দক্ষিণ সুরমায় ভূমি দখলের চেষ্টার হামলায় মামলা

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৭

দক্ষিণ সুরমায় ভূমি দখলের চেষ্টার হামলায় মামলা

দক্ষিণ সুরমায় সেলিম আহমদের পিতৃভূমি দখলের চেষ্টায় হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। গত ৪ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার লালাবাজারস্থ সেলিম আহমদের কলোনীতে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে সেলিম আহমদ সহ কলোনীর ভাড়াটিয়াগণ গুরুতর আহত হয় এবং প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।
এ ব্যাপারে ভূমির মালিক মতছির আলীর পুত্র সেলিম আহমদ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৫। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ৪০/৫০ বছর পূর্বে মামলার প্রধান আসামী হাবিবুর রহমানের পিতা মৃত আব্দুল লতিফের কাছ থেকে মামলার বাদী সেলিম আহমদের পিতার মতছির আলী এ ভূমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে ক্রয়কৃত ভূমিতে সেলিম আহমদ পাকা দেওয়াল বিশিষ্ট টিনসেড ঘর তৈরী করে কলোনী হিসেবে ভাড়া দিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি হাবিবুর রহমান এ কলোনীতে তাঁর ৩ শতক জায়গা রয়েছে বলে দাবী করেন। এ নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী মামলাও চলছে।
কিন্তু তারপরেও আইনের তোয়াক্কা না করে বিবাদীরা গায়ের জোরে এ কলোনী দখল করতে বিভিন্ন পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ কলোনী দখল করতে গত ৪ অক্টোবর বুধবার মামলার প্রধান আসামী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আতাউর রহমান, শরীফ মিয়া, মনির মিয়া, মকন আলী সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে কলোনীতে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাড়াটিয়ার উপর হামলা করে। সন্ত্রাসীরা কলোনীর ভাড়াটিয়াদের বেদরক মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং কলোনীর রুম গুলো ভেঙ্গে চুরে চুরমার করে দেয়। এতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা ভাড়াটি বেদানা বেগমের রুম থেকে ৫ হাজার টাকা, রাফিয়া বেগমের রুম থেকে ৩০ হাজার ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার, অনুফা বেগমের রুম থেকে ২০ হাজার, মুন্নার রুম থেকে ১৫ হাজার, আবিদ আলীর রুম থেকে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে সেলিম আহমদ এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তার মাথা উদ্দেশ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে মাটিতে ফেলে দা, বটি ও তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে বেদরক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে সন্ত্রাসীরা সেলিম আহমদকে মৃত ভেবে মাটিতে ফেলে পালিয়ে পায়। আশপাশের লোকজনের সাহার্য্যার্থে তাকে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী সেলিম আহমদ জানান, রোববার (৮ অক্টোবর) মামলার আসামী আতাউর রহমান, শরীফ মিয়া, মনির মিয়া, মকন মিয়া জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এরপর থেকে আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি-দমকি দিয়ে আসছে। সেলিম আহমদ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলে জানান। মামলার প্রধান আসামী হাবিুবর রহমান এখনও পলাতক রয়েছে।
এব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার সত্যতা স্বীকার করেন।

ছড়িয়ে দিন