তথ্য : চাহিবামাত্র জানাইতে বাধ্য থাকিব

প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

তথ্য : চাহিবামাত্র জানাইতে বাধ্য থাকিব

রোবায়েত ফেরদৌস

বন্ধুবর কবি সৌমিত্র দেব  রেডটাইমস  বের করছেন। সাহিত্যচর্চা বাদ দিয়ে ইন্টারনেট চর্চা? শুনে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বললাম ভুললাইন ধরলেন কেন? স্বভাবসুলভ রসিকতায় তিনি বললেন, ‘বস্ ভুললাইন না, অনলাইন।’ তা কী থাকবে ওতে? তিনি বললেন, কী থাকবে না? খবর থাকবে, খবরের পেছনের খবর থাকবে। রাজনীতি, অর্থনিিত, সমাজ, অপরাধ, সরকার, নিজরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ব্যবসায়, শেয়ার মার্কেট Ñ সবই নাকি থাকবে। ছবি আর ছিঁটেফোঁটা সাহিত্যও থাকবে। আনন্দ, ফ্যাশন আর বিনোদনও বাদ থাকবে না। এ হবে অনলাইন সংবাদপত্র, হবে অনলাইন সংবাদ সংস্থা। যা-ই থাকুক Ñ আমার ভাষায় তা আসলে তথ্য, যা নিয়ে চলে আমার গবেষণা। প্রকার আর প্রকরণ যাই হোক না কেন, রেডিও টিভি খবরের কাগজ বা অনলাইনে পরিিেববেশিত হোক না কেন তথ্যের থাকা চাই অভিন্ন কিছু গুণাগুণ। বস্তু বটে, কিন্তু পরিবেশিত সব বস্তু তথ্যের গুণে মহিমান্বিত না-ও হয়ে উঠতে পারে। তবে তো প্রশ্ন বেশ লাগসইভাবেই চলে আসে, ‘তথ্য’ তবে কী ? কী এর উপযোগ? তথ্য কেন এ জানতে ও জানাতে হয়? ক্ষমতাবানরা তথ্য কেন আটকে রাখে? এ লেখাই করা যাক তবে এরই বিচার।

‘তথ্য’ হলো তা যা মানুষের ‘এনট্রোপি’ বা ‘অনিশ্চয়তা’ দূর করে; তথ্য প্রাণ  আধুনিক রাষ্ট্রের; তথ্য অক্সিজেন  গণতন্ত্রের; তথ্যহীন থাকা মানে সন্দেহে থাকা; বসবাস অনিশ্চয়তায়;

তথ্য শব্দের উৎসশব্দ ‘তথা’  যার অর্থ ‘যা তা-ই’ বা ‘ যেমনটা তেমনই’; তথ্য শব্দের আরেক অর্থ তাই ‘সত্য’; তথ্য তাই আলোও বটে Ñ সরিয়ে দেয় দোলাচাল, সন্দেহ আর দ্বিধাজাত অন্ধকার। তথ্যের আরেক নাম তাই জ্ঞান; আর জ্ঞানের অপর নাম যে ক্ষমতা, ফুকোর কল্যাণে তা আমরা অনেক আগেই জেনেবুঝে গেছি।

সত্যজিৎ রায়ের সেই যে বিখ্যাত ছবি ‘হীরক রাজার দেশে’, যেখানে বন্ধ করা হচ্ছে পাঠশালা; কেন পাঠশালা বন্ধ? রাজা বলছেন, “ যত জানবে, তত কম মানবে”। কী সাংঘাতিক কথা। তাইতেই তো সে কালের রাজা আর এ কালের সরকার বাহাদুর জনগণকে জানাতে ভয় পায়, পাছে না তারা কম মানে, পাছে না তারা রাজা/সরকারের অবিচার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা ক’য়ে উঠে।

কিন্তু তথ্য চাওয়ার, পাওয়ার ও প্রকাশের বিষয়টি প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিক অধিকার। জানার অধিকার তো মানবাধিকার। তথ্য না জানানো হলে তা হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন; তথ্য গোপন করে রাখা তাই সামাজিক অপরাধ।

