তারেকের কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে ঃ আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

তারেকের  কারণে  নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে ঃ আওয়ামী লীগ

দণ্ডিত পলাতক আসামি তারেক রহমানের অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়েছিলেন তিনি ।

জানা গেছে , লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রোববার দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন মুদ্রা পাচার ও দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত তারেক।

এরপর বিকালে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল তারেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

অভিযোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, আজকে আপনারা দেখেছেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে কথা বলছেন স্কাইপ বা টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ব্যাপারে হাই কোর্টের নির্দেশনা আছে। সুপ্রিম কোর্টের দু’মাস আগের একটি নির্দেশনা আছে, তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য কোনো জায়গায় প্রচার করা যাবে না। সুতরাং এটি আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আদালত অবমামনার সামিল।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন এটাও বলেছে যে, গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন সাপেক্ষে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। সুতরাং এ সম্পূর্ণ বিষয় নির্বাচন এবং দেশের প্রচলিত সর্বোচ্চ আদালতের আইন লঙ্ঘন এবং এটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “তিনি এ মুহূর্তে পলাতক এবং দণ্ডিত ব্যক্তি। একজন পলাতক ও দণ্ডিত ব্যক্তি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন না। যেহেতু উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে, তাকে ঘিরে কোনো ধরনের লাইভ স্ট্রিমিং, ব্রডকাস্টিং, কনফারেন্স ইত্যাদি দেখানো যাবে না তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

“তিনি কোর্টের অর্ডার ভঙ্গ করছেন, দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধিও লঙ্ঘন করছেন। বিএনপি যে কাজটি করছে সেটা অবৈধই নয়, অনৈতিকও বটে।”

আদালতের নির্দেশনা মেনে তারেকের খবর প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান নওফেল।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আইনজীবীদের সমাবেশও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে দাবি করেন ফারুক খান।

তিনি বলেন, “সেখানে এমন কিছু কথা বলেছে, যা তারা সেখানে বলতে পারেন না। এটি নির্বাচন পূর্ববর্তী যে আইন সে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন বলেছে, এ ব্যাপারে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার, সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।