ডিজিটাল মিডিয়া

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৭

ডিজিটাল মিডিয়া

সৌমিত্র দেব
আমরা যারা অনলাইন মিডিয়া নিয়ে কাজ করি, আমাদের ধারণা গণমাধ্যমে সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার আমরাই করছি। কম্পিউটার, ল্যাপটপ এগুলো তো প্রযুক্তির হাল নমুনা। সনাতন গণমাধ্যমে যেখানে সংবাদ পত্র, রেডিও, টেলিভিশন সব আলাদা মাধ্যম, সেখানে অনলাইনে আমরা সব কিছুকে এক জায়গায় পাচ্ছি। একটি পিসিতেই এখন পত্রিকা পড়া যায়, টেলিভিশন দেখা যায়, রেডিও শোনা যায়। কিন্তু আমরা খেয়াল করি নি, কখন যে আমাদের গণমাধ্যম কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ ছাড়িয়ে আরো অনেক এগিয়ে গেছে। গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রযুক্তি এখন আশ্রয় নিয়েছে মোবাইল ফোনে। জাতীয় কবি বলেছিলেন, ‘বিশ্বটাকে দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।’ এই কথাটিকেই যেন বাস্তব করে দিল এই মুঠো ফোন । কম্পিউটার-ল্যাপ্টপের চেয়ে অনেক বেশি গণমুখী এই প্রযুক্তি। ডিজিটাল ডিভাইসের কারণে একে আমরা ডিজিটাল মিডিয়া নামে ডাকতে চাই। এটি আরো সহজ, প্রাণবন্ত একটি গণমাধ্যম। কম্পিউটার স্থির, আর ল্যাপটপ বহনযোগ্য হলেও কিছুটা ভারি ছিল; কিন্তু এই মিডিয়া একেবারেই মুঠোর ভেতরে।
তবে ডিজিটাল মিডিয়া বা সাংবাদিকতাকে অনেকেই আলাদা করে দেখেন না। উইকি পিডিয়ায় একে একীভূত বলেই সংজ্ঞায়িত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে – ‘উরমরঃধষ লড়ঁৎহধষরংস ধষংড় শহড়হি ধং ড়হষরহব লড়ঁৎহধষরংস রং ধ পড়হঃবসঢ়ড়ৎধৎু ভড়ৎস ড়ভ লড়ঁৎহধষরংস যিবৎব বফরঃড়ৎরধষ পড়হঃবহঃ রং ফরংঃৎরনঁঃবফ ারধ ঃযব ওহঃবৎহবঃ ধং ড়ঢ়ঢ়ড়ংবফ ঃড় ঢ়ঁনষরংযরহম ারধ ঢ়ৎরহঃ ড়ৎ নৎড়ধফপধংঃ. ডযধঃ পড়হংঃরঃঁঃবং ‘ফরমরঃধষ লড়ঁৎহধষরংস’ রং ফবনধঃবফ নু ংপযড়ষধৎং. ঐড়বিাবৎ ঃযব ঢ়ৎরসধৎু ঢ়ৎড়ফঁপঃ ড়ভ লড়ঁৎহধষরংস যিরপয রং হবংি ধহফ ভবধঃঁৎবং ড়হ পঁৎৎবহঃ ধভভধরৎং, রং ঢ়ৎবংবহঃবফ ংড়ষবষু ড়ৎ রহ পড়সনরহধঃরড়হ ধং ঃবীঃ, ধঁফরড়, ারফবড় ধহফ ংড়সব রহঃবৎধপঃরাব ভড়ৎসং, ধহফ ফরংংবসরহধঃবফ ঃযৎড়ঁময ফরমরঃধষ সবফরধ ঢ়ষধঃভড়ৎসং.
