তপ্ত বালুর মতো পেতে চাই

প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

তপ্ত বালুর মতো পেতে চাই

কামরুল ইসলাম

আমি তোমাকে তপ্ত বালুর মতো পেতে চাই, ভীষণ সুন্দরে জ্বলতে চাই
উদভ্রান্ত আলো ঝরে পড়বার আগেই চমকে উঠতে চাই, আর ঢেউয়ের মন্থনে পেতে চাই
তোমার সবটুকু গ্রাস হবার জোর নিঃশ্বাসে পেতে চাই, বাসনার মন্ত্রে দুবৃত্ত হতে চাই
তুমি প্রেয়সী প্রেমিক বলেই হরণের উৎসবে পেতে চাই, তন্ত্র সাধনায় অস্তিত্বের উৎসর্গ চাই

এই নদী ঘাট বালুচরের তীর্থে আমার বসবাস, আমি মিশনারী, পাহাড়ি পরিব্রাজক
সভ্যতার শান্তি বপন করি ঘাটে ঘাটে, আর কৃষাণীর আঁচলে রাখি প্রাপ্তির আহলাদ
সহজ ধর্মে দুর্গম যতিচিহ্নে আঘাত হানবার শূন্যস্বরূপে, ইন্দ্রিয় বাসনায় ঘটে নিমজ্জন
পাপ-পুণ্য ঐশ্বর্য আহরণের চিরপ্রথায় কাহ্নের রীতিতে ঘটে প্রবৃত্তির কর্মশীলন

জ্বলন্ত লাভার উদগীরণে বেদ ও শ্রুতির মিলনমেলায় নির্মিত হবে মিলন সৌধ
সেথায় সেনেকা, সক্রেটিস, আলবেরুণী শোনাবে ঐতিহাসিক শৌর্যের দর্শন
আমি অসংগত প্রেমের বিহারে মত্ত হয়ে উঠি, আর তপস্বীরে করি হরণ
আমি আদ্যোপান্ত সন্ধ্যাস্নানে জগতের নিয়ম ধ্বংস করেই, নির্বাণে হই সমাধিস্থ…

মানবের জয়গানে

আকাশে আকাশে সাদা কফিন, বাতাসে বাতাসে শকুনের আর্ত বিলাপ
চড়ুই পড়ে আছে ঘাসের উপর । এতো রক্ত চারদিকে, এতো হিংসা ছোবল
এখানে সেখানে বারুদের গন্ধ, এ কোন জন্মভূমি, কোন বেলাভূমি মোর
নিস্তব্ধ হয়ে আছে বিহবল, বাতাসের নিটোল সুর থমকে গেছে নীল সমুদ্রে।

বৃষ্টির রূপে বিষাদের ছায়া, জোছনা নামেনি রাতে, অভিমান ক্রোধে জ্বলে
তরলতা, ঝোঁপঝাড়ে কোকিলের থেমে গেছে সুর, কাকেরা পালায় শশ্মানে
পতাকার কোন অশুভ চক্র, ছিড়তে চায় সীমানা, ভাঙতে চায় বিশ্বাসভূমি
হলুদ শস্য কনার ঘ্রাণে মাছিরা ওড়ে, অবিন্যস্ত মেঘমালায় বিকট চিৎকার।

বাদলের ধারায় জ্বলে ওঠে রোদ, বিশ্বাস জ্বলে আগুনে, দ্রোহের সীমানায় আগুন
ধর্ম-অধর্ম মানিনে, জেগে ওঠো মানবতা-মানবভূমি, রোদের পরশে মর্ত্যের মানুষ
সবখানে সত্যরে করো শঙ্কাহীন, ধর্মের নামে বলিদানরে , ধ্বংস করো কুয়াশায়
মানবের প্রেমে এসো সবে, টস্ টসে ভোর খেলা করে, বিশ্ব মানবের জয়গানে।

আমিই কালের নটরাজ

আমি কুরুক্ষেত্রের সেই পাণ্ডব, গদাহস্তে ভীম
কালের তাপস যুধিষ্ঠির,অগ্নিমন্ত্রে অর্জুন
কৃষ্ণ আমার সারথি, যুদ্ধশাস্ত্রে মহাবীর কর্ণ
কালের অগ্নিবাণে নিক্ষিপ্ত–বোধিবৃক্ষের তলে
আশ্রয় নিলাম হাজার বছর
স্বরস্বতীর জলধি তরঙ্গে আমি উতাল

জলধারার প্রপাতে স্নাত আমি
ঝড়ের নিত্য মিতার্বতে, উঁকি দেই পর্বতে
স্রষ্টা সৃষ্টির মিলন মেলায় নীলসাগরে
কুন্তীর অবেলার কাব্যকথনে
দ্রোপদীর প্রেমগাথায়, রাধার বিরহে
ইদিপাসের আতর্নাদে

শেক্সপীয়রের মৃতপুরীর প্রেমে, আনার দীঘর্শ্বাসে
ওকাম্পোর ভালবাসায় ঋষি রবীন্দ্রনাথে
দ্রোহের বীণায় নজরুলে- – তবুও নির্বাক আমি
ভূমির উপর আঘাত , ধমের্ধর্মে ঘাত প্রতিঘাত
গণতন্ত্র বিন্যস্ত পেট্রোলে, আহাজারি
সেই কিশোরী দগ্ধ ! কার কোপানলে?

আমি তো সেই
গান্ধীজির অহিংসায়, ঠাকুরের সৌন্দর্যে
দ্রোহ প্রেমের মিলনে
সহস্রকালের অপরূপায়, স্নিগ্ধ কায়ায়
মহাঋষি, যোগী দ্রোহী ধ্যানস্ত মহামানবে
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছায়ায়

আমি মহাকালের নটরাজ
ভূমি থেকে উত্থিত অগ্নিবাণ, দ্রোহি শুদ্র চণ্ডাল
আফ্রিকার লুমুম্বা স্পার্টাকাস, রাশার লেনিন
আমিই শৌর্যসাধক, বীরত্ব আমার নাম
কালের মহিমায়, মহানিনাদের নৈপুণ্যে
প্রেম ও শক্তির প্রদীপ জ্বালাই |