ঢাবির হলে ৩ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪

ঢাবির হলে ৩ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে  ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
সদরুল আইনঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।
পাওনা টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বাসা থেকে দুজনকে তুলে নিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিন নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক মোনতাছির হোসাইন, একই হলের উপত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আল শাহরিয়ার মাহমুদ ওরফে তানসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসান সাঈদি।
এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা মোনতাছিরের আত্মীয় মো. শাহাবুদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন মো. আব্দুল জলিল ও হেফাজ উদ্দীন। তারা দুজন বন্ধু বলে জানা গেছে। গত শনিবার রাতে শাহবাগ থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী জলিলের কাছে ৩৫ লাখ টাকা পান মোনতাছিরের আত্মীয় পরিচয় দেওয়া শাহাবুদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি। ব্যবসার জন্য তার থেকে টাকা নেন জলিল এবং ফেরত চাইলে দেননি।
 টাকা ফেরত দিতে দেরি করায় শাহাবুদ্দিন ঢাবির তিন-চারজন শিক্ষার্থীসহ ১০-১২ জনকে নিয়ে জলিল ও হেফাজকে হাতিরঝিলের হাজীপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে অপহরণ করেন।
অপহৃত জলিল ও হেফাজকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৫৪৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে তাদের নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার এসআই আলামিন বলেন, নির্যাতনের আলামত হিসেবে পুলিশ ওই কক্ষ থেকে একটি লোহার রড উদ্ধার করেছে এবং ভুক্তভোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।
নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার এসআই আলামিন বলেন, নির্যাতনের আলামত হিসেবে পুলিশ ওই কক্ষ থেকে একটি লোহার রড উদ্ধার করেছে এবং ভুক্তভোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘শাহাবুদ্দিন আমার কাছে ৩৫ লাখ টাকা পান। কিন্তু মাঝখানে উনার সাথে আমার যোগাযোগ হয় না। তাই ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে আমাকে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টায় বাসা থেকে তারা ১০-১২ জন মিলে তুলে আনেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে হলে আটকে রাখেন।
প্রথমে বিজয় একাত্তর হলে এবং পরে মুহসীন হলে আটকে রাখেন। গত তিন দিন ধরে আমাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথমে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারলাম, মুহসীন হলের পাঁচ তলায় আমাদের কয়েকজন ছাত্রের সহযোগিতায় একজনকে তুলে আনা হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য তাকে মারধরও করা হয়েছে।
 পরে শাহবাগ থানা ও হল প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা ওই দুজনকে উদ্ধার করি। তাদেরকে একত্রিত করে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। এতে সকল ঘটনা বেরিয়ে আসে। আমরা তাদের পুলিশে হস্তান্তর করেছি।
ভুক্তভোগীসহ অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার আগেই একটি জিডি করেছে। তার ভিত্তিতে এখন তা মামলায় যাবে।’
অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিচার হবে। তাদের বিরুদ্ধে থানায়ও অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930