ঋববিৎ নধৎৎরবৎং ঃড় বহঃৎু, ষড়বিৎবফ ফরংঃৎরনঁঃরড়হ পড়ংঃং, ধহফ ফরাবৎংব পড়সঢ়ঁঃবৎ হবঃড়িৎশরহম ঃবপযহড়ষড়মরবং যধাব ষবফ ঃড় ঃযব রিফবংঢ়ৎবধফ ঢ়ৎধপঃরপব ড়ভ ফরমরঃধষ লড়ঁৎহধষরংস. ওঃ যধং ফবসড়পৎধঃরুবফ ঃযব ভষড়ি ড়ভ রহভড়ৎসধঃরড়হ ঃযধঃ ধিং ঢ়ৎবারড়ঁংষু পড়হঃৎড়ষষবফ নু ঃৎধফরঃরড়হধষ সবফরধ রহপষঁফরহম হবংিঢ়ধঢ়বৎং, সধমধুরহবং, ৎধফরড়, ধহফ ঃবষবারংরড়হ. সেখানে আরো বলা হয়েছে- ‘অ মৎবধঃবৎ ফবমৎবব ড়ভ পৎবধঃরারঃু পধহ নব বীবৎপরংবফ রিঃয ফরমরঃধষ লড়ঁৎহধষরংস যিবহ পড়সঢ়ধৎবফ ঃড় ঃৎধফরঃরড়হধষ লড়ঁৎহধষরংস ধহফ ঃৎধফরঃরড়হধষ সবফরধ. ঞযব ফরমরঃধষ ধংঢ়বপঃ পধহ নব পবহঃৎধষ ঃড় ঃযব লড়ঁৎহধষরংঃরপ সবংংধমব ড়ৎ হড়ঃ, ধহফ ৎবসধরহং রিঃযরহ ঃযব পৎবধঃরাব পড়হঃৎড়ষ ড়ভ ঃযব ৎিরঃবৎ, বফরঃড়ৎ, ধহফ/ড়ৎ ঢ়ঁনষরংযবৎ.’
ডিজিটাল সাংবাদিকতা নিয়ে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার একটু অন্যরকম মত পোষণ করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজে মনে করি, ডিজিটাল সাংবাদিকতা মানে হচ্ছে, মাল্টিমিডিয়া বা পাঠ্য বিষয়, অডিও, স্থির ও চলমান চিত্র সহযোগে ইন্টারএকটিভ পদ্ধতিতে তথ্য উপাত্তকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা। এটি বস্তুত প্রচলিত গণমাধ্যম বা বিরাজমান সাংবাকিতার বিকল্প। যদিও ডিজিটাল সাংবাদিকতা মানেই সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারণার সকল কিছুরই পরিবর্তন নয়, তবুও এটি নিঃসন্দেহে প্রচলিত সাংবাদিকতার জন্য একটি নতুন মাত্রা। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে কেবল একটি মাধ্যম ব্যবহৃত হয় না। মাধ্যম ব্যবহারের কোনো সীমাবদ্ধতাও এতে নেই। মানুষের প্রকাশ করার তিনটি মাধ্যম পাঠ্য বিষয়, অডিও ও চিত্র তিনটির যে কোনো একাধিক বা সব কটি ব্যবহার করা ছাড়াও এতে ইন্টারঅ্যাকটিভিটি যোগ করা যায়।
অনেকেই এমন প্রশ্ন করে থাকেন, ডিজিটাল সাংবাদিকতা কী প্রচলিত সাংবাকিতার চাইতে ভিন্ন? হতে পারে, সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো কোনো মাধ্যমেই বদলায় না। বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য এসব সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়। জনগণের কাছে তার প্রাপ্য তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটা সাংবাদিকতার একটি লক্ষ্য। তবে কাগজের পত্রিকা আর টেলিভিশনে সাংবাদিকতার কৌশল যেমন একইরকম থাকে না, তেমনি প্রচলিত সাংবাদিকতা বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার কৌশলও এক হতে পারে না। এমনকি যেহেতু তথ্য উপাত্ত বা সংবাদ পরিবেশনের বিষয়টি আলাদা এবং যেহেতু এর প্রকাশের মাধ্যমও ভিন্ন তাই সংবাদ তৈরির বিষয়টিও ভিন্ন। যারা এই পার্থক্যটুকু বুঝতে অক্ষম তারা ডিজিটাল সাংবাদিকতায় সফল হতে পারবেন না।
উইকিপিডয়ার মতে টেলিটেক্সট নামক প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯৭০ সালে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সূচনা হয় ব্রিটেনে। আমি অবশ্য সেটি মনে করিনা। কারণ টেলিটেক্সট সংবাদ উপস্থাপনাকে ভিন্নতর করেছে বটে তবে ডিজিটাল সাংবাদিকতার মৌলিক চরিত্র তাতে উপস্থিত ছিল না। টেলিটেক্সটে তথ্যাদি খুব সংক্ষেপে উপস্থাপিত হতো। প্রধানত সংবাদ শিরোনাম বা ব্রেকিং নিউজ এই পদ্ধতির উপজীব্য বিষয় ছিল। এরপর আসে ভিডিও টেক্সট। অনেকেই হয়তো দেখে থাকবেন, টিভি স্ক্রিনের খবরগুলোকে পাঠ্য বিষয় আকারে উপস্থাপন করা হতো এবং পাঠক সেখান থেকে খবর বাছাই করতে পারতো। ১৯৭৯ সালে প্রচলিত প্রিস্টেল ভিডিওটেক্সট সিস্টেম ব্রিটিশ পত্র-পত্রিকাগুলো ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে। এদের মাঝে ‘ফাইনেন্সিয়াল টাইমস’ও ছিল। ১৯৮৬ সালে ভিডিও টেক্সট পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়। ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কম্পিউটার গেমিং ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল সাংবাদিকতার একটি প্রযুক্তি অধিগ্রহণ করে। তবে ডিজিটাল মিডিয়ার সূচনা হয় প্রায় একই সময়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর জন্মের পর। আমি ইন্টারনেটের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা বলবো না। বস্তুত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইন্টারনেটের তেমন সম্পর্কও গড়ে ওঠেনি, যতদিন পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জন্ম না হয়। একটি গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে নতুন পৃথিবীর নতুন ইন্টারনেট ব্যবস্থা। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে মোজাইক নামক ব্রাউজারের জন্ম হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে আকৃষ্ট হতে থাকে। ১৯৯৪ সালে জন্ম নেয় নেটস্কেপ নেভিগেটর ব্রাউজার। ১৯৯৫ সালে জন্ম নেয় ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। এসবেরও আগে আমেরিকার উত্তর ক্যারোলিনায় নান্দো নামক একটি নিউজ সাইটের জন্ম হয়েছিল বলে জানা যায়। ব্রাউজারের জন্মের পর নান্দোর প্রসার ব্যাপক হতে থাকে। এমনকি ১৯৯৬ সাল নাগাদ আমেরিকার পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণ ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। এই সময়েই আমেরিকান অনলাইন ও ইয়াহু অনলাইন নিউজ সার্ভিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রডিগি ও কম্পুসার্ভ অনলাইনে সংবাদপত্র পরিবেশনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। পিউ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৮ সালে বেশির ভাগ আমেরিকান অনলাইনে তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ২০০০ সালেই বেশির ভাগ উন্নত দেশের সাংবাদিকরা ইন্টারনেটকে তাদের যোগাযোগ ও উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। তবে ১৯৯৯ সালেই অনলাইন সাংবাদিকদের সমিতি ‘অনলাইন নিউজ এসোসিয়েশন’ গঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৭০০। আমরা ১৯৬৯ সাল থেকে বিকাশমান ইন্টারনেট ব্যবস্থাকেই ডিজিটাল সাংবাদিকতার মহাসড়ক হিসেবে গণ্য করি বলে এই মাধ্যমটিকে ব্যবহার করে যখনই কোনো গণমাধ্যমের সূচনা হয়েছে, তখনই আমরা ডিজিটাল সাংবাদিকতার লক্ষণ দেখতে পেয়েছি।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস যথেষ্ট পুরনো। তবে এ কথাটি সত্য, এই অঞ্চলে সংবাদপত্রের বিকাশের প্রথম স্তরটি হচ্ছে ’৪৭ উত্তরকালের। ব্রিটিশ ভারতে এই অঞ্চলে সংবাদপত্র নামক কিছু ছিলই না। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এর প্রসার ঘটে। দ্বিতীয় স্তর বা স্বর্ণযুগের সময়টি হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তরকালের। আমরা যদি কেবলমাত্র অনলাইন মিডিয়ার কথা বলতে চাই তবে স্মরণ করতে হবে, এ দেশের পত্রিকাগুলো ’৮৭ সালের ১৬ মে আনন্দপত্র কম্পিউটারে কম্পোজ করে প্রকাশের পরে ডিজিটাল যুগে পা রাখে। ১৯৯৩ সালের মাঝেই দেশের প্রায় সব পত্রপত্রিকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডাটা এন্ট্রির যুগে প্রবেশ করে। এরপর পেজ ম্যাকআপ ও ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল হয়।
