তুরস্কে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২১

তুরস্কে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী

আঙ্কারা ২৬ মার্চ ২০২১ঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারা-তে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদ্যাপিত হয়। ২৬ মার্চ ২০২১ সকালে রাষ্ট্রদূত মস্য়ূদ মান্নান এনডিসি দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে দূতাবাসের বিজয়-৭১ মিলয়নায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে কুরআন থেকে তিলওয়াত ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।আলোচনা সভার শুরুতেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। তুরস্কের এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টরড. সেলজুক সোলাকওলু “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক তাঁর আলোচনায় ‘বঙ্গবন্ধ’ু ও ‘বাংলাদেশ’-কে অবিচ্ছেদ্য বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূতমস্য়ূদ মান্নান এনডিসি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রেক্ষাপট বর্ণনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অসামান্য নেতৃত্ব গুণ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অতুলনীয় অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এরপরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার এর গান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং সমকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের অনুভূতির উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
একই দিনেসন্ধ্যায় আঙ্কারাস্থ জে ডব্লিউ মেরিওট হোটেলেমহান স্বাধীনতা ও জাতীয়দিবসউপলক্ষেএকটিসংবর্ধনাঅনুষ্ঠানেরআয়োজনকরা হয়। উক্ত সংবর্ধনাঅনুষ্ঠানেপ্রধানঅতিথি হিসেবেতুরস্কেরসমাজসেবা, শ্রম ও পরিবারবিষয়কমন্ত্রী জেহ্রাজমরুদ সেলজুকউপস্থিত ছিলেন। এছাড়াওতুরস্কেরপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহঅন্যান্য মন্ত্রণালয়েরঊর্ধ্বতনকর্মকর্তাবৃন্দ, সামরিকবিভাগেরকর্মকর্তা, বিভিন্ন দূতাবাসেররাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরেরসদস্যবৃন্দ, ব্যবসায়ীপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকমিডিয়ারসদস্যগণএবংউল্লেখযোগ্যসংখ্যকপ্রবাসীবাংলাদেশীঅতিথি উক্ত সংবর্ধনাঅনুষ্ঠানেঅংশগ্রহণকরেন।
উক্ত অনুষ্ঠানেরাষ্ট্রদূত তাঁরসূচনা বক্তব্যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুররহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিগভীরশ্রদ্ধাজ্ঞাপণকরেনএবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যাকন্যাপ্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার দুরদূর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেসাম্প্রতিকউন্নয়নেরচিত্রও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেবাংলাদেশেরবর্তমানঅগ্রসরতারবিভিন্নদিকতুলেধরেন। এছাড়া, তিনিতুরস্কের সাথে বাংলাদেশেরদ্বিপাক্ষিকসম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেসম্পর্কোন্নয়নেব্যাপক সম্ভাবনারয়েছেবলেমন্তব্য করেন। প্রধানঅতিথি জেহ্রাজমরুদ সেলজুকতাঁর বক্তব্যে আমাদেরমহান স্বাধীনতা ও জাতীয়দিবসেতুরস্ক সরকার ও জনগনেরপক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশেরজনগণকেআন্তরিকশুভেচ্ছাজানান। সেই সাথে বাংলাদেশ ও তুরস্কেরমধ্যে দ্বি-পাক্ষিকসম্পর্কোন্নয়নেতারসরকারেরবিভিন্ন পদক্ষেপতুলেধরেন। তিনিআরওবলেন, তার দেশ ও সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুরশান্তিপূর্ণ সমাধানপ্রত্যাশাকরেএবং রোহিঙ্গাদের দ্রুতপ্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়াইআন্তর্জাতিক অঙ্গণেঅতীতেরমতোআগামীদিনেওতুরস্কেরসহায়তাঅব্যাহত থাকবেবলেআশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানেরপ্রধানঅতিথির বক্তব্যের পরেবাংলাদেশের স্বাধীনতারসুবর্ণ জয়ন্তীউপলক্ষেবিশেষভাবে তৈরী কেক কাটা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে, রাষ্ট্রদূতমস্য়ূদ মান্নান এনডিসি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়তাদানকারী ভারতের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল হরিকৃষ্ণ সিং-এর পুত্র আঙ্কারাস্থ ভারতীয় দূতাবাসে কর্মরত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কর্ণেল ঝচঝ জধধিঃ-এর কাছে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। এর পরপরই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ দূতাবাসকে নিয়মিত সহায়তার জন্য তুরস্কের এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. সেলজুক সোলাকওল-কেও সম্মাননা প্রদান করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালীন বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রার উপর ৩টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিন করা হয়। দূতাবাস হোটেলের ছবি গ্যালারীতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা শীর্ষক একটি আলোক চিত্র-প্রদর্শনীর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধশালী বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুরস্কে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সঙ্গীত অনুষ্ঠানে দেশত্বাবোধক, মুক্তিযুদ্ধ ও হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে লোকজসঙ্গীত পরিবেশনা করা হয়। যা উক্ত অনুষ্ঠানটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলে।বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’রসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানের শেষে আমন্ত্রিতদের উপহার দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ -২৬ মার্চ, ২০২০ আঙ্করাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনির্মিত কমপ্লেক্সকে প্রথমবারের মত আলোক সজ্জিত করা হয়।