ঢাকায় নবনির্বাচিত দুই মেয়রের প্রথম চ্যালেঞ্জ – মশা

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

ঢাকায়  নবনির্বাচিত  দুই মেয়রের প্রথম চ্যালেঞ্জ – মশা

রাজধানী ঢাকায় নব নির্বাচিত দুই মেয়রের প্রথম চ্যালেঞ্জ – মশা। নগর জীবনে শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে আবার বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব । ফিরে আসছে ডেঙ্গুর আতংক ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন,
এডিস মশাবাহিত এ রোগ সারাবছরের সমস্যা হয়ে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে । এ

আগে ডিসেম্বর-জানুয়ারি সময়ে ডেঙ্গু হওয়ার ঘটনা ছিল কম। কিন্তু এবার জানুয়ারি মাসেই নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে । এমনকি ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গতবারের চেয়ে ৫ গুণ বেশি রোগী।

ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই শীতের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে এবার। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশাও বাড়ছে। নগরবাসী বলছে, দিনের বেলা কোনোমতে পার হলেও সন্ধ্যার আগে থেকে শুরু হয় মশার উপদ্রব।

সিটি করপোরেশন মশক নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম চালানোর কথা বললেও বাস্তবে তাদেখা যায় নি বলে নগরবাসি অভিযোগ করে আসছেন ।

ভোগান্তিতে আছেন রাজধানির বিভিন্ন এলাকার মানুষ। খিলক্ষেতের নিউটন সরকার বলেন, বিকেলে কোথাও দাঁড়ালে মাথার ওপর মশা ‘কিলবিল’ করে।

মঙ্গলবার বিকালে বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে তার কথার মাজেজা বোঝা গেল। সড়কের পাশে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সারা শরীরে জেঁকে ধরল মশা। মাথার ওপরেও ভনভন শব্দ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘ডেঙ্গু সার্ভিলেন্স অ্যান্ড প্রেডিকশন প্রোজেক্ট’ এর আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা শাখা। সেজন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে মশার উপস্থিতি দেখা হচ্ছে। এ জরিপ চলবে আগামী দুই বছর।

এই জরিপ জানাচ্ছে, জানুয়ারি মাসেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরীবাগ ও শাহবাগ এলাকায় মশার ব্রুটো ইনডেক্স ছিল সবচেয়ে বেশি- ২৬ দশমিক ৬৭। এছাড়া লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুরে ১০, গুলশান বনানীতে শূন্য, বাসাবো-খিলগাঁওয়ে ১৩ দশমিক ৩৩, শাঁখারীবাজার ও পাটুয়াটুলীতে ১৩ দশমিক ৩৩ ছিল।

ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত গুলশান-বনানী এবং লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুর এ দুটি অঞ্চলের তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, গুলশানে ব্রুটো ইনডেক্স বেড়ে ২০ হয়েছে। লালমাটিয়ায় কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৬৭।

মশার লার্ভার উপস্থিতি হিসাব করা হয় ব্রুটো ইনডেক্সের মাধ্যমে। জরিপে প্রতি একশ প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি এইডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়, তাহলে সেটাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি’ বলা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জানুয়ারিতে মশার এতটা উপস্থিতি ভালো কথা নয়। জানুয়ারিতে ব্রুটো ইনডেক্স পাঁচের নিচে থাকার কথা।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৮ জন। আর এ বছর জানুয়ারিতে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৭ জন। আর ফেব্রুয়ারির প্রথম ১২ দিনে মোট ২২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু এসেছে নানা রেকর্ড নিয়ে। ওই বছর সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআর ২৬৩টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর তার মধ্যে ১৬৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুর কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করে।

ছড়িয়ে দিন