এক সময় বাসস, এনা, ইউএনবি ইত্যাদি নিউজ সার্ভিসের সেবাকে টেলিপ্রিন্টারে পাওয়া দিয়ে বাইরের সূত্রের খবর পাওয়া শুরু হয়। সেই সময়ে রয়টার, এএফপিও একই ধরনের সেবা দেয়। তখনই পত্রিকাগুলোকে সমস্যায় পড়তে হয় মফস্বলের বা দেশের বাইরের খবর ও ছবি পেতে। তখন তারা শুরুতেই ফ্যাক্স ব্যবহার করতে থাকে। হাতের লেখা খবর ফ্যাক্সে করে ঢাকায় পাঠানো হতো এবং কম্পোজ করে সেটি প্রকাশ করা হতো। ফ্যাক্সে পাঠানো ছবির গুণগত মান খারাপ থাকতো বলে তাতে লেখা থাকতো ফ্যাক্সে প্রাপ্ত। ১৯৯০ সালে আনন্দপত্র ফ্যাক্সে দৈনিক করতোয়াকে খবর ও ছবি পাঠাতে শুরু করে। খবরগুলো কম্পিউটারে কম্পোজ করে পাঠানো হতো। কিছুদিনের মধ্যেই অ্যাপল কম্পিউটারে মডেমের যুগ প্রচলিত হয়। টেলিফোন লাইনের সঙ্গে মডেম যুক্ত করে তার মাধ্যমে করতোয়াকে ছবি ও খবর প্রদান করা শুরু হয়। জন্ম হয় আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ নামক ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আনন্দপত্র এর চূড়ান্ত ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রচারণা টিমের সঙ্গে আনন্দপত্র একটি মেকিন্টোস কম্পিউটার- একটি স্ক্যানার ও একটি মডেম যুক্ত করে। সিদ্দিকুর রহমান নামক একজন চালক এর পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। শেখ হাসিনার জনসভার খবর ও ছবি সেখানেই সংগ্রহ করে টেলিফোন ডায়াল করে সেটি ঢাকায় পাঠানো হতো এবং সেখান থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সেই খবরগুলো বিতরণ করা হতো। এই কাজটি করা হতো আমার বাসা ১৬/১ সেগুন বাগিচা থেকে। আমার স্ত্রী বকুল মোস্তাফা সেটি সমন্বয় করতেন। ধীরে ধীরে সেটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল সংবাদ সংস্থায় পরিণত হয়। এখনো এই সংবাদ সংস্থাটি তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে এর কোনো অনলাইন সংস্করণ নেই।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটে। আমরা ১৯৯৬ সালের ৬ জুন অনলাইন ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ করি। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশিত হয়। ততদিনে বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর ওয়েবসাইট থাকার রীতি প্রচলিত হয়েছে। প্রথম আলোও সেই রীতিতে প্রথম দিন থেকেই ওয়েবসাইট প্রকাশ করে। শুরুতে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ মানে ছিল এর বিষয়বস্তুর পিডিএফ সংস্করণ। পরে সেটি ই-পেপার হিসেবে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে এখন অনলাইন সংস্করণও প্রকাশিত হয়। রাত ১২টায় পত্রিকাটি আপলোড হয়। এরপর এতে দিনের খবরগুলো যুক্ত হতে থাকে।
বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন নিউজপোর্টাল বস্তুত বিডিনিউজ২৪ ডটকম। আমি এর আত্মপ্রকাশের কাহিনীটা এর সম্পাদকের মুখ থেকেই শুনেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ২০০৬ সালের ঈদের সময় এক নাগাড়ে পত্রিকা বন্ধ থাকার বিষয়টি তাকে পীড়া দেয় এবং তিনি ভাবতে থাকেন, এই লম্বা সময়ে মানুষের কাছে তথ্য না দিতে পারাটা একটি অক্ষমতা। সেই সূত্র ধরেই ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর বিডি নিউজ২৪ ডটকম জন্ম নেয়।
বাংলাদেশে এখন আর ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ার আকাল নেই। আমিতো মনে করি, প্রতিদিনই এসব মাধ্যমের জন্ম হচ্ছে। চরিত্রগতভাবে এসব মিডিয়ার মান কি সেসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও সেটি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। তবে সংখ্যার দিক থেকে এটি এক ধরনের হুজুগে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ক্ষেত্র হিসেবে এর প্রকাশ মাধ্যম ও ইন্টারঅ্যাকটিভিটির ব্যবহার বস্তুত নেই। বেশির ভাগ গণমাধ্যম কেবল মাত্র ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রকাশিত হয়। এতে অডিও-ভিডিওর ব্যবহারও নেই। কখনো কখনো একে কাগজের পত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণই মনে হয়। আগামী দিনে এর আমূল পরিবর্তন হবে। বস্তুত কাগজের পত্রিকাই হোক বা টিভি-রেডিও হোক সবই ইন্টারনেটেই প্রকাশিত হবে। আমি মনে করি সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ার সঙ্গে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে নতুন মিডিয়ার জন্ম হবে। সেটি হবে ডিজিটাল মিডিয়া।” আবার ডিজিটাল সাংবাদিকতার আরেকটি সংজ্ঞায় বলা হয়েছে : ঞযব ঢ়যবহড়সবহড়হ ড়ভ ‘ঙহষরহব ঔড়ঁৎহধষরংস’ পধহ নব ফবভরহবফ ধং ঃযব ঁংব ড়ভ ফরমরঃধষ ঃবপযহড়ষড়মরবং ঃড় ৎবংবধৎপয, ঢ়ৎড়ফঁপব ধহফ ফবষরাবৎরহম হবংি ধহফ রহভড়ৎসধঃরড়হ ঃড় ধহ রহপৎবধংরহমষু পড়সঢ়ঁঃবৎ ষরঃবৎধঃব ধঁফরবহপব (ইধৎহযঁৎংঃ; পরঃবফ রহ উবুঁব, ১৯৯৯: ৩৭৮).
