্রের অন্যরা পিছু হটলে একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ছয়টি গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে একরামুলের পরিবারের দাবি, তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩১ মে টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলন করেন একরামুলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড তুলে ধরেন। সেই রেকর্ডটি খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

একরামুল নিহতের বিষয়ে গত ২ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ভালো কাজ, বৃহৎ কাজ, মহৎ কাজ করতে গেলে দুই-একটি ভুল হতে পারে।’

এ ছাড়া ৩ জুন রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশরী শাখায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অডিও ক্লিপটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’