তারা সহজ সুন্দর জীবন যাপন করতে চায়

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৮

তারা সহজ সুন্দর জীবন যাপন করতে চায়

রোকসানা লেইস

সে দিন হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। পথের মোড়ে কিছু কিশোর তরুণ দাঁড়িয়ে কথা বলছিল।তাদের কাছাকাছি হওয়া আগে ভালো করে পরখ করে নিলাম ওরা কতটা নিরাপদ। শুধুই নিজেদের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত নাকি ওরা অন্য কোন উদ্দেশ্যে জটলা করছে।
এত্ত বছর কে কোথায় কি করছে কোন দিকে না তাকিয়ে নিজের মনে চলেছি। অসাধারন এক নিরাপত্তায় স্বস্তিতে দিন যাপন করেছি। মাঝ রাতে কখনো সাবওয়ে ধরে চলে গেছি শহরের অন্য প্রান্তে। শুধু বেহিসাবি ঘুরতে ইচ্ছে করেছে বলে। মাঝ রাতের ট্রেন, বাসে অধিক সংখ্যাক নারীদের দেখেছি। কাজ শেষে, ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছে, ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরেছে অনেকে সিটে বসে নিশ্চিত ভাবে।
অথচ এখন তেমন নিরাপদ মনে হয় না। শুক্রবার সন্ধ্যায় টিন এইজদের ছোটাছুটি আগের মতন চোখে পরছে না। শপিং মল, রেস্তোরা জমজমাট করে রাখা মানুষদের আড্ডা কমে যাচ্ছে। প্রয়োজনের বাইরে, বাইরে বেরুতে, আড্ডা দিতে অভ্যস্ত সামাজিকতা থমকে যায়। দ্বিধানিত হয়। ভাবে দু বার, নিরাপদ তো। প্রায় প্রায় শহর জুড়ে সতর্কতার খবর জানানো হয় জনগণকে। নিরাপত্তার জন্য ঘরে থাকার অনুরোধ করা হয়। জরুরী অবস্থা নয় কিন্তু জরুরী সতর্কতার জন্য, যে যেখানে ছিল কাজ শেষে যত দ্রুত ঘরে ফেরার চেষ্টা করে। তারুন্য, যৌবনের উচ্ছাস চাপা পড়ে যায়, বাতিল হয়ে যায় আনন্দ উৎসব।
আতংকের আভাষ পরে চারপাশে। দিনদিন আতংক বাড়ছে বৈ কমছে না। ফ্রান্স থেকে, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, এ্যমেরিকার অনেক শহর শান্ত হয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা নাগাদ। পাহাড়া টহল, শ্যান দৃষ্টি নিয়ে ঘুরছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট গুলোয় ট্রিগারে আঙ্গুল রেখে পাহারা রত আর্মি। তাদের পাশ দিয়ে পার হতেও ভয় লাগে। আবার তাদের জন্যই নিরাপদ বোধ করি। অদ্ভুত ভাবে আমরা এখন অনিরাপদ এক দুনিয়ায় ঢুকে পরছি।
রাস্তায় চলতে বা ঘরে বসে থেকেও নিরাপদ নয়।অস্বাভাবিক মানসিকতার মানুষের গাড়ি বা চাকু বা বুলেট কখন কাকে কোথায় আক্রমন করে বসে বলা যায় না।
বাংলাদেশে মানুষ ঘরে অফিসে বা রাস্তায় নিরাপদ নয়। ভারতে মানুষ নিরাপদ নয়। মালিতে হোটেলে নিরাপদ নয়। আকাশে যাত্রীরা নিরাপদ নয়। উপসনালয়, বা আনন্দ ভ্রমণ যে কোনখানে যাবার আগে সতর্কতা, নিরাপত্তার কথা ভাবতে হচ্ছে মানুষকে। নিজেদের পরিকল্পনা বাতিল করে চলতে হচ্ছে পরিস্থিতির সাথে। স্বাভাবিক প্রবাহ জীবন যাত্রার নানা ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পৃথিবী জুড়ে বিশাল মানুষের চলমান জোয়ার স্থবির হয়ে যাচ্ছে। কিছু মানুষের সংকীর্ণ মনভাবের ভয়াবহ আক্রমণের ভয়ে যে কোন জায়গায় আতংকিত মানুষ। যারা আক্রান্ত হচ্ছে তারা সাধারণ জীবন যাপন করে। তারা মুক্ত চিন্তা করে। তারা সহজ সুন্দর জীবন যাপন করতে চায়।