অন্যদিকে ৪ মে ২০১৭ তারিখের প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়ার বাস্তবতার কথা।”
ছাপা পত্রিকাসহ প্রথাগত গণমাধ্যমের ওপর ডিজিটাল মাধ্যমের প্রভাব বাড়ছে। ডিজিটাল মাধ্যম এখন বাস্তবতা। একে হুমকি না মনে করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমের সুবিধা নিয়ে কীভাবে প্রথাগত মাধ্যমকে আরও গতিশীল করা যায়, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
‘ডিজিটাল মিডিয়া: হুমিক ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সম্মেলনে এমন পরামর্শ উঠে এলো। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ সম্মেলনের আয়োজন করে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিজেএ) বাংলাদেশ ও ভারত চ্যাপটার।
অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে একটু ভিন্নতা পোষণ করে ‘ডিজিটাল মাধ্যম: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার। যোগাযোগমাধ্যমের প্রাচীন, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চিত্র উঠে আসে এ উপস্থাপনায়। মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা একটি দেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটি মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৬০ লাখ। তিনি বলেন, ডিজিটাল মিডিয়া এখন বাস্তবতা। একে হুমকি মনে করাটা অমূলক। বরং এই মিডিয়াকে প্রথাগত মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে না তা বলা যাবে না। তবে অপব্যবহারের এসব আশঙ্কা রোধ করার নানা হাতিয়ার কিন্তু প্রযুক্তিই সরবরাহ করেছে। এর একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংকিং।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সনাতন গণমাধ্যম তাদের অবস্থান হারাচ্ছে। বড় বড় সংবাদপত্র ডিজিটাল মাধ্যমের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে এদিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটি শুভ লক্ষণ। এ বাস্তবতা যত দ্রুত আমাদের দেশের গণমাধ্যম বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল।’ তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য বিকৃতির অনেক সুযোগ আছে। একে আমরা তারুণ্যের সমার্থক বলে মনে করতে পারি। তরুণদের অভিজ্ঞতা কম থাকে, তারা ভুল করে ফেলে। এসব কাটিয়ে উঠে একটি দায়িত্বশীল ডিজিটাল মাধ্যম গড়ে তোলা দরকার।’
সিজেএর গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র বেদ বলেন, ‘ডিজিটাল মাধ্যমে প্রবেশ এবং প্রভাব আমাদের প্রতিদিনের কর্মে। একে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবেশিত তথ্য নিয়ে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় অনেক সময়। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহার দরকার।’
ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক জয়ন্ত রায় চৌধুরী বলেন, এবারের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে বিজেপির জয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার অতীতের আর কোনো নির্বাচনে হয়নি। বিজেপি একেবারে বুথভিত্তিক যেভাবে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার করেছে, সেটা ছিল তাদের জয়ের চালিকাশক্তি। এখন তাদের কাছে থেকে শিক্ষা নিয়ে বিরোধী কংগ্রেস ডিজিটাল সেল স্থাপন করেছে। এমনকি যে সিপিএম এসব বিষয়ে পিছিয়ে ছিল তারাও এখন এই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার হায়দরাবাদের সাবেক আবাসিক সম্পাদক কিংশুক নাথ বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমের চেয়ে সংবাদপত্রের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো বেশি। তবে প্রথাগত গণমাধ্যম এখন অস্তমিত সূর্যের মতো।