দুদককে নখদন্তহীন করে রাখলে চলবে না : সুরঞ্জিত

প্রকাশিত: ২:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৬

দুদককে নখদন্তহীন করে রাখলে চলবে না : সুরঞ্জিত

এসবিএন ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনকে নখদন্তহীন করে না রেখে এই প্রতিষ্ঠানকে আরো ‘শক্তিশালী’ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি।

শুক্রবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘সব দিক দিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে আর দুর্নীতিতে পিছিয়ে পড়বে এটা হয় না। দুদককে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এর জনবল আরো বাড়াতে হবে।’

বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক ‘দুর্নীতির ধারণাসূচকে’ (সিপিআই) বাংলাদেশের অবস্থান প্রকাশের দু’দিন পর সুরঞ্জিত সেন এ মন্তব্য করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, তাদের সূচকে ২০১৫ সালে স্কোর আগের বছরের সমান হলেও ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের’ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের এক ধাপ অবনমন ঘটেছে। এবার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ আছে ১৩ নম্বরে।

ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘কোনো (দুর্নীতি দমনে) ইমপ্রুভমেন্ট হয়নি বলেই আমার ধারণা। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি কথাও বলতে চাই না। দুর্নীতির ব্যাপারটাতে আমরা টাচই করতে পারি নাই।’

সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত মনে করছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে চলতে দিলে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।

‘দুদক কারো বিরুদ্ধে কিছু বললে বলা হয়, একে ধরতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে, তাকে ধরতে হলে ওর অনুমতি নিতে হবে- এমন হলে চলবে না। এমন আইন করতে হবে, যাতে দুদক স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারে। দুদককে নখদন্তহীন করে রাখলে চলবে না।’

সুরঞ্জিত বলেন, ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে হবে। নেত্রী দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন; আর বলছেন সততাই আমার শক্তি সততাই আমার সাহস। তিনি সততা করে যাবেন আর আমরা দুর্নীতি করে দেশকে এক নম্বরে নিয়ে আসব এটা হবে না।’

সাবেক এই মন্ত্রীকে অবশ্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়েও মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজকে স্মরণ ও চলমান রাজনীতি নিয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বিএনপির রাজনীতিরও সমালোচনা করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, বিএনপি ‘সংবিধানের বিধান’ বাদ দিয়ে ‘সং’ নিয়ে চলছে।

‘বিএনপি নেতাদের মুখে সংবিধান নিয়ে কোনো মন্তব্য মানায় না। কারণ সংবিধান ধ্বংস করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। তবে মার্শাল ল’ নিয়ে তারা কোনো অভিমত দিলে সেটা ঠিক আছে। তাদের কাছ থেকে সংবিধান নিয়ে পরামর্শ নেওয়া বা কথা শোনা বাতুলতা,’ যোগ করেন তিনি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন।

অন্যদের মধ্যে প্রয়াত এমএ আজিজের ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার ওমর বিন আব্দুল আজিজ, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক নুরুল আমিন রুহুল, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধু একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি বক্তব্য দেন।