অমর্ত্য সেন বলেছেন, রাষ্ট্রে তথ্যের প্রবহ অবাধ হলে, গণতন্ত্রের পূবশর্ত যা, ঠেকানো যায় এমনকি দুর্ভিক্ষও। কেবল তো অমর্ত্য নয়, বিশ্বখ্যাত আরেক অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটস তার নোবেল পুরস্কারটিই পেয়েছেন তথ্যের উপর কাজ করে। ‘অ্যাসিমেট্রিক ইনফরমেশন’ বা ‘তথ্যের অ-সমানতার’ তত্ত্বে তিনি ও তার সহযোগী তাত্ত্বিকরা দেখিয়েছেন, ‘যারা শাসন করে এবং যাদের শাসন করা হয়, এই দুপক্ষের মধ্যে তথ্যের যে অ-সমানতা থাকে, তাই কিন্তু প্রশাসকদের হাতে তুলে দেয় বিশাল ক্ষমতা।’

ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় যেতে-চাওয়ারা তাই সাধারণ মানুষকে কখনই কিছু জানতে দিতে চায় না। মানুষকে অন্ধকারে রেখেই তারা ফুলবাড়ির কয়লার চেয়েও কালো চুক্তি করে এশিয়া এনার্জির সঙ্গে, আদিবাসীদের না জানিয়েই মধূপুরে ইকোপার্কের মাস্টারপ্ল্যান করে; হানা করে, সোফা করে।

মুশকিল তাই হয়ে উঠে তখন, তথ্যের একচ্ছত্র মালিকানা যখন থাকে কেবল সরকার, মন্ত্রী আমলা পুলিশের হাতে; মালিকানার তৈরি করা এই ‘কৃত্রিম সিন্ডিকেঁটি’ ভাঙা দরকার। দরকার মালিকানায় পরিবর্তন আনা। রাষ্ট্রের মালিক কে ? জনগণ। তথ্যের অবাধ মালিকানাও তাহলে জনগণের কাছে ন্যস্ত করতে হবে। তথ্য যাবে কৃষক শ্রমীক জনতার হাতে, তবেই রাষ্ট্রের মালিক যে জনগণ সত্যিকার অর্থে সমাজে তখন এ বোধ তৈরি হবে। একজন কৃষকের উন্নত বীজ বা সারের তথ্য, গ্রেপ্তার করতে এলে তার কারণ ও আইনি ধারা জানার কিংবা নির্যাতিত নারীর আইনি সহায়তা পাওয়ার তথ্য Ñ সবই কিন্তু তথ্য অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাই বিদ্যমান অসম ও অমানবিক ক্ষমতা বিন্যাসকেও অনেকখানি বদলে ফেলা সম্ভব। আর কেবল সরকারি নয় তথ্য পেতে হবে বেসরকারি সংস্থা থেকেও Ñ যাদের কাজের সঙ্গে নাগরিক স্বার্থ ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

আর তথ্য জানানো তো নিছক তথ্য জানানোর জন্য নয় বরং তথ্যের রয়েছে বিরাট এক সামাজিক উপযোগিতা। এর বিজড়ন তাই বিচিত্র ও বহুবিধ। ক্রেতা হিসেবে আমার যেমন অধিকার রয়েছে খাবারের প্যাকেটে খাদ্য উপকরণ, খাদ্যগুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা। রোগী হিসেবে তেমনি রোগের তথ্য জানার এক শ ভাগ অধিকার আমার রয়েছে। যিনি কিনবেন কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব তাকে জানানো যে, তথাকথিত রঙ ফর্সাকারী প্রসাধনীর উপাদান কী, ব্যবহারে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে ইত্যাদি। আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে সরকারগুলো কী শর্তে চুক্তি করে জানাতে হবে তাও। আধুনিক রাষ্ট্রে তথ্য জানা ও তা প্রকাশেরর প্রভাব যে কতো গুরুত্বপূর্ণ তার প্রমাণ মার্কিন মুল্লুকের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিক্সনের পতন।

