ঢাকা-চট্রগ্রামে চলবে বুলেট ট্রেন

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

ঢাকা-চট্রগ্রামে চলবে বুলেট ট্রেন

রেড টাইমস ডেস্কঃ ঢাকা-চট্রগ্রাম দিয়েই বাংলাদেশে হাইস্পিড (বুলেট) ট্রেন যাত্রা শুরু করবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে মিল রেখেই এই বুলেট ট্রেন চলাচল উপযোগী করতে ইতিমধ্যেই রেলপথ নির্মান প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে আগামী অক্টোবর মাসে। আগামী সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করবে বলে মনে করেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এজন্য অক্টোবরের মধ্যেই এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের সময়ের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এ রুটে হাইস্পিড রেলওয়ে স্থাপনের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারেরই। ঢাকা থেকে কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছাবে এ রেলপথ। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিশদ ডিজাইন ও নির্মাণকাজের জন্য ইতোমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীরা মাত্র ২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছতে পারবেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের তথ্যমতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেইসঙ্গে সময়ের দূরত্বও কমে আসবে। হাইস্পিড ট্রেনে মাত্র ২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত করা যাবে। এ ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিশদ নকশার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশদ আকারে চূড়ান্ত নকশা জমা দেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তবে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এর আগেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি (সরকারের নিজস্ব তহবিল) অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে গত বছর ৮ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের ওপর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সেকশন বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এ করিডরের দৈর্ঘ্য ৩২০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার। বর্তমানে ঢাকা থেকে ট্রেন বৃত্তাকার পথে টঙ্গী-ভৈরববাজার-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। এতে সময়ের প্রয়োজন হয় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। প্রস্তাবিত দ্রুতগতির রেলপথটি যাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মধ্য দিয়ে। এ পথে ঢাকা থেকে কুমিল্লা/লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন লাইন নির্মাণ করা হলে সেকশনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে। একই সঙ্গে যাতায়াতের সময়ও কমবে প্রায় ২ ঘণ্টা। এতে যাত্রীদের সময় বাঁচার পাশাপাশি রেলের পরিচালন ব্যয়ও (অপারেটিং কস্ট) কমবে। একইভাবে কমবে পরিবহন ব্যয়।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের প্রধান প্রধান আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয় এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহন হয়। বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়তে থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের অর্থনৈতিক গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মাতারবাড়ীতে ‘পাওয়ার হাব’ (বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ও সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের গুরুত্ব আরও বাড়াবে। এ করিডরে ভ্রমণ সময় কমিয়ে আনা গেলে তা বিদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দ্রুতগতির রেলওয়ে সার্ভিস চালু হলে এ করিডরে ২ ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে যাতায়াত করা যাবে। এ সার্ভিস ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলরুটকে করে তুলবে আরও বেশি আকর্ষণীয়। ফলে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি, মোহনপুর, ময়নামতি, লাকসাম, ফেনী, চিনকি আস্তানা, সীতাকুণ্ড হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এ রেলওয়ের সম্ভাব্য রুট হতে পারে। সূত্রঃ বাসস

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930