তালিকা তৈরি করতে ৬০ পয়সাও খরচ হয়নি: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

তালিকা তৈরি করতে ৬০ পয়সাও খরচ হয়নি: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

রাজাকারের তালিকা তৈরি করতে ৬০ পয়সাও খরচ হয়নি বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বৃহস্পতিবার সকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা তৈরি করতে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার দিনভর এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শুনেছি কারও কাছে, কেউ বলছেন– রাজাকারের তালিকা করতে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ৬০ কোটি টাকা তো নয়-ই, ৬০ পয়সাও খরচ হয়নি।

৬০ কোটি টাকা খরচের কথা যারা বলছেন, তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, যারা বলছেন– তাদের প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ দিতে না পারলে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, না হয় তাদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করা হবে। ৬০ কোটির জায়গায় ৬০ পয়সাও খরচ হয়নি।

এ সময় পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সময় নিয়ে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে নানাভাবে সহায়তা করেছে, সেসব রাজাকার আলবদর ও আলশামসের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজয় দিবসের আগের দিন ১৫ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিন্তু এ তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামও ঢুকে পড়েছে, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকাটি রাজাকারদের নয় বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এটি কোনো রাজাকারের তালিকা নয়; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা দেয়া হয়নি; দালাল আইনে অভিযুক্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে। নোট দেয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সবার নাম প্রকাশ করায় এর পুরো দায় ওই মন্ত্রণালয়ের।

এদিকে তুমুল সমালোচনার মধ্যে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা বুধবার স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরবর্তী তালিকা ২৬ মার্চ প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর