ডিজিটাল শিক্ষা সেবার অগ্রযাত্রায় অনলাইন পোর্টাল ‘কানেক্ট’ ও ‘শিক্ষক বাতায়ন’

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

ডিজিটাল শিক্ষা সেবার অগ্রযাত্রায় অনলাইন পোর্টাল ‘কানেক্ট’ ও ‘শিক্ষক বাতায়ন’

কাজী শাম্মীনাজ আলম

স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এসে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রায় অর্জিত সাফল্য দেশকে নিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দ্বারপ্রান্তে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং সহজেই নাগরিক সেবা প্রাপ্তির প্রত্যেকটি ক্ষেত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পৌঁছে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থাও এর বাইরে নেই। ডিজিটাল শিক্ষা সেবা প্রদানে অনলাইনভিত্তিক সেরকম দুটি প্ল্যাটফর্মের নাম ‘কানেক্ট’ এবং ‘শিক্ষক বাতায়ন’। যেগুলো দেশের শিক্ষক সমাজ ও কিশোর সমাজকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার অনন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই পোগ্রাম ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের কারিগরি সহায়তায় জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষাবিদ  মুহম্মদ জাফর ইকবালের পৃষ্ঠপোষকতায় কিশোর কিশোরীদের পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত নানা ধরনের মানসম্পন্ন শিক্ষা উপাদান তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য জন্য শুরু হওয়া নতুন এক অগ্রযাত্রা ‘কানেক্ট’। যা কিশোর বাতায়ন নামেও পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই পোর্টালটির উদ্বোধন করেন।

বাংলা ভাষাভাষী কিশোর-কিশোরীরা বিশ্বের যে কোনও কোণে বসে অনলাইনে ‘কিশোর বাতায়ন’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে সক্ষম। এটি তরুণদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে। এর অভীষ্ট হলো শিক্ষা এবং কাউন্সেলিংযের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী এবং যুবকদের ভবিষ্যত দক্ষ কর্মী হিসেবে রূপান্তর করা। আর এর লক্ষ্য ৩৬ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরীদের যুক্ত করা যাতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নয়ন করে তারা দেশের অগ্রগতি তথা এসডিজি অর্জনে অবদান রাখতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন বিষয় দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘কিশোর বাতায়ন’। konnect.edu.bd লিংকটির মাধ্যমে ওয়েবপেজটিতে প্রবেশ করতে হবে এবং যুক্ত হওয়া যাবে।

তরুণরা এই ওয়েবপেইজে বই পড়া থেকে শুরু করে ডাউনলোড করা, সিনেমা দেখা ও কনটেন্ট তৈরি করে আপলোড করাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যাকে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দিয়ে বিশ্লেষণ করা ও হাতেকলমে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই কেবল ওয়েবপেজটিতে যুক্ত হতে পারবে। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরা কানেক্টের সদস্য হওয়ার যোগ্য। বর্তমানে এই পোর্টালে ৩৫,০০,০০০ জন শিক্ষার্থী ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। ওয়েবসাইটটি শিশু কিশোরদের উপযোগী কন্টেন্ট আছে ৩০,০০০টি।

আঁকা ছবির মাধ্যমে হোমপেজসহ বিভিন্ন আইকন তুলে ধরা হয়েছে কিশোর বাতায়নে। অক্ষর পড়তে না পারলেও শিশুরা ছবি দেখে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাবে। এটির ইউজার ইন্টারফেসটি কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। হোম পেজের ওপর দেখা যাবে ‘খবরদার’, ‘আইডিয়া বক্স’, ‘লগইন’সহ তিনটি মেন্যু। এ ছাড়া রয়েছে ‘কমিকস’, ‘আপলোড’, ‘আরো চাও’, জীবন দক্ষতা কিংবা ‘চলচ্চিত্র’র মতো মজার মজার সব অপশন। ওয়েবসাইটের একদম নিচে রয়েছে যোগাযোগের ঠিকানা এবং লিংকস অপশনে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রয়োজনীয় সব লিংক। ‘জীবন দক্ষতা’ বিভাগে রয়েছে দারুণ সব বিষয়। এতে জানা যাবে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে, সাইবার সতর্কতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ক্যারিয়ার সম্পর্কে অনেক তথ্য। রয়েছে বিষয়গুলো সম্পর্কিত নানা ভিডিও। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে কিশোর বাতায়নে রয়েছে ‘মাথা খাটাই’ বিভাগ। প্রযুক্তির নানা দিক সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়েছে এই সাইটে। কিশোর-কিশোরীদের নানা প্রতিভা বা উদ্ভাবনীগুলো সবার সামনে যেন তুলে ধরা যায় সে জন্য কিশোর বাতায়নে রয়েছে ‘আপলোড’ অপশন। সেখানে একজন কিশোর-কিশোরী নিজের সম্পাদিত ভিডিও, গান বা কবিতা আবৃত্তির অডিও ইত্যাদি আপলোড করতে পারবে। আপলোডের পর তা নাম ও ক্যাপশনসহ প্রকাশ করা হয়।