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আবদুুল কাইয়ুম বলেন, কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে ছাপা সংবাদপত্রের একটি মেলবন্ধন ঘটানো যায়, সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছাপা পত্রিকাকে এখন সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের উপস্থাপনার রীতি পাল্টাতে হবে।
সিজেএ’র বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সম্পাদক সালেহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সিজেএ’র ইমেরিটাস প্রেসিডেন্ট হাসান শাহরিয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজিএ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।”
বাস্তবতা যেমন আছে সংকটও তেমনি কম নয়। ইত্তেফাক পত্রিকায় ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সাঈদ অভি “ডিজিটাল মিডিয়া ও আত্মপরিচয়ের সংকট” প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি লিখেছেন “মূলত আশির দশকে যোগাযোগের দুনিয়ায় প্রযুক্তিবিপ্লব ঘটে যাওয়ায় নেহাৎ ক্ষুদ্র হয়ে পড়ে একান্ন কোটি বর্গকিলোমিটারের পৃথিবী। বর্তমান বিশ্ব শাসন করছে কেÑএমন প্রশ্ন করলে যে কারো ধারণায় প্রথমেই চলে আসবে আমেরিকা কিংবা রাশিয়ানদের কথা। বাস্তবিক অর্থে উত্তর-ঔপনিবেশিককালে অন্য রাষ্ট্র ও ভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায় তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোটা তথ্যব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করা। যেহেতু তথ্যের আদান-প্রদান, বিতরণ, সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ, সঞ্চালন প্রভৃতি ঘটে যোগাযোগ প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের সাহায্যে; সেহেতু এই তথ্যপ্রবাহের নিয়ন্ত্রকরাই পুরো পৃথিবীর বিরাট জনগোষ্ঠীর চিন্তাধারার নিয়ন্ত্রক।
পুরাতন গণমাধ্যমের প্রভাবকে সীমিতকরণের মধ্য দিয়ে যে নতুন ধারার গণমাধ্যমের আবির্ভাব ঘটেছে বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে, তার নাম নিউ মিডিয়া বা নতুন গণমাধ্যমÑযা প্রাযুক্তিক উৎকর্ষের কারণে ডিজিটাল গণমাধ্যম হিসেবেও বিশেষভাবে পরিচিত। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার এ বৈজ্ঞানিক সুফলগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েব, ওয়েব টু, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অনলাইন গেমিং, সর্বোপরি ইন্টারনেট বা অনলাইনভিত্তিক গোটা যোগাযোগ পরিসরই নতুন ধারার গণমাধ্যমের অন্তর্গত। দ্রুত, দ্বিমুখী, নিশ্চিত, গোপন ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, যোগাযোগের সংরক্ষণশীলতা এবং সহজলভ্য যোগাযোগব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন জনপ্রিয়তার সিঁড়িতে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ডিজিটাল মিডিয়ার চাহিদা। যে কারণে একই মুদ্রার দুই পিঠের মতো সুফলের সঙ্গে বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও জড়িয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জীবনে।
