দলীয় প্রার্থী হতে সিলেট -৩ আসনে মনোনয়ন কিনলেন চাচা-ভাতিজা

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৮

দলীয় প্রার্থী হতে সিলেট -৩ আসনে মনোনয়ন কিনলেন চাচা-ভাতিজা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে মনোনয়ন কিনলেন চাচা-ভাতিজা ।

সিলেট-৩ দক্ষিণ সূরমা- ফেছুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত

আসনে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে দুুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শফি আহমদ চৌধুরী। এবারও একাদশ নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রাথী হতে চাচ্ছেন শফি। অপরদিকে বিএনপিপন্থী সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ডা: নিয়াজ। সেই হিসেবে উভয়ের মনোনয়ন নিশ্চিত হলে এই আসনে চাচা ভাতিজার লড়াই হবে ।

এই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অনেকের নাম শুনা যাচ্ছে । এরই মধ্যে হঠাৎ করে নতুন মুখ হিসাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করে নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়েছেন ডা. নিয়াজ। তার পক্ষে গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজবীর কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ডিইউজের সদস্য ও শত নাগরিক সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার।

এদিকে এই আসনে দলিয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. নিয়াজ। আশির দশক পরবর্তী সময়ে তার বর্ণাঢ্য ছাত্র রাজনীতিতে যথেষ্ট অবদান রয়েছে ।

ডা. নিয়াজ জিয়া পরিবারের অত্যান্ত বিশ্বস্ত লোক হিসাবে পরিচিত। দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি  (বিএসএম) মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সুনামধন্য অধ্যপক। নিয়াজ আহমদ চৌধুরী সিলেটের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন ।  বিগত তত্বাবধায়ক  সরকারের প্রধান, সাবেক বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি শাহবুদ্দিন আহমদের কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে ডা.নিয়াজের বাবা ইমাম আহমদ চৌধুরী সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন সুনামধন্য উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একজন সুমানধন্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আরেক চাচা বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক সফল আইজিপি ছিলেন ই.এ.চৌধুরী।  ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় তার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ও সু-পরিচিতি রয়েছে।

বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামাত জোটের প্রার্থী হিসাবে এই আসনে নির্বাচিত হন তার ছোট চাচা শফি আহমেদ চৌধূরী। বর্তমানে শফি চৌধুরী বিভিন্ন সমস্যার কারণে দলীয় রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্কিয় হয়ে আছেন। বিশেষ করে এলাকার নেতাকর্মীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রম ও বিগত  দিনের সরকার বিরোধী আন্দলনে তার কোন উপস্থিতি নেই। সেই হিসাবে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা শফি চৌধুরীর উপর ক্ষুব্ধ। তাই এই আসনের বিএনপি ও তৃণমূল নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনগণ এই আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে পরিবর্তন হিসাবে নতুন প্রার্থীর দাবী জানাচ্ছেন। সেই লক্ষে এই আসনে নামটি উঠে আসেন ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরীর।

এদিকে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসাবে জোড়ালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি বর্তমান জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম.এ. কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের ভোটার ও দলের কয়েকজন শীর্ষনেতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন এই আসনে দুই জন প্রার্থীর গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। তারা হচ্ছেন এম.এ. কাইয়ুম চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। তাদের মধ্যে যে প্রার্থীর কাছ থেকে এলাকার সব সমস্যা নিয়ে হাজির হতে পারবে এলাকার জনগন তাকেই দলমত নির্বিশেষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা হবে। এছাড়া যিনি উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড যেমন- রাস্তা-ঘাট, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন করবেন এমন নেতাকেই এমপি হিসাবে নির্বাচিত করবে এলাকার জনগন।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে জানা যায় ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী প্রবাসে থেকেও স্থানীয় পর্যায়ের দলের নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ জনগনের বিভিন্ন সমস্যায় সর্বক্ষণ এগিয়ে এসেছেন। সেই হিসাবে এলাকার জনগনের সাথে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এই দুই উপজেলার জনগনের দৈনন্দিন যে কোন সমস্যা সমাধানে তিনি  এগিয়ে এসেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী সম্পর্কে বলেন তৃণমূল রাজনীতি ও পদ পদবীর প্রতি লোভ লালশা না থাকার সুবাদে সকল স্তরের মানুষের কাছে একজন স্বজ্জন মানুষ হিসাবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাই এই আসনে নতুন মুখ হিসাবে নানা শ্রেণীর ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি ডা. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930