কাজেই তথ্য জানার গুরুত্ব রাষ্ট্রজীবন, সমাজজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনেও পরিব্যপ্ত। এইডস, আর্সেনিক, বন্যা, সাইক্লোন, সুনামি এসবের আগাম সতর্ক জানানো গেলে বাঁচানো সম্ভব অনেক প্রাণ, কমানো সম্ভব হতাহতের সংখ্যা। তবে তথ্য কেবল সরবারহ করলেই চলবে না, সরবরাহকৃত তথ্যকে সঠিক ও যথার্থ হতে হবে, নইলে সমাজে তা গুজব আর নৈরাজ্যের জন্ম দেবে। খেয়ালে রাখতে হবে ভেকধারী অবান্তর আর নিছক সংখ্যার ভীড়ে যেন জরুরি তথ্যগুলো হারিয়ে না যায়।

সমাজের সবস্তরে যথার্থ তথ্যের প্রকাশ ও তা প্রচারের চর্চা থাকা তাই বাঞ্ছনীয়। বলা হয় এ ধরনের চর্চার মাধ্যমেই সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চেতনা তৈরি হয়; বিকশিত হয় গণতান্ত্রিক জনক্ষমতা। গণতন্ত্র খোলা দেশ। কার্ল পপারের ‘ওপেন সোসাইটি’ বা ‘খোলামুখ সমাজ’।

মানুষের অন্য অধিকার অর্জনের সাফল্য নির্ভর করে তথ্য অধিকার নিশ্চিত হওয়ার ওপর। ধরা যাক নাগরিক অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেয়। এখন জনগণ যদি না-ই জানে যে সংবিধানে কোন কোন নাগরিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, যদি তাদের জানানো না হয়, তাদের যদি জানার সুযোগ না থাকে, তাহলে নাগরিক অধিকার কোথায় কখন কাদের দ্বারা কেমন করে লংঘিত হচ্ছে, মানুষ তা বুঝবে কীভাবে ? এর প্রতিকারই বা চাইবে কীভাবে ? গরিব নিরক্ষর আদিবাসীদের যদি তাদের ভূমি অধিকার সম্পর্কে সচেতন না করা যায়, তাহলে প্রতি পদে পদে তাদের সেই ভূমি অধিকার ক্ষুণœ হতে থাকবে। এই যে বক্তব্য, এর নিহিতার্থ হচ্ছে, তথ্য জানার অধিকার মানুষের অন্য অধিকার প্রয়োগের ভিত।

আবার ধরা যাক দুর্নীতি। আমাদের উন্নয়নের সবথেকে বড় শত্র“। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণার কথা আমরা হামেশাই শুনি। ‘তথ্যের স্বাধীনতা’ কিন্তু, ঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে, সেই যুদ্ধের সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যের প্রবাহ স্বচ্ছ না হলেই তো দুর্নীতি বেড়ে যায়, শক্তির অপপ্রয়োগ ঘটে এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতার জায়গাটি আলগা হয়ে যায়। রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক যে জনগণ জনগণের মাঝে এ বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়; তাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে সত্যিই তারা প্রজাতন্ত্রের মালিক! আজ তাই এধারণা ঠিকভাবেই গড়ে উঠেছে যে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চার জন্য তথ্যকে জনগণের সম্পত্তি হিসেবে ভাবতে হবে। সরকার যদি সত্যিই দুর্নীতি দমনে আন্তরিক হয় তবে তার উচিত হবে ‘সরকারি গোপন তথ্যের’ জুজুভয় থেকে বেরিয়ে আসা। শুধু সরকারি আয়-ব্যয়ই নয় বরং দাতা দেশগুলোর সাহায্য এবং ঋণদাতাদের সঙ্গে সরকারের চুক্তিসহ যাবতীয় বিষয়েও জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা দরকার। তথ্যের প্রাপ্তি হবে এমন, ‘যেখানে সরকার চাহিবামাত্র জনগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাইতে বাধ্য থাকবে’।

তো তথ্য অধিকার কাকে বলবো ? এটা কি কেবল তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ? আমার বিবেচনায় তথ্য অধিকারের ক্যানভাস অনেক বড়। তথ্য অধিকার বিষয়ে আমার যে প্রতীতি তাহলো এটা তথ্য জানা ও জানানো, তথ্য উৎপাদন ও উৎপাদিত তথ্যের বিষয় হওয়ার অধিকার, তথ্য ব্যবহার এবং তথ্যের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার। এর তাত্ত্বিক, নৈতিক, ব্যবহারিক ও আইনি দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা হওয়া দরকার।

