ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২০

ত্রাণ বিতরণে  অনিয়ম ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরখাস্ত হয়েছেন ।

রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের এক চিঠিতে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মীর্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবসারকে বরখাস্ত করা হয় ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এর বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়। ঘরবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার যে ত্রাণ দিচ্ছে, তাতে বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম ঘটছে বলে অভিযোগ আসছে।

এই অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্যে হাটহাজারীর ইউপি চেয়ারম্যান আবসার বরখাস্ত হলেন।

চেয়ারম্যান নুরুল আবসার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “করোরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(৪)(খ,ঘ) অনুযায়ী উক্ত চেয়ারম্যানকে স্বীয় পদ থেকে অপসারণের সুপারিশ করেছেন।”

ইউপি চেয়ারম্যান আবসারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তার কারণ দর্শানোর নোটিসও তাকে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে তার জবাব দিতে হবে।

চেয়ারম্যান নুরুল আবসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ এনে স্থানীয় আটজন ওয়ার্ড সদস্য গত ৪ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

এছাড়া গত ৬ এপ্রিল মীর্জাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারকে ত্রাণ দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে ছবি তোলার পর ত্রাণ কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, আট ওয়ার্ড সদস্য তার বিরুদ্ধে দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাব এবং অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন তিনি।

ত্রাণের জন্য ডেকে নিয়ে ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ত্রাণের জন্য ডেকে নিয়ে লোকজনকে চেয়ারম্যানের লোকজন ধাওয়া করেছে বলে আমার কাছে কয়েকজন অভিযোগ করেছিলেন। তবে ত্রাণ কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি।

ছড়িয়ে দিন