গণমাধ্যমের বহুল উল্লিখিত তাত্ত্বিক মার্শাল ম্যাকলুহান বলেছিলেন,‘আমাদের প্রযুক্তিই আমাদেরকে কাল্পনিকভাবে বাঁচতে বাধ্য করছে। মিডিয়াটাইজেশনের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করে ধারণা করা হয় এটি ব্যক্তি, সমাজ এবং রাজনীতিকে পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ ব্যক্তিজীবনে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যক্তি যদি আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার বিপুলা পৃথিবীতে নিজের প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলে তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক পর্যায়েও ক্ষতির কারণ। কেননা, ব্যক্তিই সমাজকাঠামোর ক্ষুদ্রতম উপাদান এবং ব্যাপক ব্যক্তি পর্যায়ের বিপর্যয় গোটা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এইরকম এক ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সমূহ আশঙ্কা জেগে উঠছে বাংলাদেশের উঠতি প্রজন্মের মধ্যেÑ যারা সামাজিক যোগাযোগ ও অনলাইনকে শুধু যোগাযোগ ঘাটতি পূরণ করার চাইতেও আরো বেশি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর করা ইউসি ওয়েবের গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। অধিকাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে যুক্ত এবং এদের শতকরা ২৩ ভাগেরও বেশি ব্যবহারকারী প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় কাটায় এসব সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে। বাস্তবের স্বাদ দিয়ে তৈরি সিউডোরিয়েলিটির জগৎ অনলাইন গেমিং। হু হু করে বাংলাদেশে বাড়ছে অনলাইন গেমারদের সংখ্যা, যাদের বেশিরভাগই খেলছে দুধরনের গেম: রোল প্লেয়িং গেম এবং ম্যাসিভ মালটিপ্লেয়ার অনলাইন গেম (এমএমওজি)। গেমারদের শতকরা ৪১ ভাগই ১৮-২০ বছর বয়সী। অনলাইনের গেমের নকল-পৃথিবীতে গেমাররা নানা ধরনের পরিচয় গ্রহণ করছে, সেই দুনিয়ায় তাদের জায়গা-জমি, থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থাই আছে যদিও এর কোনোটিই বাহ্যিক নয়।
ইন্টারনেটপূর্ব যুগে মানুষকে অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য, নিজের যোগ্যতানুসারে যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়ার জন্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হতো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যক্তির নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ করে দেয়Ñ ব্যক্তি কী পছন্দ করে, কী চায় ইত্যাদি। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীরা নিজস্ব প্রোফাইলে নিজেদের গুণাবলি, বিশেষত্ব তুলে ধরে গ্রহণযোগ্যতা পায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো শুধুই আত্মবিজ্ঞাপন ও আত্মপ্রচারণা। ‘আমি যা নই তা’ বানানোর অসীম ক্ষমতা রয়েছে সাইবার সেপসের, যোগাযোগমাধ্যমগুলোর। এ কারণেই ব্যবহারকারীরা এর দিকে আকৃষ্ট হয় বেশিÑস্থূলকায়রা চায় তাদের লোকে দেখুক শীর্ণকায় হিসেবে। তাই তারা শরীরকে আড়াল করে বিভিন্নভাবে, যারা দেখতে কালো তারা প্রসাধনী বা এডিটেড ছবি দিয়ে নিজেকে সুন্দর হিসেবে উপস্থাপন করে, বাস্তবের খুনি সাজে ধার্মিক, অনলাইন গেমিং প্লাটফর্মে গেমাররা গড়ে তোলে নিজের মনের মতো বাড়ি, গাড়ি, এমনকি নারী, বিলাসবহুল স্বপ্নের পৃথিবী, যা পার্থিব জগতে খুব সহজে পাওয়া সম্ভব নয়।
আগেকার মানুষ কাছের মানুষদের সময় দিত, মুখোমুখি বসে রাতভর দিনভর গল্প করত। এখন মানুষ সময় ব্যয় করে তাদের হাতের আধুনিক যোগাযোগের ডিভাইসে, নিজস্ব অনলাইন প্রোফাইলে, সময় দেয় সেখানে অপেক্ষায় থাকা অন্য কোনো প্রোফাইলকে। এভাবে যোগাযোগের বিস্তৃত অদেখা পৃথিবী তৈরি হলেও সীমিত হয়ে আসছে সত্যিকার দুনিয়ার কথোপকথন, ফিকে হয়ে পড়ছে সম্পর্কের রং, বন্ধন। আমরা কেউ কাউকে সামনাসামনি নিজেদের চোখে দেখে চিনছি না, চিনছি মিডিয়া আমাদের যেভাবে চেনাচ্ছে। বাস্তবের মানুষদের কাছে আমরা একরকম, অনলাইনের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে আমরা অন্য মানুষ।

সৌমিত্র দেব ; বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন বিওএমএ-র সাধারন সম্পাদক