বিশ্বের ৬০ টিরও বেশি দেশে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। তবে আমাদের মতো দেশে এ আইন পাশ করাই কেবল যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশসহ তৃতীয় দুনিয়ার অনেক সৎ উদ্যোগই, আমরা খেয়াল করি, প্রস্তুতির অভাবে ব্যর্থ হয়। তাই আইন বড় নয় আইনের প্রয়োগটাই বড়। এ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, আমার বিবেচনায়, তিন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। এক. অবকাঠামোগত সমস্যা দুই. মানসিক/সাংস্কৃতিক সমস্যা তিন. প্রশাসনিক/কাঠামোগত সমস্যা। তাই আইন পাশ হলে তা হবে তথ্য অধিকারের প্রাতিষ্ঠানিক দিকের স্বীকৃতি; কিন্তু মানসিক আর সাংস্কৃতিক যে বাধা তা দূর হতে আরো সময় লাগবে; কেননা এটি বললে নিশ্চয়ই যে অত্যুক্তি হবে না যে তথ্য গোপন রাখা বা কোনো তথ্য রেখে-ঢেকে বলার বিষয়টি এখন বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। ডাইনিং টেবিলে সন্তানের কাছ থেকে মা-বাবা যেমন তথ্য লুকাচ্ছেন, উল্টো দিক থেকে মা-বাবার কাছ থেকে তথ্য লুকাচ্ছেন আপন সন্তান। সর্বত্রই বিকশিত হচ্ছে ক্লাসিফাইড ফিসফাস কালচার। আর এ দেশে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও পদ্ধতি যারপরনাই পুরনো এবং তা বিজ্ঞানসম্মত নয় একেবারেই। তাই তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একটি কার্যকর পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও বেশ সময় লাগবে। তথ্য অধিকার আইনে তাই অতি অবশ্যই তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টিকে যুক্ত করতে হবে। এ এক বৃহৎ কর্মযজ্ঞ; এ উদ্যোগে সরকারের সদিচ্ছা আর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাই খুবই জরুরি।

কিন্তু দুঃখজনক যে ব্রিটিশ পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা পেরিয়ে এলেও প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত তথা উপমহাদেশের কোনো সরকারই তাদের ‘কলোনিয়াল হ্যাঙওভার’ বা ‘ঔপনিবেশিক ঘোর’ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হননি। সরকারগুলো এই সত্য ভুলে যায় যে, দ্রুত পরিবর্তশীল এই বিশ্বগ্রামে তথ্য গোপন করে রাখা বা আটকে রাখার ধারণা নিতান্তই হাস্যকর। তথ্য আটকে রাখা মানে তথ্যের উপযোগিতা নষ্ট করে ফেলা। কারণ বর্তমান বাস্তবতায় আজকের তথ্য কালকেই তার উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে।

এটা আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সরকারের কাজকর্ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হলে গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণ তাদের উপর ন্যস্ত ভূমিকা অধিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে পারে। অন্যদিকে, তথ্য গোপন করা হলে সরকার ও জনগণের মধ্যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, মানুষের কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুণগত বিবেচনার অভাব দেখা দেয়। তবে গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য শহর ও ধনীক অভিমুখী এবং বহুলাংশে পুরুষতান্ত্রিক পক্ষপাতদুষ্ট। কাজেই অবাধে তথ্য জানার অধিকার নিয়ে যখন কথা বলা হবে তখন তথ্যবঞ্চিত ও তথ্যলাঞ্ছিত নারী-পুরুষের কল্যাণে তথ্যের অবাধ প্রবাহকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়টিকেও আমাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। হালে যে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের কথা বলা হয় তার মূলে কিন্তু সরকারি/বেসরকারি তথ্যে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ‘অনিষিদ্ধ প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করা Ñ যেখানে থাকবে না কোনো চাবি-আঁটা পেটিকা। তথ্যের এই অধিকার নিশ্চিত করা দরকার মানুষ হিসেবে মর্যাদাময় জীবনযাপনের জন্য। গণতন্ত্রকে ফুরফুরে সতেজ আর টাটকা রাখার জন্য।

২০০৯ সালে রেডটাইমসের উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এই লেখাটি লিখেছিলেন । প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে তা পুনর্মুদ্রিত হলো । 

Calendar

March 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

http://jugapath.com