ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে ৫ জন কীর্তিমান সিলেটি শিক্ষার্থীর কথা

প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে ৫ জন কীর্তিমান সিলেটি শিক্ষার্থীর কথা

আনোয়ার চৌধুরী 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে ৫ জন কীর্তিমান সিলেটি শিক্ষার্থীর কথা বলছি। ৷ এই
৫ জনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্যের অধিকারি ছিলেন৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিলেটি ছাত্র বলা যায় সৈয়দ মোস্তফা আলীকে ৷ তিনি ১৯২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে বিএ(অনার্স) পাস করেন৷ তাঁর পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলায় । বাবা খান বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী ছিলেন সাব রেজিস্টার । ১৯২৩ সালে তিনি সাব-ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আসাম সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন৷ আসামের বিভিন্ন জেলায় চাকুরি করার পর ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন৷ সৈয়দ মোস্তফা আলী পাবনা সদর ও গোপালগঞ্জ মহকুমায় এসডিও এবং দিনাজপুর জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছিলেন৷
তিনি একজন সুলেখক ছিলেন৷ তাঁর লেখা আত্মজীবনী “আত্মকথা”সমকালীন বাংলা সাহিত্যে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন ৷
১৯৭৭ সালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন৷ তাঁর সকল সন্তানই উচ্চ শিক্ষিত ৷ তাঁদের মধ্যে প্রখ্যাত সাংবাদিক ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক এস এম আলী স্বনামেই খ্যাত৷ সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ৷ প্রফেসর ফাউজিয়া আলী বদরুন্নেসা কলেজ ও চট্বগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন৷ কনিষ্ঠ পুত্র সৈয়দ রুহুল আমীন বেবী ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ।
২ ৷ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্রী ছিলেন মৌলভীবাজারের মেয়ে লীলা নাগ । তিনি কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ১৯২১ সালে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হন৷ তিনি ১৯২৩ সালে ১ম শ্রেনীতে ২য় স্থান অধিকার করে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন৷ অগ্নিকন্যা লীলা ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ঘনিষ্ট সহচর । বিপ্লবী এই নারী জয়শ্রী নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন ।
তিনি নারী শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভুমিকা পালন করেন৷ ঢাকায় বেশ কয়েকটি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ৷পরবর্তীতে রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করে এমএলএ নির্বাচিত হন ৷ তাঁর বাবা গিরিশ চন্দ্র নাগ ছিলেন আসাম সিভিল সার্ভিসের কৃতিপুরুষ৷
৩ । মৌলভীবাজার জেলার আরেক কৃতি সন্তান আলতাফ হোসেন ১৯২১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন৷ তাঁর বাবা আহাম্মদ উল্লাহ ছিলেন আসাম সিভিল সার্ভিসের কৃতি সদস্য৷ তিনি ১৯২৩ সালে ইংরেজী সাহিত্যে ১ম শ্রেনীতে ১ম হয়ে এমএ পাস করেন ৷
কর্মজীবন শুরু করেন অধ্যাপনা দিয়ে৷ পরে সাংবাদিকতা পেশায় যোগদান করেন৷ দিল্লি থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত ইংরেজী দৈনিক ডন পত্রিকার সম্পাদক হন৷ পত্রিকাটি এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী গণমাধ্যম । পরে তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন৷ আলতাফ হোসেন ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হন৷

৪ ৷ ক্ষিতিশ চন্দ্র চৌধুরী ১৯২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ(অনার্স) ও ১৯২৪ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন ৷ উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ৷
তিনি ইন্ডিয়ান অডিট এন্ড একাউন্ট সার্ভিসে যোগ দিয়ে ডেপুটি কন্ট্রোলার এন্ড একাউন্টেন্ট জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহন করেন ৷
অবসর গ্রহণের পর তিনি শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনায় যোগ দেন ৷ ১৯৫৮-১৯৫৯ সালে বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন ৷
তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিলো হবিগঞ্জ মহকুমার নবীগঞ্জের আগনা গ্রামে৷
৫ ৷ কুমুদরঞ্জন চৌধুরী ১৯২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ(অনার্স) ও ১৯২৫ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন ৷ এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন৷কুমুদরঞ্জন চৌধুরী ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস আইপিএস এ যোগ দেন ৷ আসামর আইজিপি হিসেবে অবসর গ্রহন করেন ৷
তাঁর বাবা গুরুচরণ চৌধুরী ছিলেন আসাম সিভিল সার্ভিসের কৃতি পুরুষ ।
তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিলো সুনামগঞ্জের ছাতক থানার দোহালিয়া গ্রামে৷

আনোয়ার চৌধুরী ঃ অতিরিক্ত সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় 

ছড়িয়ে দিন