ডাক্তার ফেরদৌসকে কারা ‘দেবদূত’ বানাতে চান এবং কেন?

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

ডাক্তার ফেরদৌসকে কারা ‘দেবদূত’ বানাতে চান এবং কেন?


দর্পণ কবীর

নিউইয়র্কে সে সব চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাই ‘দেবদূত’ বা ‘সুপার হিরো’, যারা হাসপাতালে নিরন্তর করোনা রোগীদের পাশে ছিলেন এবং চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। যে সকল চিকিৎসক নিজ চেম্বার থেকে (টেলিফোনে) রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, তারা দেবদূত বা সুপার হিরো হতে পারেন না। তারা তো ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না। এটা সহজ এক সমীকরণ। অথচ পোষ্য কতিপয় সাংবাদিক চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারকে ‘দেবদূত’ ‘সুপার হিরো’সহ আরো কিছু অতিরঞ্জিত বিশেষণ দিয়ে সংবাদ প্রচার করেছেন।

নিউইয়র্ক থেকে যারা এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, আবার কেউ কেউ না বুঝে তাল মিলিয়ে রিপোর্ট করেছেন। এ কথা বলার অন্যতম কারণ-ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার করোনাকালে কোন হাসপাতালেই প্র্যাকটিস করেননি বা কোন হাসপাতালে ডিউটি করেননি। তাহলে করোনা রোগীদের সান্নিধ্যে না গিয়ে কী কারণে তিনি ‘দেবদূত’ বা ‘সুপার হিরো’ হবেন? গুটি কয়েকজনের বাসায় গিয়ে প্রেসক্রিপশন দিয়েই দেবদূত হয়ে যাবেন? কতজন রোগীকে দেখেছেন তিনি? এই তথ্য পোষ্য সাংবাদিকরা উল্লেখ করেননি। বলতে হচ্ছে-অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশি চিকিৎসক হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্তও হয়েছেন। তারা কিন্তু প্রচারণা করেননি। আসলে তারাই দেবদূত বা সুপার হিরো। আমার প্রশ্ন-কারা ডাক্তার ফেরদৌসকে দেবদূত বানাতে চান এবং কেন?

আজ একটি দৈনিক পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে-নিউইয়র্কে করোনা’র ভয়ে যখন অপরাপর চিকিৎসকরা চেম্বার বন্ধ করে ঘরে থেকেছেন, তখন ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা করেছেন। ডাহা মিথ্যাচার এটি। নিউইয়র্কের জরুরি অবস্থার নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোন চিকিৎসক নিজ চেম্বারে রোগী দেখতে পারতেন না। তারা শুধু টেলিফোনে চিকিৎসা সেবা দিতে পারতেন। অপরাপর চিকিৎসরা সেটাই করেছেন। তারপরও অনেক চিকিৎসক নিজের চেম্বার খোলা রেখেছেন।


এবার আসছি তার রাজনৈতিক জীবন ও খন্দকার মুশতাকের আত্মীয়তা প্রসঙ্গে। ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিমানবন্দরে নেমেই তিনি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারিতে পড়েন। কেন? এর কারণ, উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাজ দিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও পিআইবি’র মহা-পরিচালক জাফর ওয়াজেদ। তিনি লিখেছেন-সে ( ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার) যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার ডলার দিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হয়েছিলো, সবার বিরোধিতার মুখে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে,সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা পরিকল্পনার বা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত এফবিআই যাদের গ্রেফতার করেছিল তার সাথেও ফেরদৌস আলমের সখ্য রয়েছে৷ এই তথ্য সঠিক বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন নেতা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিদ্দিকুর রহমান ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বানালে তোপের মুখে পড়েন। পরে হাইকমাণ্ডের নির্দেশে তাকে বাদও দেন। একটি সূত্র জানিয়েছে-ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতার কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি একজন জামাত নেতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছেন। জানা যায়-ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের ব্যবসায়িক পার্টনারের নাম আতাউল ওসমানী। সে ছিলো চট্টগ্রাম মেডিকেলের জামাতের সেক্রেটারি। বর্তমানে নর্থ আমেরিকার মুসলিম উম্মা সংক্ষপে মুনা’র কালচারাল ডিরেক্টর।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব আমেরিকার নির্বাচনে ডাঃ ফেরদৌস বিএনপি- জামাতের প্যানেলের ছিলেন অর্থ যোগান দাতা ছিলেন বলে অভিযোগ করছে তার বিরোধীরা। কারণ, ঐ নির্বাচনে ব্যবসায়িক বন্ধু আতাউল ওসমানীর পক্ষে নির্বাচনী সভাও করেছেন তিনি । এ ছাড়া ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডাঃ ফেরদৌসকে জাতির পিতার জন্মদিন, মৃতুবার্ষিকী, ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চের কোন অনুষ্ঠানে কোনদিন দেখা যায়নি।

এটা সত্য, ছাত্রঅবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেছে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।কিন্তু নিউইয়র্কে জামাত নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতা বা ব্যবসার বিষয়টি আলোচনায় চলে এসেছে। এছাড়া ২০০৬ সালে তার ডাক্তারী লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল আর্থিক দুর্নীতির মামলায়।

তবে তিনি খন্দকার মুশতাকের ভাতিজা বা ভাগিনা-এমন কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ডাঃ ফেরদৌস খন্দকারের ইউটিউবে করোনা বিষয়ক প্রচরণা ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু অহেতুক ‘বীরত্ব’ অর্জনের প্রচেষ্টা এবং নির্লজ্জ প্রচারণায় তার ভাল কর্মকাণ্ড আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে-ডাঃ ফেরদৌসের অফিসের ঠিকানায় জামাত নেতা ডাক্তার আতাউল ওসমানীর বিজ্ঞাপন। আরেকটি পোষ্টারে দেখা যাচ্ছে আতাউল ওসমানীর পরিচয়-পরিচালক,মুনা।

দর্পণ কবীর: নিউইয়র্ক প্রবাসী,সাংবাদিক

ছড়িয়ে দিন