মানুষ অনলাইনের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৮

মানুষ অনলাইনের দিকেই  ঝুঁকে পড়েছে

 

আফরোজা অদিতি

তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে যারা একটু কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে তারাই অনলাইনে লেখালেখি করতে চেষ্টা করে। অনলাইনে প্রবীণদের চেয়ে নবীন বা তরুণদেরই হাঁটাহাঁটি বেশি। যার জানার আগ্রহ আছে তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে চোখের পলক ফেলতেই তার হাতের মুঠোতে এসে পড়ে অনেক অজানা তথ্য; মনের ঘর জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হয়। সে আলো প্রতিফলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। ডিজিটালের এই যুগে এক নিমেষে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। অন্য দেশ অন্য দেশের মানুষ তাদের সমাজ-সংস্কার, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়; জানানো যায় নিজের দেশের সমাজ সংস্কৃতিসহ নিজের কর্মকাণ্ড। তাই মানুষ অনলাইনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বেশি বেশি। বর্তমানের ফেসবুক হলো যোগাযোগের অন্যতম প্রচার মাধ্যম। ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা থেকে শুরু করে জীবনের খুঁটিনাটি সব-ই পোস্ট করা যায়। শুধু ফেসবুক নয় তথ্যপ্রযুক্তিকে সুন্দরভাবে ব্যবহার করে অনেক সুবিধা পেতে পারে মানুষ। এখানে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়, সাহায্যের আবেদন করা যায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়। আবার এখানে লেখালেখি করে লেখক হয়ে ওঠা যায়। মানুষ এখন বিশেষ করে তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তিতেই আগ্রহী। অফলাইন (প্রথম আলো, ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠসহ আরও অনেক) পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ আছে, অনলাইন পত্রিকা আছে, আছে ই-বুক। যারা পড়তে আগ্রহী অথচ বাইরে বের হতে অপারগ তারা ঘরে বসেই পড়তে পারেন পত্রিকা, বই।

এই লেখালেখির অনেক মাধ্যমের মধ্যে অনলাইন লেখক .কম একটি অন্যতম মাধ্যম। যাদের কাছে লেখাই ধর্ম লেখাই কর্ম, লেখাই ঘর-বসতি, আত্মার আত্মীয় তারাই এখানে লেখালেখি করতে পারে। লেখার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক না থাকলে সাহিত্য (গল্প,কবিতা,প্রবন্ধ বা অন্যান্য গদ্য) কখনও ধরা দেয় না। অনলাইনলেখক-এ যারাই লিখেন বা লিখবেন তারা খুবই যত্নের সঙ্গে লিখেন। এটি লেখার প্রচার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লেখক হয়ে ওঠার একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম। লেখক স্রষ্টা, সৃষ্টির একটি আনন্দ আছে যেটি একটি লেখা শেষ হলে লেখক অনুভব করতে পারে। এই অনুভব, এই আনন্দ ধরে রাখতে হলে লেখাটি খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এটি হলো একটি লেখার মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন। নিজেকে সবসময় সবার কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করাটাই লক্ষ্য হবে যেমন বাবা-মায়ের লক্ষ্য থাকে তাদের সন্তানকে সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে; সন্তানের সুন্দর উপস্থাপনে যে সাফল্য আসে তাতে বাবা-মায়ের আনন্দ হয় অপরিসীম তেমনি একটি লেখা যদি ভালো হয়, মানুষের মনে দাগ কেটে রয়ে যায় কালের খাতায় তাহলে সৃষ্টির আনন্দ হবে অপরিসীম, আর এই আনন্দ হবে শুধুই লেখকের।

একটি প্ল্যাটফর্ম পাওয়া গেছে বলেই যেন-তেন প্রকারে তাকে ব্যবহার করার মনোবৃত্তি ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভাষাকে (বাংলা-ভাষা) শুদ্ধরূপে উপস্থাপন করার অঙ্গীকার করতে হবে। অনলাইন লেখক.কম-এ বেশি বেশি লেখা, শুদ্ধভাবে লেখার প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে আসতে হবে, একথা বলার কারণ হলো এখানে একটি লেখা পোস্ট করা হয় নিজ দায়িত্বে। অফলাইন বা মলাটবদ্ধ কাগুজে বইয়ের মতো অন্যকে দিয়ে সম্পাদনা করার পরিসর থাকে কম; এজন্য নিজেকেই নিজের লেখা সম্পাদনা করে তারপর পোস্ট করতে হয়। একটি লেখার ‘লাইক’ বড় কথা নয় এটি কেউ পড়ছে কিনা সেটিই বড় কথা। কারণ বন্ধুরা ‘লাইক’ দেয়, দিবেই। অগ্রজ একজন কবি বলেছিলেন, ‘কোন লেককের যদি অবনতি চান তাহলে তার প্রশংসা করবেন বেশি বেশি তাহলে তার লেখা কখনও ভালো হবে না।’ উনি কালেভদ্রে কোন লেখার প্রশংসা করতেন। এক্ষেত্রে আমার দ্বিমত আছে; আমি মনে করি কারও যদি সত্যিকারের ভালো চাই অর্থাৎ তার লেখার উন্নতি চাই তাহলে তার লেখার ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোটুকুরও প্রশংসা করা প্রয়োজন। একজন সম্ভাবনাময় লেখককে একটু প্রশংসা করলে সে আস্তে আস্তে ভালো একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে।