ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই : মোহাম্মদ  শামস-উল ইসলাম

প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই : মোহাম্মদ  শামস-উল ইসলাম

কাজি আমেনা

ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই ।ডিজিটাল ব্যাংকিং ও রি‌য়েল টাইম রে‌মিট‌্যান্স সেবা প্রদা‌নে স‌র্বোচ্চ জোর দিচ্ছে অগ্রণী ব‌্যাংক লি‌মি‌টেড। অনলাইন ব‌্যাংকিং ও অ‌্যাপস ভি‌ত্তিক ব‌্যাং‌কিং সেবা নি‌শ্চিত ক‌রে গ্রাহক সন্তু‌ষ্টি অর্জনই রাষ্ট্রয়ত্ব এ ব‌্যাংক‌টির একমাত্র লক্ষ‌্য। রেডটাইমসকে একান্ত সাক্ষাৎকা‌রে এসব তথ‌্য জানান অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ  শামস-উল ইসলাম।

‌তি‌নি ব‌লেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য অগ্রণী ব‌্যাং‌কে বে‌ছে নি‌য়ে‌ছেন। যে কার‌নে অগ্রণী ব‌্যাংক রে‌মিট‌্যান্স আহর‌ণে দে‌শের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব‌্যাংক হওয়ার গৌরব অর্জন ক‌রে‌ছে।
তাছাড়া, রফতানি কিছুটা কমলেও আশা করছি খুব শিগগিরই এটি বেড়ে যাবে। সামনে অর্থনীতির বড় সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে হলে নতুন নতুন সেবাপণ্য আনতে হবে, এসব বিষয় বি‌বেচনা ক‌রেই আমরা আধুনিক ও ডিজিটালাইজড ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি।
তি‌নি ব‌লেন, অভিযোগ ছিল-সরকারি ব্যাংকে গ্রাহকবান্ধব সেবা দেয়া হয় না। এটা একসময় প্রচলিত থাকলেও এখন নেই। আমাদের অগ্রণী ব্যাংক প্রচলিত এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। আমাদের এখানে এখন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে কর্পোরেট পর্যায়ের গ্রাহকরাও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন। সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নামানো করোনাভাইরাস, এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ব-অর্থনীতি, চলমান নানা সংকট, উত্তরণের উপায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, করোনাভাইরাস যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এই অবস্থায় আমরা কোনোদিন পড়িনি। এটা নতুন একটা পরিস্থিতি। কোনো ধরনের প্রস্ততি ছাড়াই আমাদের এ মহামারি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক নতুন অভিজ্ঞতাও হচ্ছে। প্রথম ধাক্কাটা আমরা কাটিয়ে উঠেছি।
প্রথম অবস্থায় অনেকে অফিসে আসতে চাইতেন না। যার কারণে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হয়েছিল। এখন ওই অবস্থা নেই। কর্মকর্তারা আসছেন, স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনার ফলে।
শামস-উল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছি। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে গ্রাহকের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা যায়, সার্বক্ষণিক সেই পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এজন্য আমরা ডি‌জিটালাইজড ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি। কীভাবে ব্যাংকের শাখায় না এসেও গ্রাহকরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাক্ষিত সেবা পেতে পারেন, এ বিষয়টিতে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। করোনাভাইরাস আমাদের ক্ষতি করেছে। ব্যাংকের তিনজনকে হারিয়েছি আমরা। এ ক্ষতি থেকে আমরা অনেক শিক্ষা নিয়েছি; যা আমাদের আগামীর পথচলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। আগামীতে আমরা গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে পারব, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

চলমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকের প্রত্যাশা সম্পর্কে যদি বলতেন।
শামস-উল ইসলাম: মহামারি-পরবর্তী গ্রাহকের নতুন নতুন অনেক ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হবে। তারা ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা চাইবেন। এখন সীমিত সময়ে লেনদেন হলেও এটা আরও বেশি সময় ধরে চালানোর একটা চাহিদা সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ গ্রাহক চাইবেন ২৪ ঘণ্টা লেনদেন করতে। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছি। আমাদের সব শাখাকে ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা করছি। ব‌্যাং‌কের সফটওয়্যারগুলোও আপডেট করা হচ্ছে।

এক সময় যে ব্যাংকের যত বেশি শাখা থাকত ওই ব্যাংককে তত বড় মনে করা হতো। এ ধরনের মনোভাব থেকে এখন সবাই সরে আসছে। এখন কম শাখায় বেশি সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল ওয়ালেটে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল ওয়ালেটে সহজে যত বেশি সেবা ও সুবিধা দেয়া যাবে গ্রাহক তত সন্তুষ্ট হবেন। তাই এখন শাখা বাড়ানোর চেয়ে আমরা ডিজিটাল সেবায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের জন্য অগ্রণী ব্যাংক নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি?
শামস-উল ইসলাম : আমরা বিকাশের সঙ্গে একটি সমঝোতা করছি। ইতোমধ্যে যেসব ব্যাংক বিকাশের সঙ্গে ব্যবসা করেছে, সেটা হলো ওয়ান ওয়ে। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে শুধু বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যায়। আমরা একটি ইউনিক সিস্টেম নিয়ে আসছি, সেটা হলো ব্যাংক থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে; আবার বিকাশ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে। দেশে প্রথমবারের মতো এই সেবা চালু হচ্ছে। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে
অগ্রণী ব্যাংকের সিঙ্গাপুরের একচেঞ্জ অফিস একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। সিঙ্গাপুরের প্রবাসীরা ব্যাংকে না এসে এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন। এ ধরনের গ্রাহকবান্ধব সেবা আমরা চালু করছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই । তাই ডিজিটাল সেবায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে অনেক ব্যাংকের আমানত কমে গেছে। গ্রাহকের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ দেয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থা কী? শামস-উল ইসলাম : অগ্রণী ব্যাংকের আমানতের বড় একটা অংশ সরকারি ডি‌পো‌জিট। জুন ক্লোজিংয়ের কারণে প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। এতে কিছুটা আমানত কমেছে। তবে আমাদের গ্রামগঞ্জে অনেক শাখা রয়েছে। সারাদেশে আমাদের ৯৫৮টি শাখা রয়েছে। ২০০ এজেন্ট ব্যাংকিং, নয়টা ইসলামিক ইউনিট আছে। এসব শাখায় সঞ্চয় এসেছে যার কারণে মোট আমানত কমেনি। আমরা আশা করছি, আগামীতে ডিপোজিট আরও বাড়বে। বর্তমানে আমাদের ডলার সংকট নেই। বাজা‌রে আমরা ডলার বিক্রি কর‌ছি। কারন আমরা প্রচুর রে‌মিট‌্যান্স আহরণ করে আস‌ছি। বর্তমা‌নে প্রবাসী‌দের আস্থার নাম অগ্রণী ব‌্যাংক। আর তারল্য সংকটও নেই। ফলে আমাদের ঋণ দিতেও সমস্যা হচ্ছে না।

ছড়িয়ে দিন