-২-

কিশোর বাতায়নের চলচ্চিত্র বিভাগটি সাজানো হয়েছে কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী করে। এখানে রয়েছে চমৎকার সব কার্টুন ও চলচ্চিত্র। ডাউনলোড না করেই স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দেখা যাবে এসব । কিশোর বাতায়নে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের প্রোফাইল সাজাতে পারবে। কে কয়টি বই পড়েছে বা কয়টি ভিডিও বা ছবি আপলোড করেছে তাও দেখা যাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে সেগুলো প্রোফাইলে যুক্ত হবে। ‘কানেক্ট’ প্রতিবছর অনলাইন ও অফলাইন বিভিন্ন শিক্ষামুলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে আমার জেলা আমার অহংকার, বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে-বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে, কৈশোরে বঙ্গবন্ধু/আমার কৈশোর/আমার স্বাধীনতা এগুলো অন্যতম। এছাড়া ‘ফুলবন্ধু’ নামে প্রতি বছর থিম্যাটিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কানেক্ট। আয়োজিত এসব প্রতিযোগিতা এপর্যন্ত ২০,০০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ কিশোর-কিশোরী।

তরুণদের সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘কানেক্ট’। বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে কিশোর বাতায়নে যুক্ত হয়ে নিজেদের সময়কে কাজে লাগাতে পারছে। অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। নিজেদের সৃজনশীল কাজগুলো এখানে আপলোডের সুযোগ তাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা শহরের শিক্ষার্থীদের তৈরি গল্প, কবিতা, গান উপভোগ করতে পারছে। আবার শহরের তরুণরা গ্রামে উপভোগ্য বিষয়গুলো এই পোর্টাল থেকে জানতে পারছে। মাদকের ভয়াবহতা, কিশোর অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সাইবার বুলিং ও জঙ্গিবাদ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এই পোর্টাল। ছবিসমৃদ্ধ এই বাতায়ন শিশুরাও সহজে ব্যবহার করতে পারছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তরুণদের অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে ‘কানেক্ট’। তার স্বীকৃতিসরূপ ‘ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কার ২০২০’-এর চূড়ান্ত পর্বে মনোনীত হয়েছিল কিশোর বাতায়ন। আইসিটিক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এটি।

শিক্ষকদের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে আধুনিক, সময়সাশ্রয়ী এবং মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ ও যুগোপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এটুআইএর যৌথ উদ্যোগে ২০১৩ সালের ১৬ই মে শিক্ষক বাতায়নের যাত্রা শুরু হয়। ‘শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষক’ স্লোগানে ৯ লক্ষ শিক্ষককে এ বাতায়নে অন্তর্ভুক্তকরণের লক্ষ্যে এই ওয়েবসাইট সাজানো হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য তৈরি ডিজিটাল বিষয়বস্তু বা কনটেন্টভিত্তিক এ ওয়েবসাইটে www.teachers.gov.bd এই লিংকের মাধ্যমে এতে প্রবেশ করা যাবে।

শিক্ষক বাতায়ন প্রশিক্ষণের প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। পূর্বে একজন শিক্ষকের কয়েক বছরে একবার প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার সু্যোগ হতো। কিন্তু এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে যে কোন সময় যে কোন প্রান্তে বসে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন তারা। স্কুল কলেজের সকল বিষয়ের উপর কাস্টমাইজযোগ্য ৯৫৩টি মডেল কন্টেন্ট আছে শিক্ষক বাতায়নে। এই কন্টেন্টগুলোর অফঅলাইন সংস্করন সারাদেশে স্কুল কলেজগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। এতে করে ইন্টারনেট সংযোগবিহীন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশ লাভবান হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক বাতায়নে সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের উন্নতমানের ডিজিটাল কনটেন্ট রয়েছে এই পোর্টালে। এছাড়া রয়েছে শিক্ষকদের শেয়ার করা বিভিন্ন ব্লগ, ভিডিও কন্টেন্ট ও প্রেজেন্টেশন। এ পর্যন্ত ১,৬২,২১৬টি ব্লগ, ২,৩৩,৬৫৭টি প্রেজেন্টেশন এবং ৫৭,০২৯টি ভিডিও কন্টেন্ট এই পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর এই ওয়েবসাইটের খবর-দার অংশে যুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারীরা এ পর্যন্ত ১৮,২১১টি খবর যুক্ত করেছেন এই অংশে।

মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের জন্য শিক্ষকের তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট অনলাইনে আদান-প্রদান, বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট সংরক্ষরণের একটি অনন্য জায়গা এই ওয়েবসাইট। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয় বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এমন ধারণা থেকে এটুআই প্রকল্পের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষক কর্তৃক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি নামে দুটি মডেল তৈরি করা হয়েছে। দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে বর্তমানে ৩৫,০০০ হাজার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪,০০০ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম আছে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকেরাই শিক্ষার্থীদের উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাসে

-৩-

ব্যবহার করছেন। শিক্ষকেরা তাঁদের তৈরি এসব কন্টেন্ট ওয়েবপেইজের কন্টেন্ট ব্লগে রাখেন। কন্টেন্ট ব্যবহারকারীদের অনলাইন মতামতের ভিত্তিতে সপ্তাহে একজন সেরা কনটেন্ট প্রস্তুতকারী, একজন সেরা উদ্ভাবক ও একজন সেরা নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বৈষম্য কমিয়ে নারীর ক্ষমতায়নেও অবদান রাখছে শিক্ষক বাতায়ন। এই পোর্টালের ৪৭.৫ শতাংশ নিবন্ধনকারী নারী শিক্ষক। শিক্ষা ও শিক্ষন উপকরণ সংগ্রহ করতে এখন আর তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি এবং নানা হয়রানির শিকার হয়না। ঘরে বসেই এসব সংগ্রহ করতে পারেন তারা। শিক্ষক বাতায়ন ২০১৫ সালে এর নিজস্ব ই-ম্যাগাজিন ‘বাতায়ন ম্যাগ’ চালু করে। এই ম্যাগাজিনে শিক্ষকরা শিক্ষার আধুনিক ধারা, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, পেশাগত ও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার নিত্য নতুন উপকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং তথ্য আদান প্রদান করে থাকেন।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২ অর্থাৎ সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে অবদান রেখেছে ‘শিক্ষক বাতায়ন’ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৪ অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে । গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষক বাতায়নের নিবন্ধনকারী ৬৩ শতাংশ শিক্ষকের যোগাযোগের দক্ষতার উন্নতি হয়েছে, ৫৮ শতাংশ কন্টেন্ট তৈরির দক্ষতা অর্জন করেছেন, প্রায় ৩৮ শতাংশ নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে পেরেছেন এবং ২৫ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে সহজ সেবাদান দক্ষতা সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। যা নি:সন্দেহে দেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। শিক্ষক ও প্রশিক্ষকরা তাদের চিন্তাভাবনা ও তাদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একে অপরকে সহযোগিতা করে এই বাতায়নে। মোটকথা, এই পোর্টাল সহকর্মীদের সাথে শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট শেয়ারের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের শিক্ষন পদ্ধতির ফাঁক কমিয়ে আনতে সক্ষম। ২০১৫ সালে সম্মানজনক ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পায় ‘শিক্ষক বাতায়ন’।

সরকার গত এক দশকে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সমন্বয় ও ব্যবহারে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারিকালে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ, তখন দেশব্যাপী ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয়তা আমরা বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারছি। তবে উন্নয়নের এই সোনালি সময়ে এসেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় ডিজিটাল সেবা প্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল। এখনো দেশের অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়নি। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর পক্ষে যাবতীয় চাহিদা পূরণ করার পর ইন্টারনেট কিনে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছেনা। এতে করে তারা এই ডিজিটাল সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে আমরা যদি সত্যিই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই তাহলে অবিলম্বে মানবসম্পদের ওপর বিনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষাখাতে বরাদ্দের সম্পূর্ন অংশ যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। বলা হয় ডিজিটাল দুনিয়ায় শেষ সীমা বলে কিছু নেই। তাই ‘কানেক্ট’ ও ‘শিক্ষক বাতায়ন’সহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক পোর্টালকে কীভাবে আরো আকর্ষণীয় ও সহজ করে সাজানো যায় তার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীও যাতে ডিজিটাল সেবার বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে। তবেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বনির্ভর ও আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ।

লেখক: তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, ঢাকা।

 

ছড়িয়ে দিন